অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার উপায়

অ্যামাজন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। এক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই সবধরণের অনলাইন বেচা-কেনার চল্লিশ পার্সেন্ট হয়ে থাকে অ্যামাজনে। অ্যামাজনের এই ব্যবসায়িক লাভের অংশ আপনিও পেতে পারেন। সেজন্য আপনার লাগবে একটি ওয়েবসাইট, বা নিদেনপক্ষে কোন একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব উপস্থিতি। এরপর আপনি নাম লেখাবেন অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম বা অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটসে। আজকের আলোচনায় অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস কি? (What is Amazon Associates?)

অ্যামাজনের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামটির নামই অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস। এটি একটি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রাম যার সাহায্যে একজন ব্যবহারকারী তার ওয়েবসাইট, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে টাকা আয় করতে পারেন। অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েটের ব্যবহারকারীরা তাদের সাইটে অ্যামাজন পণ্যের একটি লিংক স্থাপন করেন। তারপর যখন একজন ক্রেতা তাদের লিংক ব্যবহার করে কোন পণ্য কিনে থাকেন; ব্যবহারকারী সেই বিক্রিত পণ্যের বিক্রয় মূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ কমিশন পান।

কিভাবে অ্যামাজনের এই প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে এবং কি কি কৌশলে আপনিও অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস থেকে আয় করতে পারেন সেটি জানতে এই পোস্ট পড়তে থাকুন।

অ্যামাজনের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম কিভাবে কাজ করে?

অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস মূলতঃ একটি রেফারাল প্রোগ্রাম। যে ওয়েবসাইট তাদেরকে (অ্যামাজনকে) রেফার করে তাদেরকে একটি কমিশন প্রদান করে থাকে অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস। সুতরাং আপনি যখন আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোন একজন কাস্টমারকে অ্যামাজনের সাইটে পাঠাচ্ছেন, তারা আগামী চব্বিশ ঘন্টায় যা কিনবে তার থেকে অ্যামাজনের আয়ের একটি শতকরা অংশ আপনাকে দেয়া হবে।

কি ধরণের পণ্য ক্রেতা কিনছেন অ্যামাজন থেকে তার ওপর ভিত্তি করে অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটসের কমিশনের হারের ভিন্নতা হয়। এখানে একটি জিনিস মনে রাখবেন যে, পণ্য বিক্রয়ের পার্সেন্টেজ আপনার কমিশনের একমাত্র ফ্যাক্টর নয়। আপনার ‘কনভার্সান রেট’ ও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কনভার্শান রেট থেকেই বোঝা যায়, আপনার সাইট ভিজিট করার পর কি পরিমাণ মানুষ প্রকৃতই অ্যাফিলিয়েট লিংক ক্লিক করে একটি পণ্য কিনছেন।

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ

অ্যামাজনের একটি প্রোডাক্ট লিংক শেয়ার করে অর্থাৎ অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করবেন – বিষয়টিকে তেমন জটিল কিছু বলে মনে হয় না। কিন্তু তারপরও অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটসে কাজ শুরু করার আগে সুবিধা ও অসুবিধাগুলো একবার একটু বিবেচনা করে নিন।

অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটসের সুবিধা

অ্যামাজনের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হওয়া তুলনামূলক সহজ ও সরল। আপনি রেজিস্টার করবেন, তারপর অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করা শুরু করবেন। ব্যাস এতটুকুই। কিভাবে এই কাজটি করতে হয়, সেটি সামনে আলোচনা করব।

অনলাইনের বাজারে অ্যামাজন একটি কর্তৃত্বের অবস্থানে রয়েছে। এই দানবীয় খুচরা বিক্রেতার ক্রেতা সমাজে বিশ্বাসযোগ্যতা, পরিচিতি সবই বেশী। সুতরাং এই ওয়েবসাইটের পণ্য কেনার জন্য মানুষকে আপনার খুব বেশী জোরাজুরি করতে হবে না।

অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস ব্যবহার করলে আপনার বিজ্ঞাপন দেয়ার মত পণ্যের সুযোগ অনেক বেশী। বিক্রী করার মত প্রায় তিন বিলিয়ন পণ্য রয়েছে অ্যামাজনে। সাথে আবার প্রাইম ভিডিও ও এ জাতীয় অন্যান্য সেবাও রয়েছে। সুতরাং অ্যাফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করে প্রমোট করার মত পণ্যের অভাব হবে না।

যে পণ্যের লিংক শেয়ার করেন একজন অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারী তার বাইরেও উপার্জনের সুযোগ তার থাকে। আপনি যখন একটি অ্যাফিলিয়েট লিংকের মাধ্যমে অ্যামাজনের সাইটে ট্রাফিক পাঠান, এবং সেই ব্যবহারকারী একটি পণ্য কিনেন, তখন আগামী চব্বিশ ঘন্টায় ঐ ব্যবহারকারী সাইট থেকে যা যা কিনবেন তার সবটা থেকে আপনি কমিশান পাবেন। আর যেহেতু কনভার্শান এবং আপসেলিং এর ক্ষেত্রে অ্যামাজনের অসামান্য দক্ষতা রয়েছে, সুতরাং সম্ভাবনা প্রবল যে আপনার লিংক থেকে একটি পণ্য কিনতে গিয়ে, একাধিক পণ্য কিনে ফিরবেন ক্লিককারী ক্রেতা।

আরও পড়ুন-

অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস প্রোগ্রামের অসুবিধা

কিছু পণ্যের ক্যাটাগরীতে অ্যামাজনের কমিশনের হার খুবই কম। বিভিন্ন বিলাস দ্রব্য, রূপচর্চার পণ্যে অ্যামাজন দশ পার্সেন্ট পর্যন্ত কমিশান দিলেও, ভিডিও গেম কনসোল ও অন্য কিছু পণ্যে কমিশান মাত্র এক পার্সেন্ট।

অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস অপারেটিং প্রোগ্রাম এগ্রিমেন্ট বোঝা বেশ কষ্টকর এবং ক’দিন পরপরই এই এগ্রিমেন্ট বা শর্তাবলী আপডেট করে থাকেন তারা। ফলে প্রোগ্রামের সদস্যরা যদি সব সময় এটির খোঁজ না রাখেন, যেকোন সময়ই আবিষ্কার করবেন যে অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস প্রোগ্রামের কোন একটি শর্ত ভঙ্গের জন্য তাদের দোষী সাব্যস্ত করছে অ্যামাজন।

একটি গড়পড়তা মানের অ্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইট, যেখানে প্রোডাক্ট রিভিউ থেকে শুরু করে অন্য বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক কন্টেন্ট রয়েছে – এমন একটি জিনিস গড়ে তুলতে আপনার যথেষ্ট সময় লাগবে। সুতরাং ইতিমধ্যে একটি ওয়েবসাইট তৈরী না থাকলে চট করে কিছুই শুরু করতে পারবেন না।

সকল সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটসে অংশ নেয়া কি উচিত হবে?

আপনার একটি কন্টেন্ট সমৃদ্ধ ব্যাক্তিগত ব্লগ বা প্রোডাক্ট রিভিউ ওয়েবসাইট তৈরি নেই বলে আপনি অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার এই সুযোগ গ্রহণ করবেন না! এমন হলে সেটা সঠিক হবে না। আপনি পৃষ্ঠপোষকতা করছেন এমন প্রোডাক্টগুলোর লিংক যুক্ত করে একটি ওয়েবসাইটট আপনি চালু করে দিতে পারেন। তারপর প্রতিদিনই অল্প অল্প করে কন্টেন্ট যোগ করতে থাকবেন। আপনার সাইট তাৎক্ষণিকভাবে আয় করতে শুরু না করলেও, দীর্ঘ মেয়াদে এটা আপনার একটা স্থায়ী আয়ের উৎস হতে পারে।

আপনার যদি একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকে, বা আপনি যদি একটি চ্যানেল শুরুর বিষয়ে আগ্রহী হন, তাহলে ইউটিউব ভিডিওর ভেতরেও অ্যাফিলিয়েট লিংক যোগ করে দিতে পারেন। অ্যাফিলিয়েট লিংক যোগ করলে ভিডিওগুলো আরও পেশাদার দেখায়। আপনার দর্শকরাও ভিডিও দেখার পাশাপাশি বাড়তি কিছু পেলেন।

ফেসবুক বা টুইটারের মত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও আপনি অ্যামাজনের অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করতে পারেন। যার ফলে, সামাজিক গণমাধ্যমে সক্রিয় এমন যে কারুর জন্যেই অ্যামজন অ্যাফিলিয়েট একটি চমৎকার অপশান। এসব লিংক থেকে উপার্জনের জন্য আপনার একটি বিপুল পরিমাণে ফ্যান ফলোয়ার থাকতে হবে এমন নয়। আপনার বন্ধু বান্ধব আত্নীয় পরিজনের মাঝেই আপনার পছন্দের প্রোডাক্টের কথা বলুন। যেহেতু তারা আপনাকে চিনেন ও বিশ্বাস করেন, সুতরাং আপনার কাছ থেকে পণ্য কিনতে তারা দ্বিধা করবেন না।

কিভাবে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন?

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার উপায়
কিভাবে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন?
  • অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটসের নাম লেখানো একটি সরল প্রক্রিয়া। সেজন্য প্রথমে ভিজিট করুন –  affiliate-program.amazon.com তারপর ক্লিক করুন “জয়েন নাও ফর ফ্রি”।
  • এরপর আপনাকে একাউন্টের তথ্য দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে আপনার নাম, ঠিকানা আর ফোন নম্বর। তারপর যেই ওয়েবসাইট অথবা মোবাইল অ্যাপে আপনি অ্যাফিলিয়েট লিংকগুলো প্রদর্শন করতে চান সেগুলির ইউআরএল দিতে বলা হবে। সর্বোচ্চ পঞ্চাশটির মত এরকম ওয়েবসাইট আর মোবাইল অ্যাপের ঠিকানা দিতে পারবেন আপনি।
  • পরবর্তী অংশে গিয়ে আপনি একটি স্টোর আইডি নির্বাচন করবেন। তারপর আপনার ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ বিষয়ে তথ্য প্রদান করবেন। কি ধরণের প্রোডাক্ট আপনি প্রোমোট করতে চাচ্ছেন সেটি জানাবেন।
  • এখানে একটি ড্রপ-ডাউন মেনুও আছে। সেখান থেকে বিভিন্ন পণ্য যেমন – বইপত্র, গেমিং বা মুভি – যেটি আপনার প্রমোট করতে চাওয়া পণ্যের ও সাইটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেটি নির্বাচন করুন।
  • এরপর আপনাকে জানাতে হবে : কিভাবে ট্রাফিক নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছেন আপনার সাইটে, কিভাবে আপনি আপনার সাইট আর অ্যাপ থেকে উপার্জন করে থাকেন, কিভাবে সাধারণতঃ আপনি লিংক বিল্ডিং করেন, এবং প্রতি মাসে মোট কতজন স্বতন্ত্র ভিজিটর আপনার সাইট পেয়ে থাকে – এসব তথ্যাবলী।
  • এই অংশটির কাজ শেষ হওয়ার পর আপনার কাজ হচ্ছে নিজের ফোন নম্বর দেয়া। “কল মি নাও” বলে একটা অপশন আছে। সেখানে ক্লিক করলে অ্যামাজন থেকে একটি ফোন আসবে আপনার নাম্বারে (অটোমেটেড কল বা মেসেজও হতে পারে) । আপনাকে একটি চার ডিজিটের পিন প্রবেশ করতে বলা হবে। তাহলেই আপনার একাউন্ট সেট-আপের কাজ শেষ।
  • এরপর আপনি পেমেন্ট আর ট্যাক্স ইনফরমেশানগুলো এখন দিবেন না পরে, সেটি সিদ্ধান্ত নিন। তারপর ড্যাশবোর্ডে যান এবং অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট লিংক তৈরী করা শুরু করুন।

বিস্তারিত জানতে পড়ুন-

How to Create Amazon Affiliate Account from Bangladesh?

