অ্যামাজনের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্য

অ্যামাজন এফবিএ (Amazon FBA) বা অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, যেভাবেই ব্যবসা করুন না কেন; অ্যামাজনের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে রাখা ভালো। বিশেষ করে যারা নতুন ব্যবসায়ী এবং এখনও পণ্যের বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারেনননি, তারা অ্যামাজনে কোন পণ্যগুলি বেশি বিক্রি হয় এটা জানার পরই হয়তো ব্যাবসায়িক লক্ষ্য নির্ধারণে অগ্রসর হতে পারবেন।

অ্যামাজনে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্য সমূহ কি কি?

জনপ্রিয় ইকমার্স সাইট অ্যামাজনের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্য কি কি, সেটি নানানভাবে হিসেব করা হয়। সর্বোচ্চ বিক্রিত ক্যাটেগরী, সবচেয়ে বেশি প্রফিট মার্জিন বা পুঁজির ওপর সবচেয়ে বেশি লাভ থাকে এমন পণ্য, সবচেয়ে বেশি রিভিউ হয় যেসব পণ্যের – এরকম বিভিন্ন ভাবে অ্যামাজনের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্য -এর হিসেব করা যায়। তবে সমস্ত আলোচনাগুলোকে সার সংক্ষেপ করে আমরা দেখতে পেলাম যে, মোটামুটি ছয় ধরণের পণ্যই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে অ্যামাজনে। এবং এগুলো থেকেই ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি লাভ করছেন।

আমাদের পাঠকদের জন্য নীচে অ্যামাজনের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল

১। বই

অ্যামাজনের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্য বা অ্যামাজনের লাভজনক পণ্যগুলোর মাঝে বই অন্যতম। আসলে অ্যামাজনের শুরুটাই তো হয়েছিল বই দিয়ে। অ্যামাজনের প্রবর্তক জেফ বেযোস অনলাইনে বই বিক্রি করতে শুরু করেছিলেন। অনলাইনে বই বিক্রির একটি অত্যাধুনিক মডেল গড়ে তোলেন তিনি। পরবর্তীতেও তাই, অ্যামজনে সর্বাধিক বিক্রিত পণ্যগুলোর মাঝে বই নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে নেয়।

এখানে বই বলতে কাগজের বই-এর কথা বলা হচ্ছে, ডিজিটাল ইবুক নয়। অনেকেই ভাবতে পারেন মানুষ কি আজও পড়ে কাগজের বই? কারণ এখন তো ইবুকও পাওয়া যায়। অতি সহজেই কিন্ডেল বা আইপ্যাডে নামিয়ে নিয়ে পড়া যায় সেসব বই। তা বটে। কিন্তু এখনও দুনিয়া জুড়ে অজস্র পাঠক বা ক্রেতা রয়েছেন, যারা একটি ডিজিটাল ইবুকের চেয়ে কাগজের বইকেই বেশি গ্রহণ করবেন। আর একারণেই কাগজের বইয়ের আজকের দিনেও একটি বিশাল বাজার রয়েছে।

অ্যামাজনের সবচেয়ে লাভজনক পণ্যের মাঝে বই থাকার কারণ হল এই পণ্যের প্রফিট মার্জিন যথেষ্ট বেশি। আপনি মাত্র এক ডলার পাইকারী দরে বই কিনতে পারেন। কিন্তু অ্যামাজনে বা অন্য যেকোন দোকানে বই-এর কিরকম দাম তা তো দেখাই যায় (অনেক বেশি, বই অনলাইনে একটি দামি পণ্য)।

এটাই বই এর ব্যবসার কৌতুলোদ্দীপক বিষয়। অন্য পণ্যের মত নয় বই। আপনি যে দামে একটা বই কিনবেন পাইকারীতে (কয়েক সেন্ট মাত্র), চাইলে সেটির চেয়ে শতকরা এক হাজার ভাগ বেশি দামেও বইটি বিক্রি করা যায়। যেমনটা অন্য আর কোন পণ্যের বেলায় সাধারণতঃ দেখা যায় না।

অ্যামাজনের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্য বই-এর আরেকটি সুবিধা হচ্ছে, এটি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায় এবং পরিবহনকালে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম (কাঁচের জিনিসের মত ভেঙে যায় না, বা পচনশীল পণ্যের মত পঁচে যায় না)। তাছাড়া বই যেহেতু অন্যান্য পণ্য যেমন কাপড়, কসমেটিকস, ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতির চেয়ে ভিন্ন, সে কারণে এই পণ্য ক্রেতা ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন এমনটা কমই হয়।

