অফ পেজ অপটিমাইজেশন : সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাংকিং বৃদ্ধি করার পদক্ষেপসমূহ

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন নিয়ে এর মধ্যে বেশ কিছু আলোচনা করেছি। বলেছিলাম যে, বিষয়টাকে দু’টি ভাগে ভাগ করা যায়। অন-পেজ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এবং অফ পেজ অপটিমাইজেশন। অন-পেজ অপটিমাইজেশন (On-Page SEO) নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে লিখেছি। আজকে কথা বলব অফ পেজ অপটিমাইজেশন করে সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাংকিং বৃদ্ধি করার পদক্ষেপসমূহ নিয়ে।

আপনি কিওয়ার্ড রিসার্চের কাজ শেষ করে থাকলে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের প্রথম পর্যায়টি সম্পন্ন করলেন। এরপর অন-পেজ এবং অফ-পেজ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শুরু করার পালা।

অফ-পেজ অপটিমাইজেশন (Off-Page SEO), অন-পেজ অপটিমাইজেশনের সমান গুরুত্বপূর্ণ। সত্যি বলতে কি, গুগলে আপনার সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজের প্রথম পাতায় উপস্থিতি বৃদ্ধি করার জন্য বা সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাংকিং বৃদ্ধি করার প্রয়োজনে অফ-পেজ অপটিমাইজেশন অনেক ক্ষেত্রেই আরও বেশী কার্যকর ও গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন ওয়েবমাস্টারদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সার্চ রেজাল্টে আপনার ওয়েবসাইটের উপস্থিতির ষাট ভাগই অফ-পেজ অপটিমাইজেশনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।

এমনকি, অনেকক্ষেত্রে এরকম প্রমাণও পাওয়া যায় যে, অন-পেজ অপটিমাইজেশনের কৌশলগুলো প্রয়োগ না করেও, শুধুমাত্র অফ-পেজ অপটিমাইজেশন ঠিকভাবে করেই গুগলে ভাল ফলাফল করা যায়। তবে, এই কথার অন্যরকম অর্থ না করাই ভালো। অন-পেজ অপটিমাইজেশন ব্যাতীত আপনার ওয়েবসাইটের এস-ই-ও করা খুব জটিল ব্যাপার হতে পারে। সুতরাং কোনভাবেই ঐ অংশটি বাদ দিবেন না।

জেনে নিন-

অফ পেজ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশান (off-page SEO) কি?

সহজ ভাষায় অফ-পেজ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনকে বলা যায়, আপনার সাইটের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার প্রধান কৌশলগুলোর অন্যতম। একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের কতগুলো লিংক কি ধরণের অন্য ওয়েবসাইটে শেয়ার করা হচ্ছে, তা থেকেই এই কর্তৃত্বের বিষয়টি নির্ধারিত হয়।

অফ পেজ অপটিমাইজেশনকে এভাবেও ভাবতে পারেন- সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্টে আপনার অবস্থান উন্নত করার জন্য বা র‌্যাংকিং বৃদ্ধি করার জন্য ওয়েবমাস্টার তার ওয়েবসাইটের বাইরে ইন্টারনেটে যে কাজগুলি করেন সেগুলোই অফ পেজ অপটিমাইজেশন।

অর্থাৎ, সার্চ-রেজাল্টের রেজাল্ট পেজে ওয়েবসাইটের র‌্যাংকিং (Website Ranking) বৃদ্ধি করার জন্য একজন ওয়েবমাষ্টার প্রত্যক্ষ ভাবে যা কিছু নিজের ওয়েবসাইটে ‘না’ করে বরং অন্যের ওয়েবসাইট বা ব্লগে অথবা বিভিন্ন মাধ্যমে করার প্রচেষ্ঠা চালায় সে সমস্ত প্রচেষ্টাকে অফ-পেজ অপটিমাইজেশন বলা হয়ে থাকে।

অফ পেজ অপটিমাইজেশন এর সবচেয়ে ভালো অংশটি হচ্ছে, এখানে কৌশলের সংখ্যা হাতে গোনা। এবং প্রতিটি কৌশলের কার্যকারিতাই প্রমাণিত। আপনি আজ থেকেই সেগুলোর প্রয়োগ শুরু করতে পারেন। অতিদ্রুতই ফলাফল লক্ষ্য করবেন সার্চ রেজাল্টে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিনে ভাল র‌্যাংক (Rank) করতে পারবে আপনার ওয়েবসাইট।

গুগলে যারা এক নম্বরে অবস্থান করতে চান, তাদের জন্য অফ পেজ অপটিমাইজেশন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের অন্যতম গুরূত্বপূর্ণ ধাপ। এই লক্ষ্যটি অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর এবং দ্রুততম উপায় হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইট অবধি মানুষকে নিয়ে আসতে সক্ষম, এমন সব মানসম্পন্ন লিংক তৈরী করা। মানসম্পন্ন লিংক বলতে এমন সাইটের সাথে লিংক বিল্ডিং করা, যেই সাইটের এই গুণগুলো রয়েছে-

  • গুগলের কাছে যে সাইটের গ্রহণযোগ্যতা আপনার সাইটের সমান বা বেশী।
  • আপনার ওয়েবসাইটের সম প্রকৃতির কন্টেন্ট রয়েছে যে সাইটে।
  • যে সাইটে কন্টেন্ট সম্পর্কিত মেটা-ট্যাগ ব্যবহার করা হয়।
  • লিংকগুলো বিবিধ ও বিচিত্র প্রকার উৎস থেকে এসেছে।
  • এমন সাইট যেগুলি বহুদিন ধরেই ইন্টারনেটে বিদ্যমান। অর্থাৎ, জেষ্ঠ্যতার বিচারে যে ওয়েবসাইটগুলো অগ্রসর।
  • যে ওয়েবসাইটের লিংক অন্যসব প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইটগুলো শেয়ার করে।

অফ পেজ অপটিমাইজেশন এর প্রধান বিষয়গুলো

আপনার সাইটের বিষয়ভিত্তিক বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে তুলুন

আপনার সাইটটি যে বিষয় সম্পর্কিত, সেই বিষয়টিতে সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে হবে। এই বিষয়টির গুরূত্ব বরাবরই ছিল। তবে, ২০১৮ সালে সাইটের বিষয়ভিত্তিক বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা বিশেষ গুরূত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ঐ বছরের আগস্টে চালু করা হয়েছিল “মেডিক আপডেট”।

এরপর থেকে গুগলে র‌্যাংকিংয়ের উন্নতির জন্য, স্বাস্থ্য ও অর্থ বিষয়ক ওয়েবসাইটগুলোর বিষয়ভিত্তিক বিশ্বাসযোগ্যতা থাকাটি আবশ্যক। বর্তমানে স্বাস্থ্য ও অর্থ এই দুটো “নিশ”-এর জন্য এটি প্রযোজ্য হলেও, পরবর্তীতে অন্য নিশগুলোও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

মূলকথা হচ্ছে, একটি ওয়েবসাইট যদি তথ্যের মাধ্যমে (বা তার পণ্যের মাধ্যমে) সাধারণ দর্শকের স্বাস্থ্য বা আর্থিক অবস্থার কোনপ্রকার ক্ষতিসাধন করতে পারে; এমন কোন আশংকার সৃষ্টি হয়, তবে গুগল তার পেজকে র‌্যাংকিং প্রদানের পূর্বে সাইটটিকে অনেক বেশী বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

“নিশ” এর সাপেক্ষে ওয়েবসাইটটির কর্তৃত্ব ও বৈধতা প্রতিষ্ঠা করুন

ধরুন আপনি পুষ্টি বিষয়ক একটি সাইট পরিচালনা করেন। মানুষকে পুষ্টি ও খাদ্য বিষয়ে পরমার্শ দিয়ে থাকেন। এই পরামর্শ দেয়ার আইন সম্মত বা বৈধ অধিকার কি আপনার আছে? অন্য প্রতিষ্ঠিত খাদ্য ও পুষ্টির সাইটগুলো কি আপনাকে তাদের সমমানসম্পন্ন হিসেবে স্বীকার করবেন?

