পরিপাটি করে সাজানো বারান্দা পেতে চান?

সুন্দর, পরিপাটি করে সাজানো বারান্দায় অবসর দিনে চায়ের কাপ হাতে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে কত না ভালো লাগে? একটি সুন্দর বৃষ্টিমুখর দিনে এসে যদি দেখেন বারান্দাটিকে কাপড়-চোপড় ও অপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে এলোমেলো করে রাখা হয়েছে। তখন কেমন লাগবে?

তবে প্রায়শই বাড়ির বারান্দাটিকে কাপড়-চোপড় ও অপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে এলোমেলো করে রাখা হয়। তা না করে যদি পরিষ্কার ও কিছু শৈল্পিক ছোঁয়া দেওয়া যায় তবে কাঠামোগত পরিবর্তন না করেই বারান্দার চেহারাটিকে পছন্দের রূপ দেওয়া সম্ভব।

বাসার বারান্দাটি ছোট বা বড় যেমনই হোক, এর মধ্যেই তা মনোরম, পরিপাটি ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারেন।

একটু সূর্যের আলো যদি বাড়ান্দায় আলো আঁধারের পরিবেশ তৈরি করে, পাখির কিঁচির মিচির কলরব শোনা যায় এবং নীল আকাশের কিছু অংশ দেখা যায় তবেই যথেষ্ট।

বাংলাদেশ, কলকাতা তথা বাঙ্গালীদের বেশির ভাগ ফ্ল্যাট বাড়িগুলোর বারান্দা তৈরির সময়ই একটু ছোট করে তৈরি করা হয়ে থাকে। আয়তনে তা এতই ছোট হয় যে, সেখানে গাছপালা রাখাই দায়। এই অল্প পরিসরে বসার আয়োজন করাটা একটু কষ্টকরই বটে।

একটু বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করলেই বারান্দাকে রাখতে পারবেন নিজের মনের মতো সুন্দর করে।

তবে একটু বুদ্ধি খাঁটিয়ে আর অন্দর সজ্জার নিয়ম-নীতি মেনে সাজালে ঘরে থাকা জিনিস দিয়েই কিন্তু সেজে উঠতে পারে আপনার ছোট্ট বারান্দাটি।

সারাদিনের কর্মক্লান্ত দিনের শেষে বাসায় ফিরে অবসর কাটানোর জন্য সুন্দর করে পরিপাটি করে সাজানো এই বারান্দাই হতে পারে আপনার ঘরের সবচাইতে প্রিয় স্থান।

তবে আসুন জেনে নিই,

বিশ্রামের জায়গা বারান্দা কিভাবে পরিপাটি করে সাজাবেন?

বারান্দা ছোট হলে

আপনার বাসার বারান্দাটা যদি ছোট হয় তাহলে বিভিন্ন ধরনের ইনডোর প্লান্ট আর মৌসুমি ফুলের গাছ রাখাই ভালো। আর তার পাশ দিয়ে ছোট কয়েকটা মোড়া বা টুল রেখে দিন। ব্যস হয়ে গেলো বসার ব্যবস্থা।

বারান্দার আয়তন একটু বড় হলে

ডিভান বা ছোট দুটি সোফাও রাখতে পারেন বারান্দায়। সঙ্গে অবশ্যই ইনডোর প্লান্ট এবং ফুলের গাছ সৌন্দর্য বাড়াবে বহুগুণে।

বারান্দার আয়তন ছোট বা বড় যেমনই হোক না কেন, যদি সেখানে একটু-আধটু রোদ আসে, তবে যেকোনো ধরনের গাছ দিয়েই তা সাজাতে পারেন।

তাছাড়া আপনার বারান্দাটির আয়তান মাঝারি হলে আপনি সাজাতে পারেন ইচ্ছেমত। যেমন-

গাছাপালা

বারান্দায় প্রকৃতির ছোঁয়া থাকলে সবচেয়ে ভালো। অনেকেই প্লাস্টিকের কৃত্রিম গাছ রাখেন। কিন্তু এক্ষেত্রে তাজা গাছ হচ্ছে সবচেয়ে ভালো পছন্দ।

সবুজ পাতা ভরা বা লতানো ফুল বা সবজির গাছ ব্যালকনিতে থাকার চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আর হতে পারে না।

মাটি ভরা টবে সরাসরি বীজ থেকে চারাগাছ জন্মাতে পারেন অথবা নার্সারি থেকে সরাসরি ফুল, ফলের চারাগাছ কিনে এনে রাখতে পারেন বারান্দায়।

এতে করে আপনার বারান্দার গোপনীয়তা কিছুটা রক্ষা পাবে, পাশাপাশি ঘরের নৈসর্গিক শোভাও বাড়বে।

