অ্যামাজন FBA প্রোডাক্ট রিসার্চ : পণ্য নির্বাচনে যে ৯টি বিষয় মনে রাখা জরুরী

অ্যামাজনে ব্যবসা শুরু করার আগে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অ্যামাজন FBA প্রোডাক্ট রিসার্চ করে পণ্যের গুণাগুণ যাচাই-বাছাই করা নিয়ে লেখাটিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

অ্যামাজন এফবিএ তথা যে কোন অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে পণ্যই মূল বিষয়। যে কারণে অ্যামাজনে কোন ধরণের পণ্য ভালো বিক্রি হয় এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা করা অ্যামাজন এফবিএ-তে ব্যবসা শুরুর আগে অত্যন্ত জরুরী একটি ধাপ। আপনার পণ্যের গুণাগুণই আপনার ব্র্যান্ডিং। আবার পণ্য ভালো না হলে অ্যামাজন আপনাকে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

অ্যামাজন এফবিএ (Amazon FBA) পণ্যের গুণাগুণ নির্ধারণে অ্যামাজন FBA প্রোডাক্ট রিসার্চ এর গুরুত্ব

অ্যামাজন FBA প্রোডাক্ট রিসার্চ
অ্যামাজন FBA প্রোডাক্ট রিসার্চ করে পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন

অ্যামাজন এফবিএ -তে ব্যবসা শুরু করার আগে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অ্যামাজন FBA প্রোডাক্ট রিসার্চ নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা। কি কি গুণাগুণ থাকলে একটি পণ্য নিয়ে আপনি অ্যামাজনে ব্যবসা করতে পারেন, তা দেখে নেয়া যাক।

১। পর্যাপ্ত চাহিদা (অ্যামাজন FBA প্রোডাক্ট রিসার্চ করে প্রথমেই যে বিষয়টি জেনে নেয়া প্রয়োজন)

যারা স্কুলে অর্থনীতি পড়েছেন এই বিষয়টি জানেন তারা। যে কোন ব্যবসাকে সফল হতে হলে, যে পণ্য আপনি বিক্রী করছেন তার যথেষ্ট চাহিদা থাকতে হবে। একটি বিষয় মনে রাখবেন, চাহিদাই বিক্রী হবার মূল কারন। সবকিছু ঠিকমত করার পরেও আপনার একটি প্রোডাক্ট বিক্রী হচ্ছে না মানে ধরে নিতে পারেন সেটির বাজারে যথেষ্ট চাহিদা নেই। অর্থাৎ ঐ পণ্যটির মানুষের প্রয়োজন নেই, বা পণ্যটির বিষয়ে অধিকাংশ লোকের মনে কোন আগ্রহ সৃষ্টি হয়নি।

অ্যামাজন এফবিএ’র ক্ষেত্রে একটি পণ্য বিক্রী না হওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে যে, অ্যামাজন FBA প্রোডাক্ট রিসার্চ ঠিকমত না করার কারণে আপনি পণ্যের চাহিদাকে বাস্তবের চেয়ে বেশী ভেবেছেন। যে কারণে পণ্যের দামও রেখেছেন বেশী। এক্ষেত্রেও চাহিদা আর পণ্যের দামের মিল না থাকলে আপনার পণ্য বিক্রী হবে না।

পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যামাজন FBA প্রোডাক্ট রিসার্চ এর অভাবে, উদ্যোক্তারা আরেকটি যে ভুল করে থাকেন তা হল, ভুল মার্কেটে তাদের পণ্যটি বিক্রী করার চেষ্টা করেন। যে কোন প্রোডাক্ট বিক্রী করার আগে আপনাকে নিজের অডিয়েন্স তথা ক্রেতা সমাজকে সুনির্দিষ্ট করে নিতে হবে। একটি পণ্য আপনার কাছে ভাল লাগছে বলেই সবার কাছে লাগবে – এমন নয়।