অ্যামাজনে বই বিক্রি করা আপনার উপার্জনের একমাত্র পথ হতে পারবে না। কারণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত পাবলিশিং হাউজগুলোর সাথে ব্যবসা করে পেরে ওঠা মুশকিল আছে। তবে এই পণ্যটি আপনার ইনকামের একটি স্থির ও কম ঝুঁকিপূর্ণ উৎস অবশ্যই হতে পারবে।

আরও পড়ুন –

২। ব্যায়ামের পোশাক

অ্যামাজনের লাভজনক পণ্যগুলোর মাঝে ব্যায়ামের পোশাক অন্যতম। বর্তমান সময়ে জিমে যাওয়া, ওয়ার্ক-আউট করা একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া শিক্ষা ও বিজ্ঞানের বিস্তারের কারণে শারীরিক পরিশ্রমের সুফলকে আরও বেশি করে উপলব্ধি করছে মানুষ। সুতরাং প্রতিদিনই ব্যায়ামে আগ্রহী এবং ব্যায়াম বা ওয়ার্কআউটকে লাইফস্টাইলের অংশ হিসেবে নেয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তার সাথে বাড়ছে ব্যায়ামের পোশাকের চাহিদা।

ব্যায়ামের পোশাক সাধারণ কাপড়ের বাজার থেকে ভিন্ন। এমনি কাপড় কেনার সময় ফ্যাশন, সৌন্দর্য্য; এই বিষয়গুলো প্রধান ভাবে বিবেচনা করে মানুষ। ব্যায়ামের পোশাকের মূল কথা হচ্ছে কার্যকারিতা ও স্বাচ্ছন্দ্য। মানুষ চায় তারা যেন এই পোশাকে আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে তাদের ওয়ার্ক-আউট করতে পারেন, এবং তাদেরকে যেন ভালোও দেখায়। কারণ অনেক মানুষই এই ওয়ার্ক-আউটের ছবি দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এসব কারণে ভাল ব্যায়ামের পোশাকের চাহিদা প্রতিদিনই বাড়ছে।

এই পণ্য নিয়ে ব্যবসা করার সমস্যা একটাই। এধরণের পোশাক ভাল বানাতে পারেন এমন প্রস্তুতকারক পাওয়াটাই মুশকিল। কম মানসম্পন্ন ওয়ার্কআউট ক্লথস পরে আরাম নেই; অথচ এই পোশাকের মূল বিষয়টিই হচ্ছে স্বাচ্ছন্দ্য। যে ব্যায়ামের পোশাক আপনি বিক্রি করবেন অ্যামাজনে, সেটির বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ সমন্ধে সম্পূর্ণ রূপে জানতে হবে। কিছু কাপড় আছে ব্যায়ামজনিত ঘামকে শোষণ করে নেয়, আবার কিছু কাপড়ের বৈশিষ্ট্যই হল তারা জল নিরোধী। তাছাড়া বিভিন্ন কাজকর্ম (ব্যায়ামের ধরণ) এবং ঋতুর জন্য আপনাকে বিভিন্ন ধরণের ওয়ার্কআউটের পোশাক বেছে নিতে হবে।

৩। ইলেকট্রনিক পণ্য ও সরঞ্জাম

অ্যামাজনের সবচেয়ে বেশী বিক্রী হওয়া পণ্য
Image by Please Don’t sell My Artwork AS IS from Pixabay

অ্যামাজনের লাভজনক পণ্য বা অ্যামাজনের সর্বাধিক বিক্রিত পণ্য – দু’দিক থেকেই ইলেকট্রনিক পণ্য ও সরঞ্জাম গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। অ্যামাজন এফবিএ’র ব্যবসায়ীদের জন্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রি করা একটু সমস্যাজনক হতে পারে পারে অবশ্য। কারণ মানুষ সাধারণতঃ তাদের ইলেকট্রনিক পণ্যগুলো বিভিন্ন সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সুপরিচিত ব্র্যান্ড থেকে কিনে থাকেন। তার বদলে আপনি যেটা করতে পারেন যে, ইলেকট্রনিক একসেসোরিজ বা মূল বৈদ্যুতিক পণ্যগুলোর সাথে যেসব জিনিস প্রয়োজন হয় সেগুলি বিক্রি করলেন।

