গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করার নিশ্চিত উপায়

গুগল অ্যাডসেন্স (ইংরেজি: Google AdSense) গুগল পরিচালিত একটি ডিজিটাল মার্কেটিং পরিষেবা। গুগল অনুমোদিত একজন Google AdSense প্রোগ্রামে অনুমোদন প্রাপ্ত Publisher বা প্রকাশক তার ওয়েবসাইটে বা ইউটিউব চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করতে সক্ষম হয়ে থাকেন।

এটি মূলত একটি লভ্যাংশ অংশীদারি প্রকল্প। লভ্যাংশ অংশীদারি প্রকল্প অর্থ হচ্ছে- গুগল তাদের গুগল এডওয়ার্ডস প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে (যেমন- ওয়েবসাইট, ইউটিউব, মোবাইল অ্যাপস) ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচাইতে সফল পদ্ধতি – বিজ্ঞাপন প্রচারের বিনিময়ে যে অর্থ গ্রহণ করে তার শতকরা ৬৮% Google AdSense প্রোগ্রামে অনুমোদিত বা এপ্রুভড প্রকাশক পাবেন।

কিভাবে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করা যায় (How to Make Money with AdSense)

একটি ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল বা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস এর মালিক কিছু শর্তসাপেক্ষে তার সাইটে বা অনুমোদনপ্রাপ্ত মাধ্যমে গুগল সরবরাহকৃত বিজ্ঞাপণ প্রদর্শণের মাধ্যমে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে টাকা আয় করতে পারেন।

ধরে নিন, আপনি আপনার ওয়েবসাইটের বিভিন্ন অংশে গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাড প্রদর্শন করেছেন। আপনার ওয়েবসাইটের দর্শক বা ভিজিটর যদি সেই Google AdSense বিজ্ঞাপনে প্রদর্শিত বিষয়বস্তু দেখে তাতে ক্লিক করে তবে সেই বিজ্ঞাপন এর CPC (Cost Per Click) rate বা দর অনুযায়ী আপনি টাকা পাবেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করার পদ্ধতি শতভাগ নির্ভরযোগ্য ও সর্বমহলে স্বীকৃত একটি পন্থা।

কি কি মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য গুগল অ্যাডসেন্স প্রোগ্রামে এপ্লাই করা যায়?

গুগল অ্যাডসেন্স প্রোগ্রামের অনুমোদন নিয়ে সাধারণত তিনটি মাধ্যমে অ্যাড বা বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করা যায়।

১। নন হোস্টেড ব্লগ বা ওয়েবসাইট

অনলাইনে গুগল অ্যাডসেন্স প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে টাকা আয় করার সবচাইতে জনপ্রিয় ও সফল মাধ্যম হচ্ছে নন হোস্টেড ব্লগ বা ওয়েবসাইট।

নন হোস্টেড ব্লগ বা ওয়েবসাইট বলতে সেই সমস্ত ব্লগ বা ওয়েবসাইটকে বলা হয় যেগুলো গুগল এর নিজস্ব ওয়েব হোস্টিং সার্ভিস ব্যবহার না করে স্বতন্ত্রভাবে অন্য কোন ওয়েব হোস্টিং সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের হোস্টিং সার্ভার ব্যবহার করে ব্লগ বা ওয়েবসাইট পরিচালনা করা হয়।

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ টাকা আয় করার জন্য এই পদ্ধতিটি সবচাইতে কার্যকরী।

কেননা এতে করে আপনার ওয়েব সাইটের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে আপনি আপনার ওয়েব পেজের যে কোন অংশে ইচ্ছেমত অ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন বসিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন।

আরও পড়ুন –

২‌। গুগল হোস্টেড ব্লগ বা ব্লগার.কম

আপনি ইচ্ছে করলে ব্লগারদের জন্য গুগলের ফ্রি হোস্টিং সার্ভিস ব্লগার.কম ব্যবহার করে একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে সেই সাইটটির জন্য অ্যাডসেন্স প্রোগ্রামে এপ্লাই করে অনুমোদন প্রাপ্ত হলে অনলাইনে Google AdSense টাকা আয় করতে পারবেন।