পণ্যের যদি উচ্চ চাহিদা থাকে তাহলে অ্যামাজন এফবিএ প্রোগ্রামে সেটি আপনি অবশ্যই সফল ভাবে বিক্রী করতে পারবেন। তবে অ্যামাজন এফবিএ-তে অংশ নেয়ার সময় প্রাথমিক ভাবে বিনিয়োগ করতে হয়। ফলে প্রথমেই আপনি পণ্য কিনে ফেলছেন।

যদি দেখা যায়, আপনি কম চাহিদা সম্পন্ন পণ্য কিনে ফেলেছেন, বিক্রী করতে পারছেন না, সেক্ষেত্রে কি করবেন? এখানেও উপায় রয়েছে। চাহিদা নেই এমন পণ্যেরও কৃত্রিম চাহিদা তৈরী করা যায়। আসলে সেই অর্থে, বিশ্বের বড় বড় ব্র্যান্ডের অনেকেই তাদের পণ্যের কৃত্রিম চাহিদা তৈরী করে থাকেন।

আপনার অ্যামাজন এফবিএ’র ব্যবসায় পণ্যের কৃত্রিম চাহিদা তৈরীর একটি উপায় হচ্ছে পণ্যটিকে “এক্সক্লুসিভ” করে তুলুন। অর্থাৎ অনন্য ও একচেটিয়া করে তুলুন আপনার পণ্যকে। এই যে অ্যাপল কোম্পানীর প্রোডাক্টের প্রতি মানুষের দুর্নিবার আকর্ষণ, তার কারণ কি? অ্যাপলের পণ্যের দাম অসম্ভব রকমের বেশী। তারপরও মানুষ তো কিনছেন। এর একমাত্র কারণ তাদের পণ্য এক্সক্লুসিভ বা অনন্য। অ্যাপেলের পণ্যের অসম্ভব দামটিও তাদের একটি বৈশিষ্ট্য। অস্বাভাবিক দামের অর্থ, একমাত্র নির্দিষ্ট ক্রয় সক্ষমতার একদল মানুষই শুধু তাদের পণ্য কিনতে পারবেন।

দ্বীতিয় বিষয় হচ্ছে, অ্যাপল তাদের পণ্য যত্রতত্র অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাজারে দেয় না। যেমনটা অ্যাপলের প্রতিদ্বন্দী কোম্পানিগুলো করে থাকেন। তৃতীয়তঃ অ্যাপলের নিজস্ব প্রযুক্তি কেন্দ্র, অ্যাপ স্টোর ইত্যাদি রয়েছে। এই সমস্ত কিছুই অ্যাপলের পণ্যটিকে অনন্যতা প্রদান করে তাদের গ্রাহকদের কাছে।

অ্যাপেলের প্রসঙ্গটি প্রোডাক্টের অনন্যতার উদাহরণ মাত্র। অ্যামাজন এফবিএ’র ব্যবসায় নেমে আপনাকে যে স্টিভ জবসে পরিণত হতে হবে, তা বলছি না। এমনটা সম্ভব নয় যে আপনি আকস্মিক অস্বাভাবিক দাম নির্ধারণ করলেন আপনার পণ্যের। বা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ক্রয় ক্ষমতার মানুষদের জন্য পণ্য বানাবেন, তা-ও সম্ভব না। তবে প্রায় অনুরূপ কৌশল আপনি ব্যবহার করতে পারেন।

যেমন আপনি “সীমিত সংস্করণ” বা লিমিটেড এডিশানের পণ্য বিক্রী করতে পারেন। বা এমন হতে পারে একটি প্রোডাক্ট সীমিত একটি সময়ের পরে আপনি আর বিক্রী করবেন না এরকম প্রচারণা করলেন। তাতে সম্ভাব্য ক্রেতাদের মনে হবে, এই প্রোডাক্টটি একটি দুষ্প্রাপ্য ধরণের কিছু। ক’দিন পর যেহেতু আর পাওয়া যাচ্ছে না, তাহলে এখনই কিনে ফেলা যাক।