গুগল এই জিনিসটি পর্যবেক্ষণ করে থাকে। একই নিশের অন্য প্রতিষ্ঠিত সাইটগুলো (এবং ঐ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হিসেবে সমাজে পরিচিত ব্যাক্তিগণ) আপনার সাইট নিয়ে কি বলছেন সেটি নোট করবে গুগল। এক অর্থে বলা যায়, আপনার সাইট বিষয়ে আপনার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে অন্য ওয়েবসাইটের ভোটের মাধ্যমে। এখানে, ভোট বলতে অন্য প্রতিষ্ঠিত সাইটরা আপনার লিংক ব্যবহার করছে, উল্লেখ করছে, এই ঘটনাটিকেই বোঝানো হচ্ছে।

উচ্চ মানসম্পন্ন লিংক, প্রাসঙ্গিক লিংক এবং প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইটের লিংকগুলোর ওপর গুরূত্ব প্রদান করা এখন অতীতের চেয়েও অনেক বেশী গুরূত্বপূর্ণ। অজস্র অগুরুত্বপূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইট আপনার লিংক শেয়ার করলে তেমন লাভ নেই। এই কৌশল আজকের দিনে কাজ করে না। প্রতিষ্ঠিত গুটিকতক ওয়েবসাইটের সমর্থন অর্জন করলেই আপনার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে।

সংখ্যা এখানে মুখ্য ব্যাপার নয়। মানসম্পন্ন হওয়াটাই মূল ব্যাপার।

যদি সততা ও পরিশ্রমের সাথে কাজ করেন, দ্রুততম সময়ের মাঝেই আপনার সাইটের নির্ভরযোগ্যতা এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে।

পড়ুন- ব্যাকলিংক তৈরি করার উপায়।

ক্লিক থ্রু রেট বা সিটিআর (CTR)

ওয়েবমাস্টারদের একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ থাকে ক্লিক-থ্রু-রেটের (CTR) ওপর। ধরুন, কোন একটি সার্চ টার্মের জন্য পাঁচ নম্বর অবস্থানে রয়েছে একটি ওয়েবপেজ। সার্চকারীরাও সম্ভবতঃ গুগলের এই তালিকা প্রণয়নটি পছন্দ করেছেন। কারণ দেখা গেল, ঐ টার্মটির মোট সার্চকারীর পনের শতাংশ গুগলের প্রথন পাতায় উক্ত ওয়েবসাইটের লিংকটিতে ক্লিক করছেন।

সাধারণতঃ, পাঁচ নম্বর অবস্থানে থাকা একটি ওয়েবপেজ পাঁচ শতাংশের মত ক্লিক পেতে পারে। গুগল যখন দেখে, প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশী মানুষ লিংকে ক্লিক করছেন তখন সেই পেজটির র্যাঙ্ককে তারা বুস্ট করবে। কারণ বোঝাই যাচ্ছে, সার্চকারীগণ যা খুঁজছে সেটি এই সাইটেই রয়েছে। সুতরাং, প্রথম পাতাতেও তার অবস্থান এগিয়ে থাকাই যৌক্তিক।

এবার উল্টোটা ভাবুন। কল্পনা করুন একজন ‘স্প্যামার’কে। স্প্যামার গুগলের একটি ” অফিশিয়াল ” শব্দ। ছলনা ও ধূর্ততার মারফত ওয়েবসাইটের র‌্যাংকিং বাড়াতে চাচ্ছেন এমন ওয়েবসাইট মালিকদের স্প্যামার বলে ডাকে গুগল। ধরুন, কোন এক ভাবে একজন স্প্যামার গুগলের এলগরিদমকে ধোঁকা দিতে সক্ষম হলেন। হয়তো কোন একটি “লুপহোল” বা ফাঁকির সুযোগ খুঁজে পেলেন তিনি সেখানে। ফলাফলে, কোন একটি সার্চ টার্মের জন্য গুগলে এক নম্বর র‌্যাংকে আসতে পারল তার সাইট।

এখানে, মনে রাখবেন, এক নম্বর পজিশানে একটি লিংক সাধারণতঃ ঐ সার্চ টার্মের সাপেক্ষে একত্রিশ শতাংশ ক্লিক পেয়ে থাকে। কিন্তু, এই স্প্যামিং সাইটটি ধরুন, মাত্র পনের শতাংশ ক্লিক পাচ্ছে। কারণ, সার্চকারীগণ লিংকের শিরোনাম বা তার ডেসক্রিপশান (বর্ণণা) কোনটিতেই তেমন আকর্ষণীয় না কাজের কিছু খুঁজে পাননি।

তার ওপর দেখা গেল, নিরানব্বই শতাংশ মানুষ যারা সেই সাইটে ভিজিট করেন, তিরিশ সেকেন্ড বা তারও কম সময়ের ভেতরে তারা বাউন্স করে গুগলে ফিরে আসেন। কারণ স্প্যামিং ওয়েবসাইটটি আসলে সম্পূর্ণই একটি অনর্থক আবর্জনাপূর্ণ ওয়েবসাইট।

গুগল এবার পরিষ্কার বুঝতে পারবে, এক নম্বর র্যাঙ্কিঙে থাকা ওয়েবপেজটি সার্চকারীদের মাঝে জনপ্রিয় নয়। সুতরাং, গুগল সেই পেজের অবস্থান নামিয়ে দিতে শুরু করবে। র‌্যাংকিংয়ে পেজটি নামতে নামতে একসময় শীর্ষ দশের বাইরে চলে যাবে। এভাবে পেজটির পতন ও অবনতি অব্যাহত থাকবে।

আজকের দিনে, খারাপ কন্টেন্টের পক্ষে গুগলের শীর্ষে অবস্থান নেয়াটা খুবই বিরল ব্যাপার। যদি কোন পেজ এমনটা করেও ফেলে, সেক্ষেত্রেও খুব বেশী সময় সেখানে অবস্থান করা সম্ভব হবে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া

অফ পেজ অপটিমাইজেশন : SEO এর জন্য Social Media Traffic এর গুরুত্ব
Image by Gerd Altmann from Pixabay

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আপনার সাইটের প্রতি কিরকম প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে সেটিকে খুব গুরূত্ব সহকারে বিবেচনা করে গুগল। যেমন টুইটারের টুইট, ফেসবুকের শেয়ার, পিন্টারেস্টের পিন ইত্যাদি। গুগল র্যাঙ্কিঙে এই বিষয়গুলো যে অসম্ভব প্রয়োজনীয় তা নিয়ে নিঃসন্দেহ থাকতে পারেন। তবে প্রয়োজনীয় হলেও প্রধানতম নয়। অর্থাৎ, সমস্ত মনযোগ শুধু এদিকে দিলেই হবে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আপনাকে যে প্রতিক্রিয়াই প্রদান করুক, সেটির স্থায়িত্ব অল্প। এটিই “সোশ্যাল বায”এর বা সামাজিক মাধ্যমে কোন বিষয় নিয়ে সৃষ্ট হওয়া গুঞ্জনের চরিত্র। তার আয়ু হয় অত্যান্ত কম।

উদাহরণ দিয়ে বোঝাই। একটি নতুন কন্টেন্ট ধরুন ভাইরাল হয়ে গেল। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন চ্যানেলে সেটিকে হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করল। এই ঘটনাটি খুব কম সময়ের মাঝে ঘটে থাকে। গুগল বিষয়টিকে খেয়াল করবে। সে বুঝতে পারবে, এই কন্টেন্ট এমন কিছু যাকে ভিজিটররা দেখতে চান। যে কারণে, গুগল সেটির র্যাঙ্ককে এগিয়ে দেবে। অর্থাৎ, র্যাঙ্কিঙ বুস্ট করবে।

সামাজিক গণমাধ্যমের আগ্রহ কখনই এক জিনিসের প্রতি বেশীক্ষণ থাকে না। অবধারিত ভাবেই ভাইরাল কন্টেন্ট ঘিরে উৎসাহ উদ্দীপনায় ভাটা পড়বে। কন্টেন্টটিকে আগের চেয়ে কম শেয়ার করতে শুরু করবে মানুষ। ফলে গুগলও তখন ঐ পেজের র্যাঙ্কিং কমিয়ে দিবে।

সামাজিক গণমাধ্যমে শেয়ারিং একটি চমৎকার ব্যাপার। এবং জরুরী বিষয়ও বটে। তথাপি সামাজিক গণমাধ্যম ঘটিত ব্যাকলিংক আপনাকে বড় এবং দীর্ঘমেয়াদি র্যাঙ্ক বুস্ট প্রদান করবে এমনটি ভাববেন না। কারণ সেটি সম্ভব নয়।

বিভিন্ন ব্যাকলিংক

সাইটের নির্ভরযোগ্যতা এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে একটু আগে কি বলেছিলাম আবারও স্মরণ করুন। যখন “ওয়েবপেজ ক” ” ওয়েবপেজ খ”র সাথে অন্য কোন ওয়েবসাইটে লিংকের মাধ্যমে যুক্ত হয়, সে মূহুর্তে “ওয়েবপেজ খ” একটি ব্যাকলিংক অর্জন করে। গুগল বিষয়টিকে দেখে এভাবে- ‘পেজ ক’, ‘পেজ খ’কে একটি ভোট প্রদান করল। সাধারণ ধারণাটি হচ্ছে একটি ওয়েবপেজ যত বেশী ব্যাকলিংক বা ভোট পায়, সেই পেজটিও নিশ্চই ইন্টারনেটে ততই জরুরী এবং মূল্যবান।