ব্লগিং জগতে যারা সম্পূর্ণ নতুন এবং শিক্ষানবিশ তাদের জন্য গুগল পরিচালিত এই সার্ভিসটি খুবই উপযোগী।

কারণ, আপনি ইচ্ছে করলে গুগলের ফ্রি হোস্টিং সার্ভিস ব্যবহার করে যেমন একটি ব্লগ তৈরি করা ও তাতে লেখা প্রকাশ করার বিভিন্ন কৌশলসহ ওয়েব সাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর প্রাথমিক ধারণা সমূহ নিতে পারবেন।

ঠিক তেমনিভাবে আপনার ব্লগটি আপনাকে অতিরিক্ত একটি টাকা খরচ না করেই অনলাইনে টাকা উপার্জন করার সুযোগ প্রদান করবে।

৩। ইউটিউব চ্যানেল

বর্তমানে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে তা গুগল অ্যাডসেন্স প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত করে ঐ ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওতে অ্যাডসেন্স অ্যাড যুক্ত করার মাধ্যমে টাকা উপার্জন করা।

গুগল অ্যাডসেন্স প্রোগ্রামের সাথে কিভাবে যুক্ত হবেন?

অ্যাডসেন্স বা এডসেন্স প্রোগ্রামে যুক্ত হতে হলে অবশ্যই আপনাকে গুগলের প্রোগ্রাম পলিসি সঠিকভাবে অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্লগ বা ওয়েবসাইট অথবা ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হবে।

গুগল অ্যাডসেন্স প্রোগ্রামের পলিসিসমূহ বিস্তারিত জানতে পড়ুন- AdSense Program Policies

আপনার সুবিধার্থে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডসেন্স প্রোগ্রাম পলিসি সমূহ এখানে উল্লেখ করা হলো।

আপনার ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেলে অবশ্যই মৌলিক তথ্যপূর্ণ অর্থাৎ যা অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে চুরি করা হয়নি এমন কিছু (নূন্যতম ৫ – ৭টি) আর্টিকেল বা ভিডিও প্রকাশ করতে হবে।

ব্লগ বা ওয়েবসাইটৈর জন্য অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়ার উপায়

আপনার ওয়েবসাইটটির ডিজাইন ভালো হতে হবে। আর্টিকেলগুলো বিষয়বস্তুর বিভাগ বা ক্যাটাগরি অনুযায়ী সাজাতে হবে।

আপনার ওয়েবসাইটে অন্য কোন অ্যাড নেটওয়ার্ক বা কোম্পানির বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যাবেনা। কেননা, গুগল প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো কোম্পানির অ্যাড থাকলে সেই সাইটটিকে অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল দেয় না।

একটি টপ লেভেল ডোমেইন (.com, .net, .org) থাকতে হবে, ফ্রী সাইট বা সাব ডোমেইন হলে হবে না।

এডাল্ট কনটেন্ট, কপিরাইট কনটেন্ট, হ্যাকিং কনটেন্ট, ক্রাইম, ইলিগ্যাল, ড্রাগ রিলেটেড কনটেন্ট রাখা যাবে না।

ডোমেইন এর বয়স কমপক্ষে ৩ – ৪ মাস হলে ভালো হয়। তবে আপনার ওয়েবসাইটটি যদি মানসম্মত হয় তবে সময়টি অনেক সময় দেখেছি বিবেচনার অধীন থাকে না।

যেমন আমি আমার একটি ব্লগ অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল এপ্লাই করার ১ দিনের মধ্যে পেয়েছি। তখন ডোমেইনের বয়স ছিল মাত্র ১৫ দিন।

আপনি যদি অ্যাডসেন্স প্রোগ্রাম পলিসি সঠিকভাবে অনুসরণ করে আপনার ব্লগটি তৈরি করতে সক্ষম হয়ে থাকেন তবে আর এক মূহুর্ত দেরী না করে নিচে দেয়া লিংকের মাধ্যমে আজই এপ্রুভাল পাবার জন্য এপ্লাই করুন।

এখানে ক্লিক করে গুগল অ্যাডসেন্স প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত হতে এপ্লাই করুন

