ব্লগিংয়ে পেশাদারিত্ব : জেনে নিন গুগল-সার্চ-কনসোলের মৌলিক বিষয়গুলো

ব্লগিং একটি ব্যবসা। কেউ যদি, এক হাজারের অধিক শব্দে পঞ্চাশের বেশী ব্লগপোস্ট লিখে গুগল এডসেন্সের অনুমোদন যোগাড় করেন এবং তাকে পুঁজি করে ব্লগ থেকে আয় করেন, সেটি শুধুমাত্র শৌখিনতার বশে ঘটতে পারে বলে মনে হয় না। এই জন্য প্রয়োজন পেশাদারী মনোভাব এবং ব্যাবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি।

শৌখিনতার সাথে ব্যবসায়িক মনোভঙ্গির পার্থক্য হল, অস্পষ্ট বা অনির্দিষ্ট (‘ভেইগ’) পথে ব্যাবসায়ী অগ্রসর হন না। একজন শৌখিন ব্লগার ব্লগ বানিয়ে ভাবতে পারেন – লিখতে থাকি , দেখি সামনে কি হয়। কিন্তু পেশাদার ব্লগার এই কাজ করেন না। তিনি যথাসম্ভব সুনির্দিষ্ট তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করবেন। এবং সেই উপাত্তের ভিত্তিতেই স্থির করবেন তার ভবিষ্যত কর্ম-পরিকল্পনা।

পেশাদার ব্লগারের জন্য ইদানীং কালের একটি অপরিহার্য “টুলস” হচ্ছে “ গুগল সার্চ কনসোল”। আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটটি কোন পথে চলছে, অন্তর্জালের অন্য (Internet Community) বাসিন্দাদের কাছে সেটি কিরূপে দেখা দিচ্ছে, এরকম বিষয়গুলোকে সংখ্যা এবং লেখচিত্রের মারফতে আপনার কাছে হাজির করবে গুগল সার্চ কনসোল।

গুগল সার্চ কনসোলকে যদি আপনি ঠিকমত বুঝতে পারেন, তাহলে সার্চ কনসোলের ‘পারফর্মেন্স’ পাতার দিকে এক নজর তাকালেই আপনি আপনার ব্লগের গতি প্রকৃতি সমন্ধে একটি স্পষ্ট ধারণা পাবেন।

বিগত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার ভোল পাল্টেছে গুগল-সার্চ-কনসোল। এর কারণ, গুগল তাদের এই সেবাটিকে ক্রমাগতই উন্নত করেছে, এবং এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাছাড়া ইন্টারনেট যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই সার্চ-ইঞ্জিন সম্পর্কিত নতুন নতুন ধারণারও সৃষ্টি হচ্ছে। গুগলও প্রতিবারই সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে তাদের সেবায়।

গুগল সার্চ কনসোল কি?

‘গুগল সার্চ কনসোল’ মানবজাতির জন্য গুগলের বিনামূল্যে প্রদত্ত একটি সেবা। “গুগল সার্চ রেজাল্টে আপনার সাইটের অস্তিত্ব পর্যবেক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং (সাইটের পেজের) ত্রুটি সমাধানে সহায়তা করে গুগল সার্চ কনসোল”। ২০১৫ সালের ২০ মে অবধি, এই সেবাটির নাম ছিল “ গুগল ওয়েবমাস্টার টুলস”। এরপর ২০১৮ সালে সার্চ কনসোলের একটি নতুন সংস্করণ চালু করে গুগল। সেখানে “ইউজার ইন্টারফেস” -এ বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালে আবারও গুগল তাদের এই সেবায় কিছু পরিমার্জন করে। “হোম” এবং “ ড্যাশবোর্ড” এই দুটি পেজ বাদ পড়ে এই দফায়।

আপনি কেন গুগল সার্চ কনসোলের শরণাপন্ন হবেন?