আজ, এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যতেও, গুগলের এলগরিদামের কাছে র্যাঙ্ক প্রদানের সময়, অন্যতম গুরূত্বপূর্ণ বিবেচ্য হবে ” ব্যাকলিংক”। তবে একটি কথা ভুলবেন না – সংখ্যাধিক্য এবং মানসম্পন্নতা এক বিষয় নয়।

উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক। মনে করুন, একটি ওয়েবপেজের লিংক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত সাইট যেমন – সিএনএন, বিবিসি, নিউ ইয়র্ক টাইমস – এরা উল্লেখ করছে বিভিন্ন জায়গায়। এরকম একটি ওয়েবপেজ স্পষ্টতঃই একটি গুরূত্বপূর্ণ ওয়েবপেজ। কারণ, যাই বলুন না কেন, এরকম প্রতিষ্ঠিত সাইটগুলো নিশ্চই ফালতু আজেবাজে সাইটের লিংক ব্যবহার করবে না তাদের লেখায়।

আবার ভাবুন, একটি ওয়েবপেজের হাজার হাজার ব্যাকলিংক আছে। কিন্তু শুধুমাত্র স্প্যামি বা অতি কম মানসম্পন্ন ওয়েবসাইট থেকে এই ব্যাকলিংকগুলো পেয়েছে তারা। এই ওয়েবসাইটটি কিন্তু তার অজস্র ব্যাকলিংক সত্ত্বেও সেরকম গুরূত্বপূর্ণ নয়। একটি পেজের মূল্যমানের অত্যান্ত শক্তিশালী নির্দেশক ব্যাকলিংক। কিন্তু সেই ব্যাকলিংকগুলোর মান এবং প্রাসঙ্গিকতাই সবচেয়ে জরুরী বিষয়, পরিমাণ নয়।

উচ্চ মান সম্পন্ন লিংকগুলো আপনার সাইটকে প্রতিষ্ঠা প্রদান করে, সাইটের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করে। কিন্তু কম মান সম্পন্ন লিংকগুলোর প্রভাবটি বিপরীত। হাজার হাজার কম মানসম্পন্ন ব্যাকলিংক আছে এমন একটি সাইট নিজেই গুগলের কাছে নিজেকে একজন স্প্যামার হিসেবে চিনিয়ে দিচ্ছে।

প্রতিটি ব্যাকলিংকের যোগ্যতাকে বিবেচনা করে দেখে গুগল। উচ্চ মানসম্পন্ন, পুরাতন ও প্রতিষ্ঠিত ওয়েবপেজের ব্যাকলিংককে ভুইফোঁড় মানহীন ওয়েবসাইটের ব্যাকলিংকের তুলনায় অনেক বেশী গুরূত্ব দিয়ে গণ্য করবে গুগল। সুতরাং, মানসম্পন্ন গুটিকতক ব্যাকলিংকই গুগলে র্যাঙ্ক করার জন্য যথেষ্ট। মানহীন অসংখ্য ব্যাকলিংকের আপনার প্রয়োজন নেই। এবং ঐ কাজটি না করাই ভাল। কারণ তাতে, হিতে বিপরীত হতে পারে। অতিরিক্ত আজেবাজে ব্যাকলিংকের কারণে আপনার সাইটকে হয়তো খারাপ ধোঁকাবাজ সাইট হিসেবে চিহ্নিত করে রাখবে গুগল।

অফ-পেজ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশান আলোচনার এখানেই সমাপ্তি টানছি। অন-পেজ অপটিমাইজেশানের আলোচনা সংহার কালে যেমনটি বলেছিলাম, আবারও সেই কথাটি বলি – সততা ও শ্রমের মাধ্যমে উন্নতি করার চেষ্টা করুন। ধূর্ততা, ফাঁকিবাজি, ছলনা এসবের আশ্রয় কখনই নেবেন না। সকল অনলাইন উদ্যোক্তার জন্য শুভকামনা।

লিখেছেন : সালেহ মুহাম্মাদ

সম্পাদকের বাছাই –

Leave a Comment