ব্লগার বা ব্লগস্পট (blogspot.com) ব্লগে অ্যাডসেন্স যুক্ত করার নিয়ম

ব্লগার.কম সাইট এর জন্য অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পদ্ধতি ভিন্ন।

ব্লগার বা ব্লগস্পট.কম সাব ডোমেইন যুক্ত সাইটে অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পেতে হলে ব্লগার.কম এর মেনুবার থেকে আর্ণিংস (Earnings) ট্যাবে প্রবেশ করে Show Ads on blog লেখাটি খুঁজে বের করে তার ডান পাশের Yes রেডিও বাটন এ ক্লিক করে তা সচল করতে হবে।

সাধারণত একটি ব্লগার সাইটে ৫ থেকে ৭টি মানসম্মত লেখা প্রকাশ করা হলেই আপনি Earnings ট্যাবে প্রবেশ করে এই সুবিধাটি পাবেন।

ব্লগার.কম সাইটে অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পাবার জন্য কি কি অতিরিক্ত যোগ‌্যতা থাকা লাগবে?

১। আপনার ব্লগার বা ব্লগস্পট.কম ব্লগে অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পেতে হলে ব্লগের বয়স নূন্যতম ৬ মাস হতে হবে।
২। ব্লগে ভায়োলেন্স বা নূডিটি প্রকাশ করে এমন কোন ছবি, তথ্য চিত্র বা ভিডিও প্রকাশ করা যাবে না।
৩। আপনি ফ্রী গুগল হোস্টিং সার্ভিস ফাইল বা ডাটা হোস্ট করার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না।
৪। আপনার ব্লগে সুলিখিত ২০ থেকে ৩০টি আর্টিকেল প্রকাশ করতে হবে।
৫। ব্লগের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য সমৃদ্ধ পাতা যেমন অ্যাবাউট, কন্টাক্ট পেজ, প্রাইভেসি পলিসি এবং সার্ভিসেস পেজ প্রকাশ করতে হবে।

ইউটিউব চ্যানেলে কিভাবে অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পাবেন?

সাধারণত ইউটিউব চ্যানেল মনেটাইজেশন বা গুগল অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পেতে হলে গুগলের কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।

ইউটিউব চ্যানেলে গুগল অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পাবার শর্তসমূহ

১। ইউটিউব চ্যানেলটির সর্বনিম্ন এক হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে।
২। ওয়াচ টাইম তথা চ্যানেলটি দ্বারা আপলোডকৃত ভিডিওগুলো সর্বমোট ৪০০০ ঘন্টার অধিক সময় ভিউয়ার দ্বারা দেখতে হবে।
৩। অন্য কারো ভিডিও সরাসরি বা সম্পাদনা করে চ্যানেলে প্রদর্শনের জন্য আপলোড করা যাবে না।
৪। একজন ব্যবহারকারী শুধুমাত্র একটি অ্যাডসেন্স একাউন্ট এপ্রুভাল এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
৫। চ্যানেলে গুগল অ্যাডসেন্স প্রোগ্রাম পলিসি ভঙ্গ করে এমন কোন ভিডিও আপলোড করে প্রদর্শন করা যাবেনা।

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে কত টাকা আয় করা সম্ভব?

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় - অ্যাডসেন্স থেকে কত টাকা আয় করা সম্ভব?
গুগল অ্যাডসেন্স থেকে কত টাকা আয় করা সম্ভব?

অনলাইন ব্লগ বা ওয়েবসাইটে অ্যাডসেন্স অ্যাড বসিয়ে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করাটা অনেকটাই নির্ভর করে উক্ত ব্লগ বা ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত ভাষা, জনপ্রিয়তা, ভিজিটরদের উপস্থিতি, আর্টিকেলের মান, আর্টিকেলে ব্যবহার করা কিওয়ার্ড এর CPC Rate প্রভৃতির উপর।

ভাষা – আপনার ওয়েবসাইটের লেখাগুলো যদি বাংলা ভাষায় লেখা হয়ে থাকে তবে অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে ভালো অংকের টাকা উপার্জন করার আশা ছেড়ে দেয়াটাই যুক্তিযুক্ত।