বিভিন্ন ইলেকট্রনিক একসেসোরিজগুলিও অ্যামাজনের লাভজনক পণ্যের মাঝে বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এরকম পণ্যের মধ্যে রয়েছে : ফোনের কেস, ল্যাপটপের স্লিভ, ল্যাপটপের ব্যাগ, ফোনের পাউচ, পাওয়ার ব্যাংক, মেমোরি কার্ড, স্ক্রীণ প্রটেক্টার ইত্যাদি। এসব পণ্যের প্রস্তুতকারকের সন্ধান পাওয়া কঠিন কিছু নয়।

প্রতি মাসেই কিছু না কিছু নতুন ইলেকট্রনিক পণ্য বাজারে আসে। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে মানুষ এসব পণ্যের জন্য একসেসোরিজ কিনবেনই।

আবার, নিত্যনতুন ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারে আসাটাই এই পণ্য নিয়ে ব্যবসা করার প্রধান সমস্যা। নতুন পণ্যে বাজারে আসা নিশ্চয়ই ইতিবাচক বিষয়। বিক্রেতার বিক্রি করার মত আরো পণ্য পাচ্ছেন। কিন্তু সেই সাথে এটাও মনে রাখতে হবে যে, কোন ইলেকট্রনিক পণ্যই যদি বাজারে বেশি দিন থাকতে না পারে, তাহলে ঐ পণ্যের সাথে সম্পর্কিত একসেসোরিজগুলোও আপনাকে দ্রুত বিক্রি করে ফেলতে হবে।

ধরা যাক, আপনি একটি নির্দিষ্ট মডেলের ফোনের কেস পাইকারী দরে বিপুল পরিমাণে কিনলেন। কিন্তু পরের মাসেই নতুন মডেল চলে আসায় ঐ ফোনের চাহিদা কমে গেল। তখন আপনি কিনে রাখা এই পণ্য নিয়ে একটি বিপদে পড়ে যাবেন। সুতরাং, ইলেকট্রনিক সম্পর্কিত পণ্য নিয়ে ব্যবসার সময় একসাথে খুব বেশি পরিমাণে পণ্য কিনবেন না।

৪। বেবী আইটেমস বা নবজাতক ও ছোট শিশুদের পণ্য

অ্যামাজনের লাভজনক পন্যগুলির মাঝে একদমই ছোট শিশুদের পণ্য বা বেবী আইটেমগুলো অন্যতম। বেবী আইটেমের চাহিদা সবসময়ই থাকবে। কারণ পৃথিবী যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, মানুষ সেখানে বসবাসযোগ্য অবস্থায় সন্তানাদি চাইবে; এটাই স্বাভাবিক। আর নবজাতক বা একদমই কম বয়সী শিশুদের অনেক ধরণের জিনিসের প্রয়োজন হয়।

সত্যি বলতে, প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়েও একটি শিশুর জন্য অনেক বেশী জিনিসপত্র কিনতে হয়। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ একই জুতা, জামা দশ বছরও ব্যবহার করতে পারেন। শিশুদের বেলায় এটি প্রযোজ্য নয়। কারণ শিশুরা প্রতিদিনই বড় হয়, যে কারণে প্রতিনিয়তই তাদের জন্য নতুন জিনিস কিনতে হয়।

শিশুপণ্য বিক্রয়ের একটি সুবিধা হল, এগুলি সাধারণতঃ ছোট ও কম ওজনের পণ্য। তাছাড়া পাইকারীতে এসব পণ্যের মূল্য বেশী নয়। যে কারণে পণ্য প্রতি আপনি ভাল পরিমাণ লাভ করতে পারবেন। তবে, বেবী ফুড বা খাবারের জিনিসপত্র বিক্রি না করাই ভাল। কারণ এসব পণ্যে আইনী ঝামেলায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে। কাপড়-চোপড়, খেলনা, চাদরের মত সাধারণ পণ্য বিক্রী করার চেষ্টা করুন।