এক নম্বর কারণ, এটি খোদ গুগলের সেবা। গুগলই তো পৃথিবীর অন্তর্জালকে (তথা গোটা পৃথিবীকেও হয়তো) নিয়ন্ত্রণ করে। আপনার অনলাইন ব্যবসায়িক কার্যক্রমের প্রায় নব্বই ভাগই গুগলের মেজাজ-মর্জি দিয়ে প্রভাবিত হয়।

সুতরাং, আপনার সাইট সমন্ধে গুগলের মূল্যায়নটি যথেষ্টই মূল্যবান এবং জরুরী।

দ্বীতিয় কারণ, এটি ব্যবহারে আপনার টাকা খরচ হবে না। এটি একটি ফ্রি সার্ভিস।

তিন নম্বর কারণ, সার্চ ইঞ্জিন বিশেষজ্ঞ না হলেও আপনি যদি সরল দু তিনটে বিষয় একটু বুঝে নিতে পারেন (এই পোস্টে যেগুলো বর্ণণা করা হবে) তাহলেই গুগল সার্চ কনসোল আপনার জন্য একটি সহজ ও কাজের জিনিসে পরিণত হবে।

এগুলো অবশ্য আমাদের পর্যবেক্ষণ। গুগল নিজেই তার সার্চ কনসলোর ব্যবহারের পক্ষে কিছু কারণ দিয়েছে।

গুগল যে আপনার ব্লগ বা সাইটের হদিস পেয়েছে , এবং ক্রল করতে পারছে সেটি নিশ্চিত হতে পারবেন সার্চ-কনসোলের মাধ্যমে। গুগলের কাছে আপনার সাইট-ম্যাপ জমা দিতে হলেও আপনাকে সার্চ কনসোল ব্যবহার করতে হবেl

আপনার সাইটে কোন ত্রুটিটির কারণে গুগল তাকে ইনডেক্স করতে পারছে না সেই সমন্ধে জানতে পারবেন। নতুন এবং সংশোধিত কন্টেন্টের রি-ইন্ডেক্সিং এর আবেদনও এখান থেকেই করতে হবে।

আপনার সাইটের সাপেক্ষে গুগলের-সার্চ-ট্রাফিকের তথ্য জানতে পারবেন। অর্থাৎ, একটি গুগল সার্চে আপনার সাইটটি কতবার দেখা দেয়, কোন “কোয়েরি” বা জিজ্ঞাসাগুলো সার্চ বক্সের টাইপ করলে গুগল তার প্রথম পাতায় সার্চকারীকে আপনার সাইট প্রদর্শন করে, এবং প্রদর্শন করার পর ক’জন মানুষ আসলেই ক্লিক করে সাইটে আসে – এসব জানা যায়।

গুগল যদি আপনার সাইটে ইনডেক্সিং, স্প্যাম ও অন্যান্য সমস্যা শনাক্ত করে, তাহলে সেটি আপনাকে নোটিফিকেশানের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে।

কোন ওয়েবসাইটগুলো থেকে আপনার লিংকটি লোকে জানছে সেটি জানতে পারবেন।

মোবাইল ব্যবহারকারীরা আপনার সাইটের কোন পেজ দেখতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন কি না সেটি জানতে পারবেন।

গুগল সার্চ কনসোলে যুক্ত হবার নিয়ম

গুগল সার্চ কনসোলে যুক্ত হওয়া তেমন জটিল নয়। যারা ব্লগার দিয়ে ব্লগ বানিয়ছেন, ফেসবুক একাউন্ট খুলেছেন, তাদের কাছে এটি কোন ব্যাপারই না। আপনার গুগল একাউন্ট থাকতে হবে।