কেননা প্রথমত, বাংলা ভাষার আর্টিকেল তথা কিওয়ার্ডের CPCCPM (Cost Per Thousand Impression) রেট খুবই কম। দ্বিতীয়ত, বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষা বুঝতে সক্ষম এমন ভিজিটর এর সংখ্যাও কম। বাংলা ভাষার কন্টেন্ট এর গড় CPC rate $0.01 থেকে সর্বোচ্চ $2 পর্যন্ত।

অন্যদিকে, আপনি ব্লগ লিখে অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে ভালো অংকের টাকা উপার্জন করতে চাইলে অবশ্যই ইংরেজি ভাষায় ভালো মানের একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করে তাতে নিয়মিত মানসম্মত মৌলিক তথ্যপূর্ণ লেখা লিখে যেতে হবে।

ভিজিটর বা দর্শক – ব্লগে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে উক্ত ওয়েবসাইটে ভিজিটর এর উপস্থিতি বা জনপ্রিয়তা।

মনে করুন, আপনি আপনার ওয়েবসাইটে প্রচুর মানসম্মত এবং তথ্য সমৃদ্ধ আর্টিকেল লিখে প্রকাশ করেছেন। ব্লগে সঠিক নিয়মে অ্যাডসেন্স অ্যাডও বসিয়েছেন। অথচ আপনার ওয়েবসাইটে কোনো ভিজিটর বা দর্শক নেই। তো গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয়টা হবে কি করে?

সুতরাং, গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ পরিমাণ আয় নিশ্চিত করতে আপনাকে আপনার ব্লগে প্রচুর পরিমাণে ভিজিটর আনার ব্যবস্থা করতে হবে?

ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়ানোর উপায়

ব্লগ বা ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়ানোর সবচাইতে কার্যকরী উপায় হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও করার মাধ্যমে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন থেকে অর্গানিক ভিজিটর আনার ব্যবস্থা করা।

কিভাবে এসইও করে ভিজিটর বৃদ্ধি করা যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও কি? এবং- সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করে ভিজিটর বৃদ্ধি করার ১১টি প্রধান কৌশল লেখাসমূহ পড়ে নিতে পারেন।

এইভাবে ব্লগ বা ওয়েবসাইটে ধৈর্য ধরে মানসম্মত লেখা নিয়মিত লিখে যেতে পারলে এবং সেই লেখাগুলো সঠিকভাবে এসইও করে ভিজিটর বৃদ্ধি করতে সক্ষম হলে একটা সময় এমন আসবে যখন আপনি অ্যাডসেন্স ড্যাসবোর্ডে আপনার দৈনিক ও মাসিক আয়ের রিপোর্ট দেখে এতোটাই আনন্দিত হবেন যা একমাত্র উপলব্ধি না করলে বোঝানো সম্ভব না।

অ্যাডসেন্স থেকে টাকা তোলার পদ্ধতি (how to get paid from Google AdSense)

বর্তমানে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করা টাকা পেপাল, চেক অথবা একটি অনলাইন ব্যাংক একাউন্ট এর মাধ্যমে উত্তোলন করা সম্ভব।

তবে যেহেতু বাংলাদেশে পেপাল সার্ভিস নেই তাই নিচে শুধুমাত্র ব্যাংক ট্রান্সফার এর মাধ্যমে কিভাবে ব্লগ বা ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করা টাকা উত্তোলন করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করা হলো।

এক্ষেত্রে প্রথমে আপনার এড্রেস ভেরিফিকেশন এর মাধ্যমে বর্তমান ঠিকানা সংশ্লিষ্ট তথ্য অ্যাডসেন্স একাউন্ট সেটিংসে যুক্ত করতে হবে।

আপনার অ্যাডসেন্স একাউন্টে ১০ ডলার ব্যালেন্স হলে গুগল এর পক্ষ থেকে আপনার ঠিকানায় একটি পিন নাম্বার পাঠানো হবে।

সেই পিন নাম্বারটি অ্যাডসেন্স একাউন্ট এর পিন ভেরিফিকেশন পেজে গিয়ে ভেরিফাইড করা যাবে।