৫। কাপড়, জুতো এবং গহনা

কাপড়, জুতো এবং গহনা সবসময়ই অ্যামাজনের লাভজনক পণ্য। এই জিনিসগুলো মানুষ সবসময়ই কিনে থাকেন। কারণ এসব পণ্যের প্রয়োজন কখনই যেন শেষ হয় না। ব্যায়ামের পোশাককে আলাদা করে আলোচনা করা হয়েছিল, কারণ এটি নিজেই একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র বাজার। তা বাদে, অ্যামাজন থেকে এমনি কাপড়ও মানুষে কম কিনেন না। গহনাও অনেক বিক্রি হয়। তবে এখানে লক্ষণীয় যে, সোনার গহনা ও অন্যান্য দামী উপাদানের গহনা অ্যামাজনে বিক্রির ক্ষেত্রে তেমন জনপ্রিয় নয়। যেহেতু পরখ করে দেখার সুযোগ নেই, তাই এমন দামী জিনিস অনলাইন থেকে কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না মানুষ। দামী গহনা সাধারণতঃ একটি নিয়ন্ত্রিত পণ্য এবং বিক্রি করা কঠিন হবে।

কাপড়, জুতো, গহনার বাজারটি বিশাল। অনলাইনে হোক বা এমনি দোকানপাট উভয় ক্ষেত্রেই এটি সত্য। তাছাড়া পাইকারী দরে এসব পণ্য খুব কম খরচে কিনতে পারবেন, কারণ ইতিমধ্যেই বহু পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এই পণ্যগুলো নিয়ে কাজ করছে। এসব পণ্য পরিবহন করাও সহজ।

অ্যামাজনে কাপড়, জুতো, গহনা বিক্রির একমাত্র সমস্যাটি হচ্ছে, আপনাকে প্রচুর প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে। তাই, আপনি নিজের পণ্যে এমন কিছু যুক্ত করুন যেটা আপনার পণ্যকে অন্যদের থেকে ব্যাতিক্রম ও স্বতন্ত্র করে তোলে।

প্রয়োজন মনে হলে পড়ে নিতে পারেন-

৬। রান্নাঘর ও গৃহস্থালী পণ্য

অ্যামাজনের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্য হচ্ছে রান্নাঘর ও গৃহস্থালী সম্পর্কিত পণ্যগুলো। তার মূল কারণ এসব পণ্য প্রাত্যাহিক প্রয়োজনীয়, এবং এসব সামনাসামনি পরখ না করেই কেনা সম্ভব। দ্বীতিয়তঃ এসব পণ্যের অনেকগুলো আকারে বড় হওয়ায়, দোকান থেকে বয়ে আনা একটা ঝামেলার ব্যাপার। এসব কারণে আধুনিক মানুষ তাদের রান্নাঘর ও গৃহস্থালী পণ্য সাধারণতঃ অনলাইন থেকেই কিনে থাকেন।

বিক্রেতাদের ক্ষেত্রে, অ্যামাজনে রান্নাঘর ও গৃহস্থালী সংক্রান্ত পণ্য বিক্রি করার সুবিধা অনেকগুলো। তার মধ্যে, অন্যতম হল – নতুন বিক্রেতাদের এই ক্যাটেগরীর পণ্য বিক্রিতে তেমন বিধি-নিষেধ নেই এবং কোন বিশদ অনুমোদন প্রক্রিয়াও পার হয়ে আসতে হয় না।

অ্যামাজনে গৃহস্থালী পণ্য বিক্রি করার সুবিধা

গৃহস্থালী সংক্রান্ত পণ্য বিক্রির একটা সুবিধা হচ্ছে অধিকাংশ বিক্রেতা এই পণ্যগুলোর বিষয়ে সহজাত ভাবেই একটি ধারণা রাখেন। কারণ বহু মানুষের বাড়িঘরেই পাওয়া যায় এসব জিনিস যেমন: থালা, বাসন, কড়াই, হাড়ি-পাতিল, জানালার পর্দা, বালিশের কভার ইত্যাদি। অন্যদিকে, বিভিন্ন কম্পিউটার এবং অন্যান্য বিদ্যুত নির্ভর যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে, এসব পণ্য বিক্রি করার আগে আলাদাভাবে পড়াশোনা করে নিতে হবে আপনাকে।

অ্যামাজনে গৃহস্থালী পণ্য বিক্রয়ের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে এগুলোর সাথে বিভিন্ন ধরণের জটিলতার সম্পৃক্ততা নেই। যারা স্বাস্থ্য পণ্য বিক্রি করেন, যেমন বিভিন্ন ধরণের সাপ্লিমেন্ট, তাদেরকে খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়মকানুন ও শর্তাবলী মানতে হয়। এছাড়াও খাদ্য ও অন্য বিভিন্ন পণ্যের সাথে আইনী জটিলতার বিষয় থাকে। রান্নাঘর ও গৃহস্থালী পণ্যের ক্ষেত্রে এসব ঝামেলা প্রায় নেই বললেই চলে।