এই জামানায় প্রায় সবারই গুগল একাউন্ট থাকে। একান্তই না থাকলে বানিয়ে নিন।

পড়ুন- জিমেইল তথা একটি গুগল একাউন্ট তৈরি করার নিয়ম

তারপর “গুগল সার্চ কনসোল” লিখে সার্চ করুন। রেজাল্টের পেজের শীর্ষেই লিংকটি পেয়ে যাবেন। ক্লিক করুন। নতুন একটি পেজ আসবে। নীল রঙের ‘গেট স্টার্টেড’ বোতামটার ওপর চাপ দিন। আপনি “ওভারভিউ” পাতায় চলে আসবেন এবার। সেখানে একপাশে ‘এড প্রপার্টি’ দেখবেন। ক্লিক করুন। আপনার ওয়েবসাইটের নামটি লিখে দিন। প্রধান কাজ মোটামুটি এতটুকুই।

আপনি একাউন্ট তৈরী করে যুক্ত হওয়ার পর থেকে আপনার সাইটের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করবে গুগল সার্চ কনসোল।
যারা ব্লগার দিয়ে ব্লগ বানিয়েছেন তারা সেটিংস অংশে যান। দেখবেন “ ক্রলার্স এন্ড ইন্ডেক্সিং” অংশের একদম নীচে নীল রঙে গুগল সার্চ কনসোল লেখা। ওখানে ক্লিক করলেই কাজ হয়ে যাবে।

সার্চ কনসোলে সাইটকে যুক্ত করা আপনার হয়ে গেল। এবার এর বিভিন্ন অংশগুলো জেনে নিন।

নতুন ব্লগারদের মধ্যে অনেকেই গুগল-সার্চ-কনসোলের বিভিন্ন পরিভাষাগুলোর অর্থ বুঝতে একটু সমস্যায় পড়ে যান। এখানে সেগুলোর ব্যাখ্যা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করা হল-

গুগল সার্চ কনসোলের বিভিন্ন উপাদান

গুগল সার্চ কনসোল কি?
গুগল সার্চ কনসোল

পারফরম্যান্স রিপোর্ট

পারমরফ্যান্স রিপোর্টে, ‘সার্চ কনসোল’ গুগল সার্চের রেজাল্টগুলোতে আপনার সাইটের পারফরম্যান্সকে বিভিন্ন প্রকার পরিমাপক-ব্যবস্থা বা মেট্রিক্সের সাহায্যে তুলে ধরে। কোন একটি গুগল সার্চে আপনার সাইটটি সাধারণতঃ কতবার সার্চকারীর চোখে পড়েছে, সার্চের ফলাফলগুলোতে তার গড় অবস্থানটি কিরকম, কতবার মানুষ আপনার সাইটের লিংক গুগলের পাতায় দেখতে পেয়ে ক্লিক করেছেন সমস্তটাই পারফরম্যান্স রিপোর্টে জানিয়ে দেয়া হয়।

এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার সাইটের পারফরম্যান্স আরও বাড়াতে পারবেন। যেমন আপনি জানতে পারবেনঃ

  • কিভাবে সময়ের সাথে আপনার সাইটের সার্চ-ট্রাফিক পাল্টে যাচ্ছে।
  • কোন কোন দেশের মানুষ আপনার সাইটে আসে।
  • মানুষ গুগলকে কি জিজ্ঞাসা করার কারণে আপনার সাইটে তাদের পাঠিয়ে দিয়েছে গুগল।
  • স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা কি ধরণের জিনিস ইন্টারনেটে সার্চ করতে গিয়ে আপনার সাইটের খোঁজ পেলেন সেটিও বুঝতে পারবেন।

‘পারফরম্যান্স’ অংশটি থেকে আপনি দেখতে পারবেন ব্লগের কোন পেজ এবং কীওয়ার্ডগুলি গুগলে র্যাংক করেছে। গুগল সার্চ-কনসোলের পুরাতন সংস্করণে আপনি খুব বেশী হলে বিগত ৯০ দিনের তথ্যগুলো দেখতে পেতেন। কিন্তু বর্তমান সংস্করণে ষোল মাস পর্যন্ত তথ্য পাওয়া সম্ভব।

এখানে মনে রাখবেন, আপনি একাউন্ট চালু করার পর থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরুর করবে গুগল সার্চ কনসোল।

পেশাদার ব্লগারের উচিত পারফরম্যান্স রিপোর্টের দিকে নিয়মিত নজর রাখা। তাহলে দ্রুতই ধারণা পেতে শুরু করবেন কোন কী-ওয়ার্ড এবং পেজগুলোর দিকে আরও মনযোগ দেয়া প্রয়োজন।

তো, কোথা থেকে শুরু করা যায়?