অ্যামাজনের প্রোডাক্ট লিংক টুল ব্যাবহার করে অ্যাফিলিয়েট লিংক তৈরি

অ্যাফিলিয়েট লিংক তৈরির সবচেয়ে প্রচলিত উপায় হচ্ছে দি প্রোডাক্ট লিংক টুল ব্যবহার করা। এই টুল ব্যবহার করার জন্য ক্লিক করুন “প্রোডাক্ট লিংকিং”, যেটা অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস ড্যাশবোর্ডের একদম ওপরে দেখতে পাবেন। তারপর সিলেক্ট করুন “প্রোডাক্ট লিংকস”।

এখানে ক্লিক করার পর আপনাকে নতুন একটা স্ক্রীণে নিয়ে আসা হবে। সেখানে আপনি প্রোডাক্ট অনুসন্ধান করতে পারবেন। আপনি যেকোন একটি সার্চ টার্ম প্রবেশ করাতে পারেন, সেটি প্রায় সার্বজনীন, যেমন : গেমিং কনসোল। অথবা চাইলে ব্র্যান্ড ধরে ধরেও পণ্য খুঁজতে পারেন। আবার একদম কোন সুনির্দিষ্ট পণ্য খুঁজতে পারেন। যেমন : “হ্যান্ড ব্যাগ” যেমন অনুসন্ধান করতে পারেন, তেমনি “গুচ্চি হ্যান্ড ব্যাগ” অনুসন্ধান করতে পারেন।

আপনি আপনার অনুসন্ধানের বিষয় প্রবেশ করানোর পর, সার্চ রেজাল্টগুলো নীচে দেখা দিবে। সেখান থেকে আপনি অ্যাফিলিয়েট লিংক তৈরী করতে চান এমন পন্য নির্বাচন করুন। লিংক পাওয়ার জন্য ক্লিক করুন “গেট লিংক”। পণ্যের পাশেই এই গেট লিংকের অপশান আছে।

একটা বাক্স দেখা যাবে স্ক্রীণে (পপ-আপ)। ওটার মধ্যেই আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক রয়েছে। এখান থেকে এইচটিএমএল কোডটি কপি করুন আপনার সাইটের জন্য। হুবহু কপি করতে পারেন, আবার আপনি কোডিং বিষয়ে জানলে নিজের সুবিধামত কোডটি সম্পাদনা কর নিতে পারেন। যে বিজ্ঞাপনটি পাওয়া গেল সেটি একটি টেক্সট এবং ইমেজ হতে পারে, আবার শুধু টেক্সট বা শুধু ইমেজও হতে পারে। আপনি বিজ্ঞাপনের চেহারা কেমন হবে সেটি ঠিক করে দিন। যেমন, আপনার ওয়েবসাইটের ব্র্যান্ডিং এর সাথে মিল দিয়ে বিজ্ঞাপনের টাইটেল এবং প্রাইসের রঙটি পরিবর্তন করা যায়।

পেজের ওপরে যে সাইটস্ট্রাইপ বার থাকে, সেটি দিয়ে একাধিক বিভিন্ন ধরণের লিংক তৈরী করা যায়। চাইলে একটি নেটিভ এ্যাডও বানাতে পারেন আপনি, অথবা একটি প্লেইন টেক্সট লিংক, বা লিংক এমবেড করা রয়েছে এমন কোন ইমেজ, অথবা টেক্সট এবং ইমেজ অ্যাড একসাথে। এখান থেকে ক্লিক করে আপনি ফেসবুক বা টুইটারেও শেয়ার করতে পারেন।

আপনি যে ধরণের অ্যাফিলিয়েট লিংক চান, সেটি সিলেক্ট করার পর, একটি বাক্সে সেই বিজ্ঞাপনের কোডটি দেখা দিবে। আপনি সেই কোড কপি করে আপনার ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়ার পেস্ট করে দিন।

প্রয়োজন মনে হলে পড়ে দেখতে পারেন-

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম : অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস থেকে টাকা তুলবেন কিভাবে?