২। অতিরিক্ত প্রতিযোগিতাপ্রবণ পণ্য হওয়া যাবে না

অ্যামাজন এফবিএ’র প্রোডাক্ট রিসার্চের ক্ষেত্রে একটি উভয় সঙ্কটে পড়ে থাকেন নতুন ব্যবসায়ীরা। যে পণ্যের বাজারে বিপুল চাহিদা রয়েছে, আবার সেই পণ্য নিয়ে প্রতিযোগিতা খুব বেশী নয় – এমনটা প্রায় অসম্ভবই মনে হয়। স্বাভাবিকভাবেই একটি পণ্যের যদি যথেষ্ট চাহিদা থাকে, তাহলে সেটি নিয়ে বহু সংখ্যক ব্যবসায়ীই ব্যবসা করতে চাইবেন। কাপড় জুতোর মত পণ্যগুলো নিয়ে ইতিমধ্যেই অনেক জন বিক্রেতা কাজ করছেন।

আপনাকে এমন একটি পণ্য অনুসন্ধান করে বের করতে হবে, যেটির চাহিদা আছে বটে, কিন্তু যোগান দেয়ার মত যথেষ্ট বিক্রেতা নেই। এই ধরণের প্রোডাক্ট হচ্ছে নিশে প্রোডাক্ট। বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্রেতা রয়েছেন যারা একটি নির্দিষ্ট পণ্য খুঁজছেন। কিন্তু গড়পড়তা ব্যবসায়ীগণ সেরকম পণ্য বিক্রী করেন না।

একটি উদাহরণ দেই। ধরুন, কাপড় বিক্রেতার কোন অভাব নেই মার্কেটে। অ্যামাজন এফবিএ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ক্লথিং ব্র্যান্ড গড়ে তুলেছেন এবং তুলছেন বহু ব্যবসায়ী। এখন আপনিও যদি কাপড়ই বিক্রী করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনাকে কাপড়কে একটি নিশে প্রোডাক্টে পরিণত করতে হবে।

এমন একটি অনন্য এবং প্রায় নজিরবিহীন পণ্য নিয়ে আসতে হবে যেটি আপনি মোটামুটি নিশ্চিত যে একদল ক্রেতাকে আকর্ষণে সক্ষম। যেমন, সাধারণ টি-শার্টের বদলে আপনি কয়েকটি জনপ্রিয় রক-ব্যান্ড বা কমিক বুকের থীম ব্যবহার করে টি-শার্ট বানালেন। টি-শার্ট ছাড়াও, হেডস্কার্ফ, হুডি ইত্যাদি পণ্যও তৈরী করা যায়। মূল বিষয় হচ্ছে আপনার একটি টার্গেট ক্রেতা সমাজ আছে – যারা এসব কমিকবুক বা রক-ব্যান্ডগুলোর অন্ধ ভক্ত তারাই এসব পণ্য কিনবেন।

এখানে আপনি ক্লথিং ক্যাটাগরী নিয়েই ব্যবসা করলেন। কিন্তু কাজটি করলেন একটি নিশেকে টার্গেট করে। এভাবে বুদ্ধি ও সৃজনশীলতার সাথে ব্যবসা করলে অনলাইন বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে একজন নতুন ব্যবসায়ীর পক্ষে।

আরও পড়ুন-

৩। মৌসুমী পণ্য বিক্রি করে ব্যবসা করার কথা ভাববেন না

অ্যামজন এফবিএ-তে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে মৌসুমী পণ্য নিয়ে ব্যবসা না করাই ভাল। মৌসুমী বা সিজনাল প্রোডাক্ট হল যেসব পণ্য বছরের কোন নির্দিষ্ট সময় বা মাসে (ঈদ, পুজো, বড়দিন, বিভিন্ন দিবস, নববর্ষ) কয়েক দিনের জন্য বিক্রী হয়। এধরণের পণ্য নিয়ে ব্যবসা করার সমস্যা হল মৌসুমের ক্ষণকালটি ফুরানো মাত্রই আপনার পণ্য আর বিক্রী হবে না। অ্যামাজনের গুদামে পড়ে থাকবে। আপনার বিনিয়োগের পন্যের ওপর ধূলো জমবে, এবং সেই সাথে গুনতে হবে স্টোরেজ ফি।

এ কারণে অ্যামাজন এফবিএর মাধ্যমে রিসেলিং (বা পাইকারীতে বেশী সংখ্যক পণ্য কিনে তারপর আবার খুচরা বিক্রী করা)-এর সময় মৌসুমী বা সিজনাল প্রোডাক্ট না কেনাই ভাল। যেমন, এসব বিশেষ উৎসবে ঘর সাজানোর জিনিস, অনুষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন আনুষঙ্গিক পণ্য ইত্যাদি। এসব পণ্যের পেছনে যদি একবারে বেশী টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেন, তাহলে প্রায় নিশ্চিত থাকতে পারেন যে একটা লোকসানের সম্মুখীন হতে হবে।

যদি একান্তই এসব পণ্যের ব্যবসা আপনাকে করতেই হয়, সেক্ষেত্রে স্বল্প পরিমাণে কিনুন। আর কখন কেনা শুরু করবেন সেটিও মাথায় রাখতে হবে। অ্যামাজন এফবিএ’র জন্য পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সময় একটি জরুরী ফ্যাক্টর।

আপনি যদি অ্যামাজনে উৎসব বা মৌসুম সংশ্লিষ্ট পণ্যই বিক্রী করতে চান, তাহলে এমন কিছু কিনুন যেটি শুধুমাত্র একটি নয়, সব ধরণের উৎসবেই মানুষ কিনতে চাইবেন। যেমন ধরা যাক, ডেকোরেশান লাইট। এ ধরণের লাইট প্রায় সব ধরণের উৎসবেই বছর জুড়ে ব্যবহার হতে থাকে।

মানুষের ব্যাক্তিগত উৎসবের সময়ও তারা কিনে থাকেন। তারপর বিভিন্ন “গিফট বাস্কেটও” বিক্রী করতে পারেন। বিভিন্ন দিবস, যেমন : মা দিবস, বাবা দিবস, ভালোবাসা দিবস, জন্মদিনের উৎসবে বছর জুড়েই এ ধরণের পণ্য বিক্রী করা যায়।

৪। সাধারণ মানুষের ক্রয়সাধ্যের সাথে মানানসই খুচরা মূল্য

অ্যামাজন এফবিএ’র প্রোডাক্ট রিসার্চের সময় পাইকারী দরে এমন পণ্যই অনুসন্ধান করুন যেটির খুচরা মূল্য আপনি সাধারণ লোকের ক্রয়সাধ্যের মধ্যে রাখতে পারবেন। অনেক নবীন ব্যবসায়ী ভেবে থাকেন, যদি উচ্চহারে মুনাফা করতে হয়, তাহলে বেশী দামের জিনিসপত্র বেচাই সবচেয়ে ভাল। কিন্তু এটি বেশ ভুল একটি ধারণা। মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সাথে মানানসই পণ্য বিক্রী করলেই আপনি সফল ভাবে অ্যামাজন এফবিএ’তে আপনার ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে পারবেন।

ধরা যাক, আপনি ব্যাক্তিগত লেবেল সমৃদ্ধ হাতঘড়ি বিক্রী করবেন। ঘড়ির ভেতরে বিশেষ দামী পাথরও বসানো থাকবে। এধরণের পণ্যগুলো খুব কম লোকই ব্যবহার করেন। এবং দ্বীতিয় কথা প্রাথমিক পর্যায়েই আপনাকে খুব বেশী টাকা বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। তারপর আবার সেই উচ্চ মূল্যে একটি ধনবান অভিজাত ক্রেতা সমাজকে খুঁজে নিয়ে তাদের কাছে বিক্রী করা আরেকটি ঝামেলার কাজ। এবং ঝুঁকিও প্রচুর।