পারফরম্যান্স ট্যাবের ভেতরে আপনি দেখবেন একটা গ্রাফ বা লেখচিত্রের মত আছে। ওটার ওপরেই চারটি বাক্সঃ “ক্লিকস”, “ইমপ্রেশান”, “এভারেজ সিটি-আর”, “এভারেজ পজিশান”। এই চারটিকে বুঝতে পারলেই সার্চ-কনসোলের পুরো বিষয়টি বেশ পরিষ্কার হয়ে যায়।

ক্লিকস

ধরুন আপনি গুগলে সার্চ করলেন। অনেকগুলো রেজাল্ট আসল। একটি রেজাল্টে আপনি ক্লিক করলেন। গুগলের পাতাটি ছেড়ে দিয়ে আপনি গুগলের বাইরে একটি পাতায় চলে আসলেন। গুগল থেকে এই বাইরে চলে আসার ঘটনাটিকেই “ক্লিক” হিসেবে বিবেচনা করে গুগল। আপনি ক্লিক করেও যদি গুগলের ভেতরেই থাকেন তাহলে সেটি কিন্তু ক্লিক হিসেবে গণ্য হয় না।

পারফরফ্যান্স রিপোর্টের প্রথম বাক্সটিই ‘ক্লিক’। সেখানে ক্লিকের সংখ্যা দেখানো হয়। এই সংখ্যাটি দেখে আপনি ধারণা পাবেন গুগলের সার্চ রেজাল্টে আপনার সাইটিকে দেখতে পাওয়ার পর মানুষ কতবার সেটিকে ক্লিক করে আপনার সাইটে এসেছে।

এই সংখ্যা থেকে আপনার পেজের শিরোনাম এবং মেটা-ডেস্ক্রিপশানগুলো কেমন কাজ করছে সেটির একটি আন্দাজ পাওয়া যায়। গুগল-সার্চে আপনার পজিশান কেমন সেটিরও একটি প্রভাব পড়বে ক্লিকের সংখ্যার ওপর।

আপনার পেজটি ধরুন গুগলের প্রথম পাতার শীর্ষ তিনটি রেজাল্টের মাঝে দেখানো হয়। সেক্ষেত্রে, বলাই বাহুল্য, আপনার ক্লিকের সংখ্যাও বেশী হবে।

ইমপ্রেশান

একজন গুগল ব্যবহারকারী কিছু সার্চ করলেন। সার্চ রেজাল্টগুলো নিয়ে যে পাতাটি তার কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে হাজির হল সেখানে কোথাও যদি আপনার ব্লগ বা সাইটটি থাকে, তাহলে আপনি একটি “ইম্প্রেশান” পেলেন। এক্ষেত্রে সাইটটি ব্যবহারকারীর চোখে পড়ল কি পড়ল না সেটির সাথে কোন সম্পর্ক নেই।

সাইটটি সার্চ রেজাল্টের পাতায় আসলেই ইম্প্রেশান হিসেব করা হবে। ব্যবহারকারী হয়তো স্ক্রল করে আপনার লিংকটি পর্যন্ত গেলেনও না।

আপনার কীওয়ার্ডগুলো ঠিক কতবার গুগলে সার্চ করা হচ্ছে, তার একটি প্রকৃত হিসেব ইম্প্রেশানের সংখ্যা বিশ্লেষণ করে জানা যায়।

