ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজনীয়তা কি?

ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজনীয়তা

একটি পূর্ণাঙ্গ ব্লগ সাইট প্রকাশ করার জন্য সবার আগে একটি ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করার প্রয়োজন হয়। এখানে একটি প্রশ্ন মনে আসতে পারে। প্রশ্নটি হচ্ছে- ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজনীয়তা কি? ব্লগার.কম বা ওয়ার্ডপ্রেস.কম তো বিনামূল্যে ব্লগ সাইট তৈরি করার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে পয়সা খরচ করে কেন ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করবেন?

ব্লগ সাইট শুরু করার আগে বেশিরভাগ নতুন ব্লগার ব্লগার.কম বা ব্লগস্পটকে তাদের ব্লগিং প্লাটফর্ম হিসাবে ব্যবহার করতে পছন্দ করেন।

এটা যৌক্তিকও বটে। কেননা, ব্লগস্পট সাইটে বিনামূল্যে ব্লগ তৈরি করা যায়। ব্লগার.কম এ একটি ব্লগ শুরু করার জন্য তুলনামূলকভাবে কম প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রয়োজন।

শূন্য বিনিয়োগে ইচ্ছে পূরণও হয় আবার বাড়তি লাভ হিসেবে গুগল এডসেন্স একাউন্ট সাইনআপ করে অনলাইনে আয় করার সুযোগও আছে।

এছাড়াও, আপনি ব্লগার.কম এর অধীনে ব্লগস্পট ব্লগের জন্য সীমাহীন ব্যান্ডউইথ এবং সীমাহীন ওয়েবস্পেসও পাবেন। যদিও ওয়েবস্পেস বা ব্লগফাইল রাখার স্থানটি প্রযুক্তিগতভাবে “সীমাহীন” নয়, তবে আমাদের কাছে বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে।

যেমন একটি ভিন্ন লেখক প্রোফাইল তৈরি করা এবং চিত্র এবং ফাইলগুলি সংরক্ষণ করার জন্য এটি ব্যবহার করা, ইত্যাদি।

কেন ব্লগ সাইট তৈরিতে ফ্রি ব্লগার.কম বা ওয়ার্ডপ্রেস.কম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন?

১. নিজস্ব ডোমেইন নেম ব্যবহার না করার অসুবিধাসমূহ

ব্লগার.কম বা ওয়ার্ডপ্রেস.কম এ তৈরিকৃত ব্লগকে আপনি আপনার ইচ্ছেমত সম্পাদনা বা কাস্টমাইজ করতে পারবেন না।

এছাড়া সবচেয়ে বড় ব্যপার হল, আপনাকে বাধ্যতামূলকভাবে আপনার ব্লগের নামের সাথে (.blogspot.com) বা (.wordpress.com) ডোমেইন নাম যুক্ত করতে হবে।

ব্যাপারটা ঠিক এমন দ্বাড়ায়- আমার নিজের কোন বাড়ি নেই, ভাড়া বাড়িতে থাকি। তাই যখনই কোন অতিথি আসে, তখনই কথার ছলে আমাকে এ নিয়ে খোঁচা দেয়।

কি? কিছু বুঝতে পারলেন না তো? ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলছি।

ধরুন, আপনি আপনার ব্লগ ব্যবহার করে কোন পণ্য বিক্রি করতে চাইছেন। একজন গ্রাহক আপনার ব্লগে আসল।

সে আপনার পণ্য দেখল, পছন্দ করল, কিন্তু কিনল না।

আপনি কারণ জিজ্ঞাসা করাতে সে বলল, ভাই আমি আপনার পণ্য কি করে কিনি বলুন তো?

আপনার তো নির্দিষ্ট কোন ঠিকানাই নেই। আর একজনের ঘাঁড়ে বসে ব্যবসা করে খাচ্ছেন।

পরে যদি পণ্যের কোন সমস্যা হয়, পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, আমি কিন্তু আপনাকে এই ঠিকানায় খুঁজব।

কিন্তু তখন যদি আপনাকে এই ঠিকানায় না পাই বা যদি আপনার বাড়ীওয়ালা (blogger.com বা wordpress.com) আপনাকে তাদের বাড়ী থেকে বের করে দেয় (Terms and Regulation Violation জনিত কারণ দেখিয়ে User কে Band করে দেয়া) তখন আমি আপনাকে কোঁথায় খুঁজে পাব?