অ্যামাজন এফবিএ’তে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এমন দামী পণ্য নিয়ে কাজ করার সমস্যাটা হবে যে, আপনার ব্র্যান্ড যেহেতু অত্যন্ত সুপরিচিত বা সুপ্রতিষ্ঠিত নয়, মানুষ আপনার কাছে থেকে একটি দামী জিনিস কেনার ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্থ থাকবে। সাথে আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আপনি শোরুম থেকে বিক্রী করছেন না। বিক্রী করছেন অনলাইনে।

সুতরাং এমন অবস্থায় এতগুলো টাকা, পণ্য চোখে না দেখেই খরচ করতে, অনেকেই রাজী হবেন না। স্বপ্নবাজ, উচ্চকাঙ্ক্ষী অনেক তরুণই অ্যামাজন এফবিএ বা অনলাইনের অন্য প্লাটফর্মে এ ধরণের দামী পণ্য নিয়ে কাজ শুরু করে পরবর্তীতে খুব বিপদে পড়ে যান।

সুতরাং, অফলাইনে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত কেউ না হলে, নবীন উদ্যোক্তাদের উচিত হবে না অ্যামাজন এফবিএ’র ব্যবসায় অতিরিক্ত দামী কোন পণ্য নিয়ে কাজ শুরু করা। তার চেয়ে অল্প কয়েক ডলারের পণ্য বিক্রী করার চেষ্টা করুন। কারণ টাকার অংক কম হলে মানুষ কেনার আগে দুশ্চিন্তা করেন কম। অ্যামাজন FBA প্রোডাক্ট রিসার্চ করে নির্ণয় করুন এরকম কি কি জিনিস রয়েছে। সেসব থেকে নিজের অভিরুচি অনুযায়ী বেছে নিয়ে ব্যবসা করুন।

৫। কম রিভিউ রয়েছে এমন পণ্য বিক্রি করুন

অ্যামাজন এফবিএ’র ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনি ভাবতে পারেন যে, যে সব পণ্যের রিভিউ বেশী সেগুলি নিয়ে ব্যবসা করলেই সবচেয়ে ভালো হয়। কারণ বেশী রিভিউ থাকার অর্থ অনেকজন মানুষে পণ্যটি কিনছেন। এটি সত্য বটে, কিন্তু যে পণ্যের রিভিউ’র সংখ্যা প্রচুর তার বাজারে প্রতিদ্বন্দীর সংখ্যাও স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশী। বহু ব্যবসায়ীই দেখা যাবে কাজ করছেন এই পণ্যটি নিয়ে।

একটি প্রোডাক্টে রিভিউ’র সংখ্যা কম হওয়ার অর্থ সেখানে খুব বেশী বিক্রেতা কাজ করছেন না। সুতরাং, ঐ পণ্যের মার্কেটে আপনার কঠিন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে না। আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা করতে পারবেন।

৬। এমন পণ্য বিক্রি করুন যেটির ভবিষ্যতে চাহিদা বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা আছে

অ্যামাজন এফবিএ’র ব্যবসায় একটি নিখুঁত পণ্য (অর্থাৎ যেই পণ্যের আরও উন্নত সংস্করণ নিয়ে আসার কোন ব্যাপার থাকে না) বিক্রী করা খুব ভাল বুদ্ধি নয়। কারণ এই পণ্য নিয়ে আপনি ভবিষ্যতে নতুন কিছু করতে পারবেন না। আরও উন্নত সংস্করণ নিয়ে আসতে না পারার অর্থ পণ্যের দাম একই রয়ে যাবে। যদিও নিখুঁত পণ্য বলে সেই অর্থে কিছু হয় না (নিখুঁত শব্দটি একটি ধারণা মাত্র), তারপরও এমন অনেক পণ্য রয়েছে যেগুলোর উন্নয়ন করার সুযোগ কম।