এভারেজ ক্লিক-থ্রু-রেট

ক্লিক-থ্রু-রেট একটি অনুপাত। কতজন মানুষ আপনার লিংকটি তাদের সার্চ রেজাল্টে দেখল, এবং তাদের মধ্যে কতজন ক্লিক করল , সেটিই ক্লিক-থ্রু-রেট। আপনার কী-ওয়ার্ড এবং বিভিন্ন পেজগুলি কতটা ভাল পারফর্ম করছে তার একটি ধারণা আপনি এর থেকে পাবেন।

সার্চ রেজাল্টে আপনার সাইট যতবার দৃশ্যমান হয়, সেই সংখ্যাটি দিয়ে, ব্যাবহারীর ক্লিকের সংখ্যাকে ভাগ করলে যা পাওয়া যায় সেটিই ক্লিক-থ্রু রেট। অর্থাৎ, ক্লিকের সংখ্যাকে ইমপ্রেশানের সংখ্যা দিয়ে ভাগ। আপনি ধরুন ইমপ্রেশান পেয়েছেন ১০০ টি। তার মাঝে ক্লিক করা হয়েছে ৭ বার। তাহলে আপনার সাইটের ক্লিক-থ্রু-রেট সাত শতাংশ। আপনার সি-টি-আর বেশী হওয়ার অর্থ দাড়াবে আপনি যে কন্টেন্ট তৈরী করছেন সেগুলো মানুষের কাজে লাগছে এবং সেগুলি তারা সাধারণতঃ গুগলে যা অনুসন্ধান করেন, সেসবের সাথে প্রাসঙ্গিক।

সি-টি-আর থেকে আপনি হিসেব করতে পারবেন, কোন কী-ওয়ার্ডগুলো আপনার ব্লগের জন্য সবচেয়ে বেশী লাভজনক। কোন পেজগুলি মানুষ বেশী পছন্দ করছে। এবং সেই অনুযায়ী ব্লগের পরিমার্জন পরিবর্ধন করতে পারেন।

আপনি নিজেও কয়েকটি কাজ করে আপনার সি-টি-আর বাড়াতে পারেন। যেমন, আপনি চাইলে আপনার মেটা-ডেসক্রিপশান এবং পেজ-টাইটেলগুলকে পুনঃলিখন করে এমন রূপ দিন যেন মানুষের হৃদয়হরণ করতে পারে।

কারণ ব্যবসাই তো। এসব এক আধটু করতেই হবে। অন্য সার্চ রেজাল্টগুলোর তুলনায় আপনার সাইটের টাইটেল এবং মেটা-ডেসক্রিপশান আকর্ষণীয় হলে, স্বাভাবিকভাবেই বেশী মানুষ ক্লিক করবেন সেখানে। সুতরং আপনার ক্লিক-থ্রু-রেটও বাড়বে।

তবে মাথায় রাখবেন আপনি যদি প্রথম পেজে র্যাংক না করে থাকেন তাহলে এসবে তেমন লাভ নেই। সুতরাং র্যাংক বাড়ানোর দিকেও মনযোগ দিতে হবে।

এভারেজ পজিশান

সার্চ-রেজাল্টে আপনার সাইটের গড় অবস্থানটি কেমন সেটিই এই বাক্সে উল্লেখ করা হয়। আপনার সাইটটি এখন পর্যন্ত সার্চ-রেজাল্টে সর্বোচ্চ যে অবস্থানটিতে আসতে পেরেছিল তার ভিত্তিতেই হিসেব করা হয় এভারেজ পজিশান।

এভারেজ পজিশান থেকে বোঝা যায় , কোন নির্দিষ্ট সময়কালে নির্দিষ্ট একটি কি-ওয়ার্ড বা পেজ কেমন র্যাংক করেছে। বলা বাহল্য এই অবস্থানটি আসলে সবসময় ভরসা করার মত কিছু নয়। কারণ বহু মানুষই অনুসন্ধানে পরস্পরের তুলনায় ভিন্ন ধরণের ফলাফল পেয়ে থাকেন।

সম্ভবতঃ যতই দিন যাচ্ছে, গুগলও আলাদা আলাদা করে কোন মানুষের জন্য কোন রেজাল্টটি প্রয়োজন এটি আরও বেশী করে বুঝতে পারছে। এজন্যই এমন ভিন্নতা।