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম থেকে যা আয় করবেন সেটি সাধারণতঃ প্রতি মাসের শেষ দিন থেকে হিসেব করে ষাট দিন পর দেয়া হয়।

পেমেন্ট সরাসরি ডিপোজিট করা হয়, বা চেক অথবা অ্যামাজন গিফট কার্ডের মাধ্যমে পেতে পারেন। কোন পেমেন্ট অপশানটি আপনি সিলেক্ট করলেন তার ওপর নির্ভর করবে কত সময়ের ব্যবধানে আপনি টাকা পাবেন। কারণ প্রতিটি পেমেন্ট মেথডের জন্য নূন্যতম টাকার পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন। নীচে সেটি বর্ণনা করা হল।

তিন ধরণের পেমেন্ট মেথড অনুসরণ করে অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস থেকে টাকা তোলা যায়।

১। ডিরেক্ট ডিপোজিট : আপনি যদি সরাসরি ডিপোজিটের মাধ্যমে টাকা পেতে চান, তাহলে অ্যামাজনকে আপনার ব্যাংক বিষয়ক সমস্ত তথ্য দিতে হবে। যেমন : আপনার ব্যাঙ্কের নাম, একাউন্ট নম্বর, অন্যান্য শনাক্তকরণ তথ্য। আপনি কমপক্ষে দশ ডলার ইনকাম না করা পর্যন্ত অ্যামাজন আপনার পেমেন্ট দিবে না।

২। চেক : চেকের মাধ্যমে পেমেন্ট পেতে হলে অ্যামাজনকে একটি মেইলিং এড্রেস প্রদান করুন। চেকের মাধ্যমে টাকা পেতে হলে, নূন্যতম একশ ডলার জমা না হলে পেমেন্ট করা হবে না। সাথে পনের ডলারের একটি প্রসেসিং ফি আছে।

৩। অ্যামাজন গিফট কার্ড : এই মেথডে পেমেন্ট পাওয়ার জন্য, অ্যামাজন আপনার ইমেইল এড্রেসে গিফট কার্ড পাঠাবে। যত টাকা আপনি উপার্জন করেছেন তত টাকার গিফট কার্ড পাঠানো হবে। দশ ডলার নূন্যতম উপার্জন করতে হবে আপনাকে।

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় : যেভাবে সর্বোচ্চ লাভ করবেন

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ লাভ করার জন্য আপনি কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।

১। নিশে নির্ধারণ করুন

যেসব ওয়েবসাইট অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আয় করে থাকে, তাদেরকে বলা হয় নিশে সাইট। আর একটি সফল নিশে সাইট নির্মাণ করতে হলে প্রথমেই আপনাকে সিদ্ধান্তে আসতে হবে যে, এই বিশাল ইন্টারনেটে বাজারের কোন সুনির্দিষ্ট, অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র অংশটি নিয়ে আপনি কাজ করতে চান।

একটি লাভজনক, কম প্রতিযোগিতাপ্রবণ নিশে খুঁজে বের করা কষ্টকর বটে। তারপরও আপনার ব্যাক্তিগত আবেগ ও আগ্রহের বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করার মাধ্যমে একটা ফলাফল পেতে পারেন।

শুধুমাত্র ব্যাক্তিগত আগ্রহ অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট হয় না একটা নিশে সাইট নির্মাণের জন্য। কোন একটি নিশেতে উপনীত হওয়ার আগে, কিছু কিওয়ার্ড রিসার্চ করুন। বোঝার চেষ্টা করুন কোন নিশেতে প্রতিযোগিতা কেমন, এবং কোন কিওয়ার্ডের জন্য আপনার পক্ষে র্যাঙ্ক করা সহজ।

বিস্তারিত জানতে পড়ুন-

How to Create Amazon Affiliate Niche Site from Scratch and Make Money Online?