বারান্দার সামনের দিকটাতে ঝুলিয়ে দিতে পারেন কিছু গাছের টব। তবে মাথায় রাখবেন- টবগুলো যেনো খুবই আকর্ষণীয় হয়।

এখন বাজারে কারুকাজ করা অনেক সুন্দর মাটির টব পাওয়া যায়। তাছাড়া সিরামিক, তামা, পিতল বা সিমেন্টের টবেও রাখতে পারেন নিজের প্রিয় গাছটি।

বারান্দায় গাছ লাগাতে হলে মানিপ্লান্ট, বনসাই, পাতাবাহার, ফরচুন ট্রি, ছোট পাম গাছ, চায়নিজ কামিনী রাখতে পারেন। এতে করে বারান্দায় সবসময় বিভিন্ন রঙের প্রস্ফুটিত ফুলের মোহময়ী পরিবেশ বজায় থাকবে।

এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড দিয়েও আপনার বারান্দাটা সাজিয়ে নিতে পারেন।

বারান্দায় মরিচ বাতি

বারান্দার রেলিংয়ে বা দেওয়ালে বৈদ্যুতিক মরিচ বাতি লাগাতে পারেন। এতে করে রাতে বারান্দায় গেলে অন্যরকম একটা অনুভূতি তৈরিতে সাহায্য করবে মরিচ বাতির হালকা নরম আলো।

লন্ঠন, বোতল এবং মোমবাতির হোল্ডার রেখেও বারান্দাকে মনোরম আলোয় ভরিয়ে তোলা যায়।

রাখুন বার্ড ফিডার

প্রতিদিন সকালে পাখির কলরব শুনে ঘুম থেকে উঠতে চাইলে একটি বার্ড ফিডার আপনার ব্যালকনিতে নিয়ে আসুন। বার্ড ফিডারে পাখিদের খাবার খাইয়ে নিজেও মানসিক প্রশান্তি পাবেন। এতে আপনার দিনটি শুরু হবে দারুণ একটা অনুভূতি নিয়ে। সত্যি বলতে কি, সকালে পাখির মিষ্টি-মধুর কলরবের চেয়ে মনোমুগ্ধকর সুর আর কিছুই হয় না।

ফুলের বড় টব রাখুন

বারান্দার সামনের দিকটাতে ফ্লোরে রাখতে পারেন কিছু ফুল গাছের বড় টব। তবে খেয়াল রাখবেন- টবগুলো যেনো অতিরিক্ত জায়গা দখল না করে।

বেলকনির চারাগাছগুলির সঙ্গে সিরামিক বা মোজাইক বা মাটির কিছু ছোট-বড় আকারের টব রাখুন। এগুলোতে গাছও লাগাতে পারেন। এতে শৈল্পিক টবে বা ফুলদানীতে ফুলের প্রস্ফুটিত সৌন্দর্যে আপনার বারান্দায় অন্যরকম মায়াময় পরিবেশ বজায় থাকবে।

বাজারে হাতে আঁকা কারুকার্যে শোভিত ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের টব পাওয়া যায়। টবে শুধু গাছ লাগাতেই হবে এমন তো কোন ধরাবাঁধা বাধ্যবাধকতা নেই। র্সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যও তো তা রাখা যায়।

কৃত্রিম ঝর্ণা

মনকে শান্ত এবং সতেজ করতে জলের গড়িয়ে পড়ার শব্দ সবচেয়ে কার্যকর। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে একটু বেশি টাকা খরচ করতে হবে।

যেহেতু আপনি ঘরে প্রাকৃতিক ঝর্ণার পাশে বসে কলকল শব্দ শুনতে পারছেন না, তাই কৃত্রিম ঝর্ণার শব্দ বারান্দাতে যুক্ত করলে সত্যিকারের সে অনুভূতি আপনার ঘরেই এনে দেবে এবং মনকে রাখবে সতেজ, প্রাণবন্ত।

পাটের তৈরি শিকা

বারান্দায় পাটের তৈরি শিকা ঝুলিয়ে তাতে রঙিন মাটির হাঁড়ি রাখুন। এবার তার মধ্যে লতানো গাছ লাগিয়ে দিন। বারান্দার গ্রিলের সৌন্দর্য বেড়ে যাবে এক ঝটকায়।

বসার জন্য বেতের সোফাই ভালো মানাবে। আবার ছোট বারান্দার ক্ষেত্রে মোড়া বা টুল বা নিদেনপক্ষে একটা ছোট রকিং চেয়ার রাখতে পারেন।

দেয়াল প্লাস্টার ছাড়া রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দেয়ালে যেকোনো ধরনের গ্লসি ধাঁচের রং ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়াও টেরাকোটা, টাইলস বা রাস্টিক টাইলস লাগালেও ভালো দেখাবে।

দেয়ালে ঝুলন্ত শোপিস, চিত্রকর্ম ঝোলাতে পারেন।

কুশন

কমবেশি সবার বাসায় বাড়তি কুশন বা গদি থাকে। বারান্দায় একটু আয়েশ করে সময় কাটাতে বসার জন্য মেঝেতে বিছিয়ে নিতে পারেন এমন বড় কুশন বা গদি।

এই ধরনের জিনিসের ব্যবহার ছোট পরিসরের ঘরকে বড় দেখাতে সাহায্য করে। এমনটাই বলা হয়ে থাকে অন্দরসাজের পাঠে অর্থাৎ Interior Design সংশ্লিষ্ট বই পুস্তকে।

আলাদা কুশন, কভার থাকলে তো ভালোই তবে। তা না থাকলেও চিন্তার কোনো কারণ নেই। বাড়িতে থাকা গামছার কাপড় কভার হিসেবে গদি বা কুশনে ব্যবহার করতে পারেন।

চাইলে দেয়ালে হেলান দিয়ে একটু আয়েশ করে বসার জন্য রাখতে পারেন ছোট্ট কুশন। তবে বাড়তি কুশন বা গদি না থাকলেও চিন্তা নেই।

কাঠের তৈরি জিনিস

ঘরে থাকা ছোট ছোট মোড়া বা জল চৌকিগুলো সাজিয়ে রাখতে পারেন বারান্দায়। টুকটাক এই আসবাব গুলি কম বেশি সবার বাড়িতেই থাকে।

তবে খেয়াল রাখবেন এসব আসবাব যেন প্লাস্টিকের তৈরি না হয়। কারণ বারান্দা ঘিরে থাকা সবুজ গাছগাছালির সঙ্গে প্লাস্টিকের আসবাব একেবারেই বেমানান। তাই বারান্দার আসবাব হিসেবে এখন কাঠ, বেত বা বাঁশের তৈরি মোড়া বেশ জনপ্রিয়তার আসন দখল করে আছে।

এ ছাড়া হাতে আঁকা (হ্যান্ড পেইন্টের) মোড়াও রাখতে পারেন বারান্দায়।

মাটির বোল

মাটির বোলে পানি দিয়ে ছড়িয়ে দিন রং বেরংয়ের নকশা করা মোম। বোলে কিছু গোলাপের পাপড়ি দিয়ে দিন গোলাপের সুগন্ধে আর মোমের মায়াবী আলোয় দেখুন না কেমন স্নিগ্ধ হয়ে উঠেছে আপনার ঘরের ছোট্ট বারান্দাটি।

শুধু বসার আয়োজনই নয়। ছোট্ট পরিসরের এই বারান্দাতেই কিন্তু করতে পারেন চায়ের কর্নারও। এ ক্ষেত্রে যদি মেঝেতে বসার আয়োজন থাকে, তবে কাঠের টুল বা ছোট মোড়ায় হতে পারে এই চা পর্বের আয়োজন।

খুব বেশি কিছু নয়। ধূমায়িত চায়ের কাপ আর তার পাশে রাখা ছোট পট প্ল্যান্ট কিন্তু এনে দেবে ভালো লাগার ছোঁয়া।

এ ছাড়াও ছোট ছোট কিছু ক্র্যাফট পণ্য যদি রেখে দেওয়া যায় টেবিলে তা ও এনে দেবে শৈল্পিক আবহ। তবে মোড়া বা টুলে বসার আয়োজন থাকলে সান্ধ্যকালীন চা পর্বের আয়োজনটা মেঝেতেই বেশি জমে উঠবে।

বারান্দার মেঝেতে শতরঞ্জি বিছিয়ে তার ওপর বাঁশের ম্যাট বা রানারে রাখা যেতে পারে চা খাবার পাত্রটি।

বারান্দায় দেয়ালের রং খানিকটা উজ্জ্বল হলে ভালো দেখাবে। এ ক্ষেত্রে লাল, কমলা, লেমন, সবুজাভ হলুদ ভালো।

তারপর বিকেলে চায়ের কাপ হাতে প্রিয়জনের সাথে বসুন বারান্দায়। মনে হবে ঘরের মধ্যেই এ যেনো অনেকটা স্বস্তির জায়গা।

এইভাবেই আপনি মনের মতো করে সুন্দর করে তুলতে পারবেন আপনার ছোট্ট বারান্দা।

প্রাসঙ্গিক লেখা সমূহ-

Leave a Comment