তারপরও এভারেজ পজিশান কাজের জিনিস বটে। ক্লিকস, ইম্প্রশান এবং এভারেজ সিটিআর এর হিসাবগুলোর একটি ব্যখ্যা আপনি এভারেজ পজিশানের থেকে বুঝতে পারবেন।

টেবিল

ওপরের চারটি বাক্স এবং তাদের সমন্ধীয় লেখচিত্রটির নীচে একটি টেবিল দেখতে পাওয়া যায়। এখানে ‘কোয়েরী’, ‘পেজেস’, ‘ডিভাইস’, ‘কান্ট্রি,’ ‘সার্চ’, ‘এপেয়ারেন্স’, ‘ডেট’ এই অপশানগুলো থাকে। এখানে কোয়োরী, কান্ট্রি, ডিভাইস বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এবং বোঝাও সহজ।

কোয়েরীর তালিকায় আপনি দেখতে পাবেন গুগলকে ঠিক ঠিক কি জিজ্ঞেস করে মানুষ আপনার সাইটে এসেছে। এই কোয়েরী বা জিজ্ঞাসাগুলোর ক্লিক আর ইম্প্রেশানগুলোও পাশে উল্লেখ করা থাকে। ‘কান্ট্রি’ থেকে জানা যায় কোন দেশগুলো থেকে মানুষ এসেছে আপনার সাইটে। আর ‘ডিভাইস’ জানিয়ে দেবে স্মার্টফোন নাকি কম্পিউটার; কোনটি বেশী ব্যবহার করছে মানুষ আপনার সাইটে আসার জন্য।

ইনডেক্স কভারেজ

কারিগরি বিষয় হওয়ায় “ইনডেক্স ট্যাব” সাধারণ লোকদের বোঝার জন্য একটু জটিল। তবে গুগল-সার্চ-কনসোলের এটি অত্যন্ত মূল্যবান একটি অংশ। এই অংশে আপনি দেখতে পাবেন, শেষবার আপডেট করার পর থেকে, এখন অবধি আপনার সাইটের কতগুলো পেজ গুগলের ইনডেক্সে রয়েছে। কোন পেজগুলো নেই সেটিও জানতে পারবেন। এবং জানতে পারবেন, কোন সব ত্রুটি ও সতর্কতার দরুন গুগল আপনার পেজকে ঠিকমত ইনডেক্স করতে পারেনি।

এই ট্যাবটি নিয়মিত লক্ষ্য রাখা দরকার। আপনার ওয়েবসাইটের ত্রুটিগুলো সম্পর্কে এখানেই আপনাকে সতর্ক করবে গুগল-সার্চ-কনসোল। গুগল যখন কোন নতুন ত্রুটি শনাক্ত করবে আপনাকে নোটিফিকেশানের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

সাধারণতঃ এধরণের ত্রুটিগুলি দেখা দেয় যখন, একটি রিডাইরেক্ট ঠিক মত কাজ করতে ব্যর্থ হয়। অথবা আপনার সাইটের থীমের ভেতর গুগল ভাঙা অসম্পূর্ণ কোড বা ত্রুটিপূর্ন পেজ শনাক্ত করে।

লিংকের ওপর ক্লিক করলে, ত্রুটিটিকে আরও গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবেন আপনি। নির্দিষ্ট কোন ইউআরএল-গুলো আক্রান্ত সেটি দেখে নিতে পারবেন। ত্রুটি বা এরর ঠিক করার পর তাকে “ফিক্সড” হিসেবে মার্ক করুন। তাহলে গুগলও নিশ্চিত হবে আপনি ত্রুটির সমাধান করেছেন।