রান্নাঘর ও গৃহস্থালী পণ্য নিয়ে অ্যামাজনে ব্যবসার আরেকটি সুবিধা হচ্ছে, এসব পণ্যের প্রস্তুতকারক খুঁজে পাওয়া সহজ অন্য ক্যাটেগরীর তুলনায়।

সকল কিছু বিবেচনা করে বলা যায়, অ্যামাজন এফবিএর বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবসায়ীরা রান্নাঘর ও গৃহস্থালী পণ্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করলে সফলতা পাওয়ার বেশ সম্ভাবনা রয়েছে।

অ্যামাজনের সবচেয়ে লাভজনক পণ্য বিক্রির ব্যবসার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো মনে রাখা প্রয়োজন

জনপ্রিয় পণ্য নিয়ে ব্যবসার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে

অ্যামাজনের সবচেয়ে লাভজনক পণ্য হিসেবে যেগুলো পরিচিত, সেগুলি জনপ্রিয়তারও শীর্ষে (বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয় ক্ষেত্রেই)। সুতরাং এসব পণ্য নিয়ে ব্যবসা করার সময় বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে আপনাকে।

১। আপনার প্রতিযোগিতা খোদ অ্যামাজনের সাথে

অ্যামাজনের বিক্রেতাদের অর্ধেকই এমনটা বলে থাকেন যে, অ্যামাজন নিজেদের যে পণ্য বিক্রি করে সেগুলো সরাসরি এই তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের পণ্যের সাথে পাল্লা দেয়।

যেমন ধরুন, অ্যামাজন কোম্পানীর লেবেলযুক্ত পণ্যগুলোকে তারা সবসময়ই আপনার পণ্যের ওপরে, বা আগে ফিচার করবে (অর্থাৎ বেশী প্রাধান্য দিয়ে ক্রেতাদের কাছে উপস্থাপন করবে)। আপনার পণ্য যদি অ্যামাজনের পণ্যের চেয়ে র্যাঙ্কিঙে এগিয়েও থাকে, তাহলেও কোন যায় আসে না। অ্যামাজন তাদের নিজেদের পণ্যকেই বেশি গুরুত্ব দিবে।

তাছাড়া, সব ধরণের অর্গানিক রেজাল্ট এবং স্পন্সর্ড প্রোডাক্টগুলির আগে গুরুত্ব দেয়া হবে অ্যামাজন ব্র্যান্ডকে। একটি “অ্যামাজন বেসিক্স” পণ্যের দাম সাধারণতঃ আপনার পণ্যের চেয়ে কম হবে। এটি তাদের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার আরেকটি কৌশল।

এতদসত্ত্বেও, আপনার পণ্য যদি যথেষ্ট ভাল হয় এবং আপনি যদি নিজস্ব অডিয়েন্স বা ক্রেতা সমাজ তৈরি করতে পারেন, তাহলে অবশ্যই আপনি নিজের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। সুতরাং, হতাশ না হয়ে পরিশ্রম ও অধ্যাবসায় অব্যাহত রাখা উচিত।

২। অন্য বিক্রেতাদের সাথে প্রতিযোগিতা

রান্নাঘর ও গৃহস্থালীর মত একটি জনপ্রিয় অ্যামাজন ক্যাটাগরীর কথা ভাবুন। অনেক নতুন ব্যবসায়ীই এই ক্ষেত্রটি নিয়ে ব্যবসা করতে আগ্রহী হবেন। তারা ভাববেন, যেহেতু এখানে পণ্যের এমন বিপুল চাহিদা নিশ্চয়ই এখানে ব্যবসা করে রাতারাতি ধনী হয়ে যাওয়া সম্ভব।

বাস্তবতা এর চেয়ে ভিন্ন। আসলে এই ধরণের ক্যাটেগরীতে ব্যবসা করা যথেষ্ট কঠিন। কারণ এখানে বিক্রেতার সংখ্যা প্রচুর। রান্নাঘরে পণ্যের মাঝে ধরা যাক আপনি “ব্লেন্ডার” নিশে নিয়ে কাজ করতে চান। আপনি দেখলেন ব্লেন্ডার বিক্রি করে লাখ খানেক ডলার কামাচ্ছেন বিক্রেতারা। সুতরাং, ব্লেন্ডার বিক্রি করে আপনিও হয়তো তাই করতে পারবেন।