সচরাচর ফ্রি সাইটগুলোতে ব্লগ তৈরি করে এ ধরণের সমস্যার সম্মূক্ষীণ হতে হয়েছে বহুজনাকেই।

সুতরাং- সাধু সাবধান!

আরও পড়ুন –

সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব

২। ব্লগার.কম, একটি বিনামূল্যের প্ল্যাটফর্ম, যা কিনা প্রায়ই স্প্যামার দ্বারা আক্রমনের শিকার হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সাইটগুলি বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম।

যখন আপনি আপনার ব্লগস্পট ব্লগের জন্য একটি কাস্টম নাম ব্যবহার করেন, তখন আপনি একটি মুক্ত বা ফ্রি ব্লগ ব্যবহার করছেন, এই অপবাদ থেকে মুক্তি পাবেন এবং সেইজন্য এটি স্প্যামার দ্বারা কম আক্রমনের স্বীকার হবে।

৩. ওয়েবসাইটের প্রচারণা ক্ষেত্রে বাঁধা আসবে।

কোন ব্যাকলিঙ্ক পাবেন না।

ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তা তৈরি ও ধরে রাখার জন্য সামাজিক মিডিয়া থেকে ব্যাকলিঙ্ক তৈরি করা খুব কঠিন হয়ে যায়।

কারণ বিশ্বস্ততার কমতি থাকার কারণে বেশিরভাগ শীর্ষস্থানীয় ওয়েবসাইটগুলি ব্লগস্পট বা ওয়ার্ডপ্রেস ডোমেইনে একটি ব্যাকলিঙ্ক দেয়াটা পছন্দ করবে না।

এই সমস্যাটি আপনার ব্লগের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রটিকে আরো অনেক চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে।

৪. ব্লগ সাইটের গঠনশৈলি পরিবর্তনে রিসোর্সের অভাব।

ধরে নিলাম, আপনি আপনার ব্লগস্পট বা ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগটিতে অনেক সুন্দর সুন্দর লেখা প্রকাশ করেছেন।

ব্লগের লেআউট তৈরি করেছেন সামঞ্জস্যপূর্ণ টেমপ্লেট ব্যবহার করে, যদিও একটি সুন্দর দৃষ্টিনন্দন টেমপ্লেট এর অভাবে প্রায়ই তা সম্ভব হয় না।

তারপরও একটি কাস্টম ডোমেন নামের অভাবে আপনার ভিজিটর বা পাঠক ও গ্রাহকরা মনে করবে- আপনি আপনার ব্লগ সাইটটিকে গুরুত্ব সহকারে সাজাতে কার্পন্য করেছেন বা দায়সারা গোছের কিছু একটা ডিজাইন করে অস্থায়ী ঠিকানার ঘরসজ্জ্বার কাজ সম্পন্ন করেছেন।

কাস্টম ডোমেইন নেম সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন সহায়ক

৫. সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বা এসইও সুবিধা।

আপনার ব্লগটি আরো সার্চ ইঞ্জিন বন্ধুত্বপূর্ণ হবে।

৬. ডোমেইন নেম হতে পারে আপনার নিজস্ব ব্র্যান্ড।

আপনার পাঠকদের মনের মধ্যে তৈরি ধারণাটি আপনার ব্লগিং সাফল্যের জন্য অপরিহার্য।

একটি কাস্টমাইজড ডোমেন নাম আপনার ব্লগটিকে একটি পেশাদার ব্র্যান্ড হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করে।

৭. প্রফেশনাল ইমেইল ঠিকানা গ্রহণের সুবিধা।

একটি কাস্টম ডোমেইন আপনাকে কাস্টম ডোমেইন ভিত্তিক ইমেল ঠিকানা ব্যবহার করার ক্ষমতা প্রদান করবে।

আপনার ডোমেন নাম ব্যবহার করে আপনার ইমেল ঠিকানা করে নিতে পারেন- admin [at] sample.com এর মত করে।

ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করে আপনার অনলাইন ঠিকানা নিশ্চিত করুন

একটি ডোমেইন নেম বা নাম অনলাইনে আপনার পেশাদারিত্বের পরিচয় বহন করবে।

পাঠক, দর্শক বা গ্রাহক আস্থা, সন্তুষ্টি, বিশ্বাস ও মর্যাদার পরিবেশ সৃষ্টি করতে সহায়ক হবে।

আপনি আপনার ইচ্ছেমত একে পুনরায় সময়মত রিনিউ করলেই আপনার নামটি যতদিন খুশি ব্যবহার করতে পারবেন।

আপনি ছাড়া অন্য কেউ একই নামে ব্লগ বা ওয়েবসাইট খুলতে পারবেনা। সর্বপরি উক্ত নামের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতেই থাকবে।

একটি কাস্টম ডোমেন নেম হতে পারে ঠিক নিচের লেখাটির মত-

www.sample.com বা sample.com

ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশনের জন্য কি ধরণের নাম ব্যবহার করবেন?