ইউ-আর-এল ইন্সপেকশান

ইউ-আর-ইন্সপেশকাল সার্চ কনসোলের আরেকটি কার্যকরী টুল। এটি দিয়ে নির্দিষ্ট কেন ইউ-আর-এলকে বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করা যায়। গুগলের ইনডেক্সে আপনার পেজটি যেমন এবং বর্তমানে পেজটি যেভাবে আপনার সাইটে বিদ্যমান, এই দু’টির মাঝে তুলনা করে দেখতে পারেন কোন পার্থক্য আছে কি না।

ইন্সপেকশানে আরও কিছু তথ্য জানা যায়। যেমন কখন গুগল আপনার পেজটিকে ক্রল করেছিল, কিভাবে করেছিল, এবং ক্রল করার সময় কেমন দেখাচ্ছিল পেজটিকে সেটিও জানা যায়।

অনেক সময় লক্ষ্য করবেন বেশ কিছু “এরর” উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ, ত্রুটির কারণে গুগল আপনার পেজটিকে ক্রল করতে পারেনি।

সাইটম্যাপ

সাইটম্যাপ খুব জরুরী জিনিস। আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, পেজ, তথ্যের একটি মানচিত্র বলতে পারেন সাইটম্যাপকে। প্রতিটি ওয়েবসাইট বা ব্লগের সাইটম্যাপ থাকা দরকার। সাইটম্যাপ থাকলে, আপনার সাইটের হদিস পেতে গুগলের ওয়েব-স্পাইডগুলোর আরও সুবিধা হয়।

গুগলের কাছে আপনার সাইটম্যাপ জমা দেয়ার জায়গা হচ্ছে “গুগল সার্চ কনসোল”। সার্চ কনসোলের সাইট-ম্যাপ ট্যাবে ক্লিক করলেই আপনি জায়গামত পৌঁছে যাবেন।

সাইটম্যাপ তৈরী করা খুবই সহজ। তথ্য প্রযুক্তির বিখ্যাত ব্লগ ‘লাবনোল ডট অর্গ’ সাইটটির একটি চমৎকার সাইটম্যাপ জেনারেটর আছে। গুগলের সার্চ বাক্সে ইংরেজিতে “লাবনোল ডট অর্গ সাইটম্যাপ জেনারেটর” লিখুন। লাবনলের সাইটম্যাপ জেনারেটরে অনায়াসে পৌঁছে যাবেন।

মোবাইল ইউজেবিলিটি

বিশ্বজুড়ে মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। ব্যবহারকারীগণ তাদের মোবাইলের পর্দায় আপনার সাইটকে ঠিক মত পাচ্ছেন কি না সেটি খুবই জরুরী একটি বিষয়। মোবাইল ইউজেবিলিটি ট্যাব আপানকে জানিয়ে দেয় আপনার সাইটের মোবাইল সংস্করণ বা নির্দিষ্ট পেজগুলো মোবাইলে দেখার সময়, ব্যবহারকারী কি কি সমস্যার সম্মুখীন হন।

এটি জানার পর আপনাকে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেই হবে। কারণ পৃথিবীতে মোবাইল-ওয়েব-ট্রাফিক বেড়েই চলেছে ক্রমাগত। আপনার সাইট যদি মোবাইল-ফ্রেন্ডলি না হয় তাহলে অতি দ্রুত আপনার ভিজিটর কমতে থাকবে।

এই আলোচনা থেকে বলা যায়, গুগল-সার্চ-কনসোল একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং অবশ্যই কাজের জিনিস। আপনি যদি কোন ব্লগ বা সাইটের মালিক হন এবং এখনও গুগল-সার্চ-কনসোলে যুক্ত না হয়ে থাকেন, তাহলে অতিসত্ত্বর যুক্ত হোন।

অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার বদলে যৌক্তিক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে পরিকল্পনামাফিক অগ্রসর হতে পারলে আপনার ব্যবসায়িক সফলতার সম্ভাবনা অবশ্যই বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। সেই শুভকামনায় শেষ করছি এই আলোচনা।

লেখক- সালেহ মুহাম্মাদ

প্রয়োজন মনে হলে পড়ে দেখতে পারেন-

Leave a Comment