২। নিয়মিত মানসম্পন্ন কন্টেন্ট তৈরি করুন

আপনি ইচ্ছা করলে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটসের পণ্য বিক্রী করতে পারেন। যেমন ফেসবুক, ইউটিউব। কিন্তু যারা অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করছেন, তারা সেটি করছেন সাধারণতঃ ব্লগিংয়ের মাধ্যমে। বিভিন্ন অ্যামাজন প্রোডাক্ট রিভিউয়ের জন্য এক পাতার একটি প্রোডাক্ট রিভিউ লেখা বেশ জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। তবে রিভিউ নির্ভর কন্টেন্টকে চিত্তাকর্ষক করে তোলার আরও বেশ কিছু উপায় আছে।

আরেকটা যেটা করতে পারেন, বিভিন্ন প্রোডাক্ট নিয়ে টিউটোরিয়াল বা আর্টিকেল তৈরি করুন, যেখানে দেখানো হবে- কিভাবে একটি প্রোডাক্ট ভোক্তার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে।

নিয়মিত পোস্ট করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাতে আপনার সাইট সবসময় আপ-টু-ডেট থাকবে। তাছাড়া আপনার কন্টেন্ট বা লেখার স্বতন্ত্রতা একটি জরুরী বিষয়। সরাসরি যদি অ্যামাজনের সাইটে থাকা প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশানটিকেই কপি করে দেন, তাহলে চলবে না। এমন যদি হয়, আপনি নিজে প্রোডাক্টটিকে ব্যবহার করে বা পরীক্ষা করে দেখতে পারছেন না, তাহলে অন্য মানুষেরা সেটি নিয়ে কিরকম রিভিউ লিখেছেন সেরকম কয়েকটি লেখা পড়ুন। তারপর সেই ভিত্তিতে স্বতন্ত্র এবং ক্রেতাদের কাজে আসবে এমন কন্টেন্ট তৈরী করুন।

৩। নির্দিষ্ট প্রোডাক্টের জন্য অপটিমাইজ করুন সাইটকে

সাধারণতঃ অ্যাফিলিয়েট সাইটগুলোতে অধিকাংশ ট্রাফিক আসে প্রোডাক্ট সম্পর্কিত সার্চ থেকে। অথবা নির্দিষ্ট প্রোডাক্টের রিভিউ বিষয়ক সার্চ থেকে (লং টেইল কিওয়ার্ডস)। সুতরাং আপনার পেজের ইউআরএল গুলোতে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

৪। লিংক লোকালাইযার ব্যবহার করুন

লিংক লোকালাইযার ব্যবহার করে আপনি একটি নির্দিষ্ট দেশের লোককে নির্দিষ্ট একটি সাইটে পাঠাতে পারেন। যেমন ভারতের ব্যবহারকারীরা যদি আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করে, এবং একটি অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করে, একটি লিংক লোকালাইযার তাদেরকে অ্যামাজন ডট ইন (amazon.in) এ নিয়ে আসবে। লিংক লোকালাইযার ব্যবহার না করলে আপনি বিদেশী ট্রাফিক অ্যামাজন সাইটে নিয়ে আসার জন্য কোন কমিশন পাবেন না।

শেষ কথা

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার উপায়গুলো মূলতঃ এমনই। বুঝতেই পারছেন অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস কোন শর্টকাটে ধনী হওয়ার পদ্ধতি নয়। বেশ একটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সময় ও শ্রম ব্যয় করার পরই একমাত্র আপনি এখানে সাফল্যের মুখ দেখতে পারেন।

তবে হ্যাঁ, প্রাথমিক পর্যায়টি অতিক্রম করার পর, অর্থাৎ কন্টেন্ট সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট নির্মাণ, সেখানে ট্রাফিক আসা, এবং পণ্য বিক্রেতা হিসেবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বিশ্বাস অর্জন তথা নিজের নিশের ক্রেতাদের মন জয় করে নেয়ার পর- বাকী পথটি মোটামুটি মসৃণ। যদি ঠিকভাবে কাজগুলি করা যায়, অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম থেকে একসময় মাসে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করাও বিচিত্র কিছু নয়। সকলের মঙ্গল কামনা করে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় বিষয়ক আলোচনা এখানেই শেষ করছি।

লিখেছেন : সালেহ মুহাম্মাদ
এফবি প্রোফাইল : https://www.facebook.com/salehmuhammed99/

সম্পাদকের বাছাই –

Leave a Comment