যে প্রোডাক্টের ডিজাইন বা গঠনকে আপনি নিজের মত যথেষ্ট পরিবর্তন করতে পারবেন না, সেরকম প্রোডাক্টের মাধ্যমে অ্যামাজন এফবিএ’তে নিজের ব্র্যান্ড গড়ে তোলা সম্ভব নয়। প্রোডাক্টের রিসার্চের সময় তাই এমন পণ্য বেছে নিন যেগুলিতে নিজের সৃজনশীলতা ও পরবর্তীতে আরও পরিবর্তন সাধনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। যেমন : বাচ্চাদের স্কুলের ব্যাগ এমন একটি প্রোডাক্ট। আপনি পাইকারী কম মূল্যে অনেক ব্যাগ কিনে আনতে পারেন। তারপর যদি নিজের ডিজাইনে সেগুলিতে কিছু পরিবর্তন করেন, তাহলেই যথেষ্ট মুনাফা করে সেই ব্যাগ বিক্রী করতে পারবেন।

প্রয়োজন মনে হলে পড়ে দেখতে পারেন –

৭। “গেটেড” ক্যটাগরির পণ্য বিক্রি করবেন না

অ্যামাজন এফবিএ’তে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কিছু পণ্য আছে যেগুলো ওয়েবসাইটে বিক্রী শুরু করার আগে আপনাকে অ্যামাজনের অনুমতি নিতে হবে। এগুলি “গেটেড” ক্যাটাগরীর পণ্য। এসব পণ্য বিক্রী করতে হলে একটি পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন প্রক্রিয়া পার হয়ে আসতে হবে ব্যবসায়ীকে। যে কারণে, একজন নতুন উদ্যোক্তার জন্য এ ধরণের জিনিস বিক্রী করতে না যাওয়াই মঙ্গল।

কিছু পণ্যকে অ্যামাজেন “গেট” করে থাকে। এই নির্দিষ্ট পণ্যগুলোর বিক্রীকে অ্যামাজন “গেট” করে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পর থেকে তারা এই বিষয়ে আরও সতর্ক হয়েছে। অ্যামাজন চায় না তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নকল, ভুয়া বা কম মানসম্পন্ন পণ্য বিক্রী হোক।

গেটেড ক্যাটাগরীর এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে : ডিভিডি, হাত ঘড়ি, মুদি দোকানের মালামাল, খাবার, ফাইন আর্টস ইত্যাদি। তাছাড়া বড় দিনের সময় অ্যামাজন খেলনা এবং গেমসও গেট করে থাকে।

৮। আইনী ঝামেলা হতে পারে এমন পণ্য বর্জন করুন

অ্যামাজন এফবিএ’র পণ্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এমন পণ্য এড়িয়ে চলুন যেগুলির জন্য আইনী ঝামেলায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কি ধরণের পণ্যে আপনি আইনগত সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন সেটি জানা থাকা দরকার সেই জন্য। এরকম পণ্যের মধ্যে রয়েছে : খাবার, ভিটামিন, কসমেটিক্স, অথবা এমন অন্য যেসব পণ্যই একজন ভোক্তা শরীরের অভ্যান্তরে নিয়ে থাকেন, বা চুলে কি ত্বকে প্রয়োগ করে থাকেন। যদি আইনগত ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চান, তাহলে এমন পণ্য বেছে নিন যেগুলি মানুষ খায়ও না, মাথায়ও (বা ত্বকে) দেয় না। নতুন উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে অন্তত এই বিষয়টি মেনে চলতে হবে।