কিন্তু একটু গভীরে গেলেই দেখা যায়, ব্লেন্ডার নিশেতে ইতিমধ্যেই প্রচুর পরিমাণে বিক্রেতা রয়েছেন। তাদের কারও কারও পক্ষে শত শত রিভিউ লিখেছেন ক্রেতারা, তারা পণ্য দিতেও পারছেন অত্যন্ত কম দামে। এবং সব শেষে অ্যামাজনে একই দামে বিভিন্ন বিক্রেতা যে বিপুল সংখ্যক ব্লেন্ডার বিক্রি করছেন, সেগুলির মাঝে গুণগত পার্থক্য তেমন নেই। আপনি নিজের পাইকারীতে যে পণ্য কিনতে পারছেন, সেগুলোও আগের বিক্রেতাদের পণ্যের চেয়ে ব্যতিক্রম কোন কিছু নয়।

অনেক নবীন উদ্যোক্তাই এই বিষয়গুলো চিন্তা না করেই ব্যাবসায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত এমন একটি পণ্য বিক্রয়ের চেষ্টা তারা করেন যেটা একটা প্রতিষ্ঠিত বাজারে কোনভাবেই নিজের স্থান করে নিতে পারে না।

৩। বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় বেশি খরচ হয়

যেসব পণ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা বেশি, সেখানে আপনাকে প্রচারণা ও বিজ্ঞাপনের পেছনেও অনেক বেশি টাকা ব্যায় করতে হবে। অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। কারণ এখানে একই ক্রেতা এবং কিওয়ার্ডকে দখল করার জন্য বহু সংখ্যক ব্যবসায়ী প্রতিযোগিতা করছেন।

এর অর্থ দাড়ায়, কস্ট পার ক্লিক বা সিপিসি এ্যাডের ক্ষেত্রে আপনাকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি টাকা খরচ করতে হবে। এমতাবস্থায়, একজন নতুন ব্যাবসায়ীকে সারাক্ষণই তার বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার খরচ নিয়ে তটস্থ থাকতে হয়। কারণ, খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে শুধু বিজ্ঞাপনেই আপনার ব্যাবসায়িক বিনিয়োগের বড় একটা অংশ শেষ হয়ে যাবে।

শেষ কথা

অ্যামাজনের সর্বাধিক বিক্রিত পণ্যগুলো নিয়ে ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনি যদি নিশে ভিত্তিক ভাবে ব্যবসা করতে পারেন, অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট একদল ক্রেতা নিয়ে কাজ করতে পারেন তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়। এই পণ্যগুলো নিয়ে ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনার পণ্যকে স্বতন্ত্র করে তুলুন।

Amazon.Com এর সবচেয়ে লাভজনক পণ্যগুলো নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সবাই ব্যবসা করতে চান। সুতরাং, প্রতিযোগিতায় পড়তে হবেই। কিন্তু গতানুগতিক ধারার চেয়ে ভিন্ন ভাবে ব্র্যান্ডিং এবং প্রচারণা করলে এসব পণ্য নিয়েই একটা সফল ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব।

বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় ইকমার্স প্লাটফর্ম অ্যামাজনের সবচেয়ে লাভজনক পণ্য বা সর্বাধিক বিক্রিত পণ্য বলেই সেটি নিয়ে চোখ বন্ধ করে আপনি মাঠে নেমে যেতে পারবেন না। পর্যাপ্ত রিসার্চ করুন, ক্রেতাদের মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করুন। এবং ব্যাবসায়ী হিসেবে আপনার নিজের সক্ষমতার একটি বাস্তব ধারণা রাখুন। বাস্তবভিত্তিক লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হোন। একবার প্রতিষ্ঠা অর্জন করে ফেলার পর তখন না হয় ঝুঁকি নিলেন, এক্সপেরিমেন্ট করলেন।

শুভকামনা সকল অনলাইন উদ্যোক্তার জন্য।

লিখেছেন : সালেহ মুহাম্মাদ
এফবি প্রোফাইল : https://www.facebook.com/salehmuhammed99/

সম্পাদকের বাছাই-

Leave a Comment