আপনার ডোমেইন এর নামটি অবশ্যই সহজ ও সংক্ষিপ্ত হলে ভাল হয়। সহজে নির্ভুলভাবে লেখা যায় ও জড়তাহীনভাবে উচ্চারণ করে পড়া যায় ঠিক এমন একটি নাম আপনার ডোমেইন হিসেবে বেঁছে নেবেন।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- আপনার ডোমেইন এর নামটি হতে হবে আপনার ব্লগের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অর্থাৎ একজন পাঠক বা দর্শক যেন আপনার ডোমেইন এর নামটি পড়েই বুঝতে পারে আপনার ব্লগে কি বিষয়ে লেখা বা প্রকাশনা আছে।

ডোমেইন নেম বা নাম একটি ব্লগের সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আপনার ব্লগের ডোমেইন নামটি প্রতিটি সার্চ ইঞ্জিনই আপনার ব্লগকে তাদের ডাটাবেজ -এ সংরক্ষণ করে রাখার জন্য প্রথম ও সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কিওয়ার্ড হিসেবে বিবেচনা করে।

অর্থাৎ ভিজিটরদের মত সার্চ ইঞ্জিনও আপনার ডোমেইন নেম বা নাম এর মাধ্যমেই প্রাথমিকভাবে আপনার ব্লগ সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ করে।

ঠিক একারণেই, আপনিও আপনার ডোমেইন নেম হিসেবে ঠিক সেই শব্দটি ব্যবহার করবেন যা কিনা আপনি আপনার ওয়েবসাইটের প্রচার ও প্রসারের জন্য প্রধান কিওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করার জন্য মনস্থির করেছেন।

যেমন- তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক ব্লগ হলে technology বা tech, রান্না বিষয়ক হলে food, চিকিৎসা বিষয়ক হলে medical অথবা treatment, অনলাইনে আয় বিষয়ক হলে online-earn, ইত্যাদি।

একটি ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশনে কত খরচ হবে?

একটি ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করা খুব একটা ব্যয়বহুল নয়। আপনি $8- $15 বা ৮০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে একটি ভাল ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করে নিতে পারবেন।

কোথায় ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করা যায়?

আপনি www.whtop.com এর তথ্যমতে বাংলাদেশের ১ নাম্বার ওয়েব হোস্ট ও ডোমেইন রেজিস্ট্রার কোম্পানি সেন্ট্রিওহোস্ট থেকে আপনার পছন্দমত ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করে নিতে পারবেন।

নিচের লিংক অনুসরণ করে এখনই রেজিস্ট্রেশন করে নিন।

CENTRIOHOST.COM

এছাড়া যদি বাংলাদেশের বাইরের তথা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোন ডোমেইন রেজিস্ট্রার এর কাছ থেকে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করার প্রয়োজন অনুভব করেন তবে নেমচিপ.কম থেকে আপনার কাঙ্খিত ডোমেইন নেম বা নামটি রেজিস্ট্রেশন করে নিতে পারেন।

পছন্দটা আপনার। নিচের লিংক অনুসরণ করে আপনার প্রয়োজনীয় ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করে নিন।

NAMECHEAP.COM

আপনি ইচ্ছা করলে আমাদেরকে সেই দায়িত্বটা দিতে পারেন।

আপনার ব্যবসা ও ইচ্ছের সাথে মানানসই একটি ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করে আমরা আপনাকে আপনার যাত্রাপথে এগিয়ে রাখতে সদা প্রস্তুত আছি।

আমাদেরকে যে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন-

সায়মা আইটি
ময়মনসিংহ সদর,
ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ।

এই লেখাটি পড়ে যদি আপনার ভাল লাগে তবে আপনার বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করুন!

সম্পাদকের বাছাই –

If you like this post; please share it

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *