গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কি? জেনে নিন গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের ব্যবহারবিধি

তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির জোয়ারে প্রতিনিয়তই এগিয়ে চলেছে গোটা পৃথিবী। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতির বদৌলতে বর্তমানে আমরা এমন কিছু বিশেষ সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি যা কিছু বছর আগে কল্পনাও করা যেতোনা। ছোট্ট একটি উদাহরণ দেয়া যাক। কখনো কি ভাবতে পেরেছিলেন হাতে থাকা স্মার্টফোনটিকে আবহাওয়ার খবর দিতে বললে কিংবা প্রিয় কোনো গান প্লে করতে বললে স্মার্টফোনটি সে কমান্ড ফলো করে সাথে সাথে সেটি করে ফেলবে? গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজগুলো কিন্তু ঠিক এমনই।

বর্তমানে নির্ভরযোগ্য ভার্চুয়াল সহকারী হিসেবে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টকে মোটামুটি সবাই চেনেন। প্রযুক্তির বাজারে অন্যান্য জনপ্রিয় কয়েকটি ভার্চুয়াল সহকারী সফটওয়্যার যেমন যেমন অ্যাপলের সিরি, আমাজনের অ্যালেক্সা থাকার পরেও বিভিন্ন আকর্ষণীয় ফিচার থাকায় পাশাপাশি ইউজার ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস থাকায় গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের গুরুত্ব দিনদিন বেড়েই চলেছে।

তবে অনেকেই রয়েছেন যারা এটির ব্যবহার সম্পর্কে অবগত নন ৷ আবার অনেকেই রয়েছেন যারা বাংলা ভাষায় এই সফটওয়্যারটি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে চান। তাই আজকের লেখায় থাকছে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা যা থেকে আশা করছি সকলেই নতুন কিছু জানতে পারবেন৷

আরও পড়ুন-

গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কি?

গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কি
গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কি?

ছোট-বড় যেকোনো কাজেই একজন সহকারী কিংবা অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকলে কাজগুলো আরো গুছিয়ে সহজেই তুলনামূলকভাবে তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করে ফেলা যায়। গুগল মূলত এ ধরণের ভাবনা থেকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কাজগুলোকে আরো সহজ করে তুলতেই নিয়ে এসেছে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট নামের একটি সফটওয়্যার যা বর্তমানে ভার্চুয়াল সহকারী নামে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমাদৃত। চলুন শুরুতেই জেনে নেয়া যাক গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট আসলে কি!

সহজ বাংলায় গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট হলো গুগলের তৈরি করা একটি ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট সফটওয়্যার যেটি আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স এর মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। মজার নিষয় হলো গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট টু ওয়ে কনভার্সেশনে অংশ নিতে সক্ষম। অর্থাৎ চাইলে আপনি এই সফটওয়্যারটির সাথে কনভার্সেশন ও করতে পারবেন।

গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টে স্মার্ট ভয়েস কন্ট্রোলের সুবিধা থাকার ফলে এটিতে নিজের স্বাভাবিক কন্ঠস্বর ব্যবহার করে সহজেই যেকোনো ভয়েস কমান্ড করা যায়। ইন্টারনেটে কোনো কিছু সার্চ করা, যেকোনো গান প্লে করা, আবহাওয়ার খবর জানা ইত্যাদি যেকোনো কিছুই গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টে ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করে করে ফেলা সম্ভব। পাশাপাশি গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টে কীবোর্ডের সাহায্যে টেক্সট ব্যবহার করে অর্থাৎ চাইলে টাইপ করেও বিভিন্ন কমান্ড দেয়া যায়।

২০১৬ সাল থেকে চালু হওয়া গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট মূলত স্মার্টফোন এবং বিভিন্ন স্মার্ট হোম ডিভাইসের জন্য তৈরি করা হয়েছে। শুরুতে এটি গুগলের পিক্সেল ফোনের জন্য তৈরি করা হলেও বর্তমানে এটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, আইফোন ছাড়াও বাড়িতে থাকা বিভিন্ন স্মার্ট হোম ডিভাইসেও ব্যবহার করা যায়।

এখন যদি এই সফটওয়্যারটির ভাষার ব্যাপারে বলি তাহলে বলতে হয় এটি শুধুমাত্র ইংরেজি ভাষা সমর্থন করাতেই থেমে নেই৷ গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বর্তমানে ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, ইতালীয় ইত্যাদি ৩০ টিরও অধিক ভাষা সমর্থন করে। তবে ব্যবহারকারীদের তাদের ডিভাইসে কেবলমাত্র একটি ভাষাই ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি কোনো কমান্ড দেয়ার সময় দুটি ভাষার মিশ্রণ করা যাবেনা।

কিভাবে স্মার্টফোনে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন্সটল এবং অ্যাকটিভেট করবেন

আমাদের দেশে মূলত স্মার্টফোনগুলোতেই গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বেশি ব্যবহৃত হয়। তাই চলুন জেনে নেই অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন এবং আইফোনে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন্সটল এবং অ্যাকটিভেট করার উপায়।

অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন

অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করতে হলে স্মার্টফোনটি অন্তত অ্যান্ড্রয়েড ৫+ অপারেটিং সিস্টেমচালিত এবং ১ গিগাবাইট র‍্যামবিশিষ্ট হতে হবে। আবার স্মার্টফোনটি যদি অ্যান্ড্রয়েড ৬+ অপারেটিং সিস্টেম চালিত হয় তাহলে অন্তত ১.৫ গিগাবাইট র‍্যামবিশিষ্ট হতে হবে। সফটওয়্যারটি ইন্সটল করার জন্য গুগল প্লেস্টোরের সার্চবারে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট লিখে সার্চ দিন। এরপর সেটি ইন্সটল করুন।

সফটওয়্যারটি ইন্সটল হওয়ার পর আপনার স্মার্টফোনের হোম বাটনটি কয়েক সেকেন্ডের জন্য প্রেস করুন । এরপর গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনসে অ্যাগ্রি করুন। এরপর ভয়েস কমান্ড অপশনটি অ্যাকটিভেট করে ওকে গুগল টুগল অপশনটি চালু করুন। ব্যাস, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট আপনার ভার্চুয়াল সহকারী হতে পুরোপুরি প্রস্তুত !

আইফোন

আইফোনের ক্ষেত্রে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করতে হলে আইফোনের অপারেটিং সিস্টেম আইওএস ৯.১ এর অধিক হতে হবে। আইফোনের অ্যাপ স্টোরেও অ্যান্ড্রয়েডের মতো একইভাবে সার্চবারে সার্চ করার মাধ্যমে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট সফটওয়্যারটি খুঁজে বের করে সেটি ইনস্টল করুন। এরপর এটি যেসব ডিভাইসেস যেসব জায়গার অ্যাকসেস চাইবে সেগুলোয় অ্যাকসেস দিন। এরপর ওকে গুগল অপশনটি অ্যাকটিভেট করে চারবার “হে গুগল” কমান্ডটি দিন। সবশেষে ওকে গুগল কমান্ডটি ব্যবহার করে সফটওয়্যারটি আইফোনে সফলভাবে অ্যাকটিভেট করে নিন ।

কিছু দিক-নির্দেশনা

মনে রাখবেন, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট যে ডিভাইসেই ইন্সটল করে অ্যাকটিভেট করুন না কেনো, ইন্সটল করার পর “ওকে গুগল” কিংবা “হে গুগল ” বলে তারপর ভয়েস কমান্ড দিতে হবে। এ ভয়েস কমান্ডগুলো না দিলে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট আপনার অন্যান্য কোনো ভয়েস কমান্ডই ফলো করতে পারবেনা। তাই এ বিষয়টি সবাই বিশেষ করে নতুন ইউজাররা অবশ্যই মাথায় রাখবেন।

আগেই বলেছি, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টে নিজের কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে ভয়েস কমান্ড দেয়া যায়। এখন সবার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে তাহলে কি একজনের স্মার্টফোন ব্যবহার করে অন্য যে কেউ তার ডিভাইসে থাকা গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করতে পারবে?

এ প্রশ্নের উত্তর হলো আপনি চাইলেই এ সফটওয়্যারে আপনার নিজের কণ্ঠস্বর সেইভ করে রাখতে পারবেন৷ এমনকি এটির সাহায্যে স্মার্টফোন লক করেও রাখতে পারবেন। ফলে অন্য কেউ আপনার ডিভাইসে তার কণ্ঠস্বর দিয়ে কোনোরকম ভয়েস কমান্ড দিতে পারবেনা।

গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট যেসব কাজে ব্যবহার করতে পারবেন

যখন গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট নতুন এসেছিলো, তখন বহু মানুষ এটির ব্যবহার জানতোনা৷ কিন্তু যতই দিন গেছে ততই মানুষ তাদের নিত্যদিনের বিভিন্ন কাজ সহজ করতে এটি ব্যবহার করেছে।

চলুন তবে জেনে নেয়া যাক গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যবহার সম্পর্কে –

ইভেন্ট রিমাইন্ডার

গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের দারুণ এ ফিচারটি ব্যবহার করতে হলে ডিভাইসে অবশ্যই গুগল ক্যালেন্ডার ইন্সটল করা থাকতে হবে। প্রথমেই গুগল ক্যালেন্ডারে আপনার প্রয়োজনীয় ইভেন্টগুলো কত তারিখে আছে সেটি সময়সহ ইভেন্ট আকারে সেইভ করে নিন। এরপর গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টকে যদি সে ইভেন্টগুলোর আগে আপনাকে রিমাইন্ডার দিতে বলেন তাহলে দেখবেন আপনার প্রতিটি ইভেন্টের আগেই গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিমাইন্ডার দিচ্ছে।

আমাদের প্রতিদিনই মিটিং, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ক্লাস ইত্যাদি বিভিন্ন ইভেন্ট থাকে। কাজের চাপে কোনো ইভেন্ট ভুলে যাওয়া মোটেও অস্বাভাবিক নয়। তবে যদি গুরুত্বপূর্ণ কোনো ইভেন্টের ব্যাপারে ভুলে যান তাহলে সেটি কিন্তু লাভের বদলে ক্ষতি ই বয়ে আনবে। এ ক্ষতি থেকে বাঁচতে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের ইভেন্ট রিমাইন্ডার ফিচারটি ব্যবহার করে অবশ্যই উপকৃত হতে পারবেন।

কল করা এবং মেসেজ পাঠানো

কল করা এবং মেসেজ পাঠানো

কাউকে কল করতে কিংবা মেসেজ পাঠাতে চাইলে ডিভাইসের কল করার কিংবা মেসেজ পাঠানোর অপশনটি তো অনেক ব্যবহার করলেন। যদি এসব কাজের চেনা প্রক্রিয়াতে একটু নতুনত্ব আনতে চান তাহলে ব্যবহার করতে পারেন গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট। এক্ষেত্রে কল করতে চাইলে বলতে হবে ” হে গুগল! মেইক এ কল টু “। এটি বলার পর গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কন্টাক্ট লিস্ট থেকে কাকে কল করতে হবে তা জানতে চাইবে এবং তা সিলেক্ট করে কল করতে পারবেন।

একইভাবে কাউকে মেসেজ পাঠানোর জন্য ” হে গুগল! সেন্ড অ্যা মেসেজ টু ” কমান্ড দেয়ার পর কন্টাক্ট লিস্ট থেকে যাকে মেসেজ পাঠাতে চান তার নাম সিলেক্ট করে এবং কি মেসেজ পাঠাতে চান তা টাইপ করে কিংবা মুখে বলে মেসেজটি পাঠিয়ে দিতে পারবেন।

পছন্দের যেকোনো গান প্লে করা

কোনো গান শুনতে ইচ্ছা হচ্ছে ? গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টকে কি গান প্লে করতে হবে সেটি জানিয়ে কমান্ড দিন। দেখবেন সাথে সাথে যে গানটি শুনতে চাইছেন সেটি চালু হয়ে যাবে। গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের উল্লেখযোগ্য ফিচারগুলোর মধ্যে এটি একটি।

সবচে মজার বিষয় হলো যে গানগুলো বেশি শোনা হয় সে গানগুলো প্রিয় গান হিসেবে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট তার মেমোরিতে টুকে রাখে। পরবর্তীতে যখন “হে গুগল! প্লে মাই ফেভারিট সং ” কমান্ডের মাধ্যমে প্রিয় গান প্লে করতে বলা হয় তখন মেমোরিতে টুকে রাখা সে গানগুলোই গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্লে করে থাকে। এছাড়া চাইলে নিজের প্রিয় গান কোনটি এটিও গুগলের এ ভার্চুয়াল সহকারীকে জানিয়ে রাখতে পারেন।

ট্রান্সলেশন কিংবা ভাষা অনুবাদ

ট্রান্সলেটর কিংবা অনুবাদক হিসেবে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট অসাধারণ। বিদেশি ভাষা সম্পর্কে কমবেশি সবারই আগ্রহ থাকে। পত্রিকা , সিনেমা, টিভি সিরিজ থেকে জানতে পারা কোনো একটি নতুন বিদেশি শব্দ চাইলেই গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে এক সেকেন্ডে অনুবাদ করে নিতে পারবেন ।

শুধু তাই নয় ,যারা অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সিং করেন তাদেরকে প্রায়ই বাইরের দেশের ক্লায়েন্টদের সাথে কথা বলতে হয়। যদি কথা বলার সময় ক্লায়েন্ট তার নিজের ভাষার কোনো শব্দ ব্যবহার করে তখন গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করে এক নিমিষেই সে শব্দের অর্থ জেনে নিতে পারবেন। তাই বলা যায়, ইফেকটিভ কমিউনিকেশনের নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রেও গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কোনো স্থানের আবহাওয়া সম্পর্কে পূর্বাভাস

আবহাওয়া এমন একটি বিষয় যেটি আমরা মানুষেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনা। আমাদের অনেক সময় আবহাওয়া মাথায় রেখেই কোথাও যাওয়ার প্ল্যান করতে হয়। গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের সাহায্যে চাইলে বাড়িতে বসেই যেকোনো স্থানের আবহাওয়া কেমন হবে সে সম্পর্কে আগেই জানা যায়। গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টকে “হে গুগল! আই ওয়ান্ট টু নো দা ওয়েদার অফ ” তারপর যে স্থানের আবহাওয়া জানতে চান সেটি বললেই সাথে সাথে সে স্থানের আবহাওয়া সম্পর্কে জানতে পারবেন।

এখানেই শেষ নয় , চাইলে কোনো স্থানের ভবিষ্যৎ আবহাওয়াও গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে বের করে ফেলা সম্ভব। ধরুন শীতকালে আপনি কোনো ট্যুরিস্ট স্পটে যাবেন, সেখানকার আবহাওয়া কেমন থাকবে আপনার জানা প্রয়োজন যেনো সে অনুযায়ী শীতের কাপড়চোপড় নিতে পারেন। এক্ষেত্রে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট সহজেই বলে দিতে সক্ষম সে স্থানের আবহাওয়া আপনি যাওয়ার সময়কালে কেমন থাকবে। ফলে সহজেই আপনি সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ঘুরতে যেতে পারবেন।

অবসর সময়ের বিনোদন

অবসর সময়ের বিনোদন

অবসর সময়ে একটু বিনোদনের খোরাক তো সবাই খুঁজি। এক্ষেত্রেও চাইলে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের সহায়তা নিতে পারেন। আপনি যদি কোনো বই পড়তে চান তাহলে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টকে বলুন, ” হে গুগল! আই ওয়ান্ট টু রিড এ বুক “।

যদি ডিভাইসে কোনো অডিওবুক সেইভ করা থেকে থাকে তাহলেই এ ফিচারটি ব্যবহার করতে পারবেন। আবার যদি কোনো গেইম খেলতে চান তাহলে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টকে সেভাবে কমান্ড দিলেই দেখতে পাবেন একে একে বিভিন্ন গেইমের অপশন চলে আসছে যেগুলোর মধ্য থেকে খেলার জন্য পছন্দসই গেইম খুব সহজেই বেছে নিতে পারবেন ।

গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের অন্যান্য ব্যবহার

  • গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কতটুকু কার্যকরী এটি বলে বোঝানো সম্ভব নয় । চলুন জেনে নেই গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের অন্যান্য কিছু ব্যবহার –
  • গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের সাহায্যে ডিভাইসের ক্যামেরা ওপেন করে ছবি তুলতে পারবেন ।
  • গ্যালারি থেকে প্রয়োজনীয় ছবি খুঁজে নিতে পারবেন।
  • যেকোনো পণ্যের বারকোড স্ক্যান করে পণ্যের গুণগত মান জানতে পারবেন ।
  • খাবার অর্ডার দেয়ার জন্য কিংবা পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো সময় কাটানোর জন্য রেস্টুরেন্টে খুঁজতে পারবেন ।

আজকের লেখায় চেষ্টা করেছি গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়ে বিস্তারিতভাবে সবকিছু জানানোর। প্রকৃতপক্ষে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট এমন একটি সফটওয়্যার যেটি দিয়ে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজ অল্প সময়ে সহজেই করে ফেলা যায়। পাশাপাশি এ সফটওয়্যারটিতে নিয়মিত আপডেট আসায় নতুন নতুন ফিচার যুক্ত হওয়ায় দিনদিন এটি আরো উন্নত হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, যারা এটি সম্পর্কে কিছুই জানেননা তারাও অল্প সময়েই এটির ব্যবহার শিখে নিতে পারবেন। গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের ইন্টারফেস এতটাই ইউজার ফ্রেন্ডলি। তাই যারা তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের জীবনযাত্রা আপডেটেড রাখতে চান , তারা নির্দ্বিধায় গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করতে পারেন। আশা করি নিরাশ হবেননা ।

প্রাসঙ্গিক লেখাসমূহ-

Leave a Comment