এরপর আপনি পেমেন্ট সেটিংস পেজ এ আপনার ব্যাংক একাউন্ট এর তথ্যাদি যুক্ত করে দিতে পারবেন।

এতে করে আপনার অ্যাডসেন্স এর ব্যালেন্স ১০০ ডলার এর উপরে উঠলে গুগল পরবর্তী মাসের শেষ দশকের মধ্যে আপনার ব্যাংক একাউন্ট এর ঠিকানায় টাকা ট্রান্সফার করে দিবে।

আজ এ পর্যন্তই। যদি কোন প্রশ্ন থাকে তবে নির্দ্বিধায় জানাতে পারেন। আর একটি অনুরোধ। অবশ্যই সোস্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে লেখাটি অন্যকেও পড়ার সুযোগ করে দিবেন।

এছাড়া গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করার উপায় বিষয়ক লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো; অনুগ্রহ করে কমেন্ট করে আমাদের জানাবেন। কেননা, আপনার একটি ছোট্ট মতামত, হতে পারে তা কারো জন্যে নতুন কিছু লেখার প্রেরণার উৎস।

গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাড রেভেনিউ বৃদ্ধি করার উপায়

আপনি ইচ্ছে করলে গুগল অ্যাডসেন্স আপনার কন্টেন্ট এর জন্য যে হারে সিপিসি এবং সিপিএম রেট দিচ্ছে, অর্থাৎ অ্যাড রেভেনিউ রেট; তা দ্বিগুণ বা ক্ষেত্র বিশেষে তিনগুন বাড়িয়ে নিতে পারেন।

বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। মনে করুন, আপনার একটি বাংলা কন্টেন্ট নির্ভর গুগল অ্যাডসেন্স এপ্রুভড সাইট আছে। আপনি সাইটটিতে ১৫০+ আর্টিকেল দিয়েছেন। মোটামুটি তাতে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫০,০০০ ভিজিটর ভিজিট করে থাকেন।

আপনি আপনার অ্যাডসেন্স ড্যাশবোর্ডে গত ২৮ দিনের Earning Report দেখে জানতে পারলেন যে, এই কদিনে যে পরিমানে অ্যাড ক্লিক পড়েছে সেই ক্লিকগুলোর গড় সিপিসি রেট পেয়েছেন ০.০২ ডলার করে। এতে করে গত মাসে আপনার গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় হয়েছে ১০০ ডলার।

আপনি জেনে আশ্চর্য হবেন- একই সংখ্যক আর্টিকেল এবং ভিজিটর থাকা স্বত্বেও আপনি গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাড এর সিপিসি রেট এবং মাসিক আয় তিনগুন বৃদ্ধি করতে সক্ষম।

কিভাবে তা সম্ভব?

গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাড অপ্টিমাইজেশন এর সেরা সমাধান – ইজয়িক (Ezoic)

অ্যাডভার্টাইজিং নেটওয়ার্ক ইজয়িক (Ezoic) ব্যবহার করে খুব সহজেই আপনি আপনার সাইট রেভেনিউ অর্থাৎ গড় সিপিসি (কস্ট পার ক্লিক) এবং সিপিএম (কস্ট পার মাইল বা কস্ট পার থাউসেন্ড ইমপ্রেশন) রেট তথা গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় তিনগুন বৃদ্ধি করতে পারবেন।

অনলাইন বিজ্ঞাপনী সংস্থা ইজয়িক একটি গুগল সার্টিফায়েড পাবলিশিং পার্টনার। ইজয়িক অ্যাড নেটওয়ার্কে সাইন আপ করে খুব সহজেই একটি গুগুল অ্যাডসেন্স সাইটের সর্বমোট সাইট রেভেনিউ আশ্চর্যজনকভাবে বাড়িয়ে নেয়া যায়। আপনি যদি আপনার সাইটে ইজয়িক অ্যাড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অ্যাড সরবরাহ করেন তবে ইজয়িক গুগল অ্যাডসেন্স এর পাশাপাশি অন্যান্য প্রিমিয়াম অ্যাড নেটওয়ার্কের অ্যাডও সাইটে প্রদর্শন করবে।