আপনার অ্যামাজন এফবিএ’র ব্যবসার জন্য এমন পণ্য নির্বাচন করুন যেগুলি সহজ এবং নিরাপদ। যেমন, ক্যানভাসের ব্যাগ, কলম, কাপড়, নোটবুক, চাদর, ইত্যদি। আরো এরকম হাজার হাজার পণ্য প্রোডাক্ট রিসার্চ করে বের করতে পারবেন যেগুলি নিয়ে আইনী ঝামেলায় কেউ সাধারণতঃ পড়ে থাকেন না। খাবার, ঔষধ, কসমেটিক্স জাতীয় পণ্যগুলো সাধারণতঃ প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বিক্রী করা নিরাপদ।

কারণ এসব কোম্পানীর পেছনে কোটি কোটি টাকা খাটছে। তারা যদি একটি আইনী ঝামেলায় পড়েন, তো সেটির বিরুদ্ধে প্রস্তুতিও তাদের নেয়া আছে। আপনি যদি একজন নবীন উদ্যোক্তা হন, যিনি কম পুঁজিতে সবেমাত্র ব্যবসা শুরু করছেন, আপনার এই জাতীয় ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য বিক্রী করা ভাল সিদ্ধান্ত হবে না।

৯। অতিরিক্ত নাজুক পণ্য এড়িয়ে চলুন

আপনি যদি খুবই উচ্চমাত্রার সহনশীল একজন মানুষ হন এবং টাকা পয়সা বিষয়ে তেমন মায়া না করেন, তাহলে সহজেই ভেঙে যায় এমন বিভিন্ন পণ্য যেমন : চশমা, সিরামিকে মগ, প্লেট, লাইট বাল্ব এসব বিক্রী করতে পারেন। এসব পণ্য বিক্রয়ের একটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে, প্রচুর পরিমাণ পণ্য আপনার ক্রেতাদের কাছ থেকে নিয়মিত ফেরত আসবে। কারণ, পরিবহনকালে ভেঙে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়া এসব পণ্যের ক্ষেত্রে অবধারিত। আর পণ্য যখন নষ্ট হবে তখন দোষ কিন্তু আপনাকেই দিবেন ভোক্তা।

পরিবহন ব্যবস্থা বা স্টোরেজ সিস্টেমের দোষ হলেও সেটি কাউকে বোঝাতে পারবেন না আপনি। কারণ ক্রেতা পণ্য কিনছেন আপনার কাছ থেকে, সুতরাং দ্বায়িত্ব আপনারই। পণ্য যেভাবেই ভেঙে যাক, আপনাকে “রিটার্ণ”এর বিষয়টি সামাল দিতে হবে।

নষ্ট পণ্যের জন্য আপনি হয় টাকা ফেরত দিবেন অথবা বদলে নতুন জিনিস পাঠাবেন। এই পুরো বিষয়টিই অত্যান্ত ঝামেলার। বিশেষ করে প্রতি মাসেই অসংখ্যবার যখন কাজটি করতে হবে তখন নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে আপনি দিশেহারা হয়ে পড়বেন।

বিষয়টি চিন্তা করে দেখুন। যদি পণ্য ফেরত নিতে, টাকা ফেরত দিতে, বদলে নতুন পণ্য দিতে আপনার সমস্ত সময় চলে যায়, তাহলে আপনি পণ্য বিক্রী, ব্র্যান্ড নির্মাণ এসবে সময়টা দিবেন কখন? সুতরাং সেই অনুযায়ী টেকসই ধরণের পণ্য বেছে নিন।

শেষ কথা

অ্যামাজন এফবিএ’র মাধ্যমে ব্যবসা করে সফল হতে চাইলে নতুন উদ্যোক্তাদের এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা দরকার। আপনি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী যখন হয়ে যাবেন, তখন অনেক কিছুই করতে পারবেন, কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমন করে, বাস্তবতার নিরিখে কাজ করা উচিত। সকলের অনলাইন পরিক্রমণ শুভ হোক।

লিখেছেন : সালেহ মুহাম্মাদ
এফবি প্রোফাইল : https://www.facebook.com/salehmuhammed99/

প্রয়োজন হতে পারে এমন কিছু প্রকাশনা-

Leave a Comment