ইজয়িক অ্যাডস নেটওয়ার্কের অ্যাড বসানোর সুবিধা

  • অ্যাড নেটওয়ার্ক ইজয়িক তার গ্রাহকদের নিজস্ব সিডিএন ব্যবহারের সুযোগ প্রদান করে। ফলশ্রুতিতে সাইটের গতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।
  • সাইটের সবচাইতে ভালো অ্যাড স্লটে ইজয়িক প্রফেশনালদের দ্বারা অ্যাড প্লেসমেন্ট করার কারণে প্রতিটি অ্যাড এর সিপিএম রেট তুলনামূলকভাবে সবসময়ই বেশী পাওয়া যায়।
  • ইজয়িক যে হারে সিপিএম রেট দিয়ে থাকে তা গুগল অ্যাডসেন্স এর তুলনায় অনেক বেশী। যেমন- একটি বাংলা ভাষার অ্যাডসেন্স সাইটের গড় সিপিএম রেট যেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ০.০১ থেকে ১.০০ ডলার এর মধ্যে উঠানামা করে, সেখানে একই সাইটের ইজয়িক সিপিএম রেট অর্থাৎ প্রতি ১০০০ ভিউ এর জন্য ২ থেকে ৫ ডলার পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব।
  • বাংলা ভাষার সাইট অ্যাপ্রুভ করা যায়।
  • গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাডস এবং ইজয়িক অ্যাডস একই সাথে সাইটে ব্যবহার করা যায়। এতে করে গুগল অ্যাডসেন্স পলিসির কোন প্রকার ভায়োলেশন হয় না। ফলশ্রুতিতে ইজয়িক ব্যবহার করায় পলিসি ভায়োলেশনের কারনে অ্যাডসেন্স একাউন্ট সাসপেন্ড হবার ভয় নেই।
  • খুব সহজেই পেওয়িয়ার ব্যবহার করে ইজয়িক অ্যাডস এর মাধ্যমে আয় করা টাকা উত্তোলন করা যায়।

ইজয়িক অ্যাডস নেটওয়ার্কের অ্যাড বসানোর অসুবিধা

  • সিপিসি (কস্ট পার ক্লিক) পদ্ধতিতে আয় করা সম্ভব না। কেননা, ইজয়িক সিপিসি মেথড সমর্থন করে না।
  • সরাসরি বাংলাদেশের ব্যাংকে টাকা জমা হবে না। বরং পেওনিয়ার এর মাধ্যমে বাংলাদেশের যে কোন ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফার করে উত্তোলন করতে হয়।

ইজয়িক অ্যাডস নেটওয়ার্কে এপ্লাই করে অনুমোদন পেতে হলে সাইটের যে সকল যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন

যে সমস্ত সাইটের ভিজিটর কম সে সমস্ত সাইট এপ্রুভ করানো সম্ভব না। কেননা, ইজয়িক অ্যাডস ব্যবহার করতে হলে আপনার সাইটে আবেদন করার আগের তিন মাসে নূন্যতম ৫০,০০০ ভিজিটর সেশন থাকতে হবে। অর্থাৎ ৫০,০০০ বার আপনার সাইটে ভিজিটরদের উপস্থিতি থাকার প্রমাণ থাকতে হবে।

ইজয়িককে সাইটের বিভিন্ন তথ্য জানার জন্য আপনার  গুগল এনালাইটিক্স একাউন্ট ব্যবহার করার অনুমতি দিতে হবে। এ কারণে আপনার সাইটের হিডারে অবশ্যই গুগল এনালাইটিক্স কোড বসাতে হবে।

এছাড়া, ইজয়িক যেহেতু গুগল অ্যাডসেন্স এর সকল নীতি অনুসরণ করে থাকে সেকারণে গুগল অ্যাডসেন্স এর প্রোগ্রাম পলিসি মেনে চললেই ইজয়িক অ্যাড নেটওয়ার্কে খুব সহজেই এপ্লাই করে অনুমোদন পাওয়া যায়। এর জন্য আলাদাভাবে গুগল অ্যাডসেন্স এর এপ্রুভাল নেয়ার প্রয়োজন হয় না।

সম্পাদকের বাছাই –

Leave a Comment