ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে সফল হবার ১১টি সিক্রেট টিপস

সাম্প্রতিক একটি লেখাতে অনলাইনে আয় করার জন্য সেরা ৪টি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। সাইটগুলোর সাথে পরিচিত হওয়াটা মাত্র প্রথম ধাপ। কাজ পাওয়া, কাজ শেষ করা, এবং অর্থ উপার্জনের জন্য আপনাকে আরও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। এসব মার্কেটপ্লেস এত বেশী প্রতিযোগিতাপ্রবণ যে, আপনি যদি নিজেকে স্বতন্ত্র রূপে উপস্থাপন করতে না পারেন, তাহলে সাফল্য পাওয়াটা অসম্ভবই হতে পারে। কিভাবে এই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে আপনি নিজের অবস্থান তৈরী করবেন এবং সফল হতে পারবেন; সেই সব বিষয় নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্টভাবে নিজের বিষয়ে জানান

ধরুন, আপনি একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার। সেক্ষেত্রে একটি প্রোফাইল তৈরী করে শুধুমাত্র আপনার ডেভেলপিংয়ের দক্ষতাকে তালিকাবদ্ধ করাই কিন্তু যথেষ্ট নয়। কারণ প্রচুর ফ্রিল্যান্সার এই একই ধরণের দক্ষতা নিয়ে এই সাইটে আছেন এবং কাজ করে যাচ্ছেন।

তাদের চেয়ে আপনার যদি অধিক যোগ্যতা বা দক্ষতা থেকে থাকে তবে তা স্পষ্টভাবে আপনার প্রোফাইলে উল্লেখ করে দিন। হয়তো আপনি একজন আইওএস এ্যাপ ডেভেলপার। বা, আপনি একজন ইউনিটি গেম ডেভেলপলার। যেটাই হোক, আপনি যদি বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করে দেন, তাহলে চোখে পড়াটা সহজ হবে। কারণ স্বাভাবিক ভাবেই ‘ডেভেলপার’ একটি বিশদ পরিভাষা। তার তুলনায় আইওএস এ্যাপ ডেভেলপার অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র একটি দলকে বোঝায়। এবং ছোট একটি দলের মাঝ থেকে নিজেকে তুলে ধরা সহজ।

এছাড়াও, নিজের দক্ষতার ক্ষেত্রটিকে নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে পারলে, আপনি কাজও সেই অনুযায়ী পাবেন। যে কাজটি আপনি ভাল পারেন, সেটার জন্য ক্লায়েন্ট আপনার শরাপন্ন হবে। এর ফলে, কাজটি আপনি দ্রুত ও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন।

সাধারণ চাকরী, অর্থাৎ কোন প্রতিষ্ঠানের ইন্টারভিউ দিয়ে নয়টা-পাঁচটার চাকরীগুলোতে, আপনাকে একটি রেজ্যুমে এবং কভার লেটার জমা দিতে হয়। এক্ষেত্রে সাধারণতঃ কি করে মানুষ? আপনি যদি একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেন, সবার কাছে কিন্তু একইরকম কাগজপত্রে পাঠাবেন না। প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী আপনার রেজ্যুমে এবং কভার লেটারে কিছু কিছু পরিবর্তন থাকবে।

এখন আপওয়ার্ক বা ফ্রিল্যান্সারে আপনার একটাই রেজ্যুমে – অর্থাৎ আপনার প্রোফাইল। কিন্তু এখানেও এই কথা প্রযোজ্য যে, আপনি যদি একটি নির্দিষ্ট ধরণের কাজকে মাথায় রেখে, সেই অনুযায়ী নিজের প্রোফাইল তৈরী করেন, তাহলে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। যদি একেবারেই সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন যে কোন ধরণের কাজ আপনি করতে চান, সেক্ষেত্রে দুটো সাইটের জন্য দুটো ভিন্ন ভিন্ন প্রোফাইল বানান।

প্রোফাইল ফটোর প্রতি মনযোগী হন

অনলাইন থেকে একজন মানুষকে নিয়োগ দেয়ার প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মানুষটির সাথে আপনার দেখা হচ্ছে না। নিয়োগকর্তা প্রতিদিন আপনাকে অফিসে দেখছে না। আপনার বিষয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার সুবিধাও এখানে তেমন নেই।

সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন লোকের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা কোন সহজ কাজ নয়। এই বিষয়টি একজন ফ্রিল্যান্সারের উচিত যথাসম্ভব সহজ করে দেয়া। সেই লক্ষ্যে, আপনি একটি সুন্দর প্রোফাইল ফটো দিতে পারেন। সুন্দর বলতে, আপনাকে দেখে যেন একজন নির্ভরযোগ্য, বন্ধুবৎসল, সহজ ও স্বাভাবিক মানুষ বলে মনে হয়। আপনি সাধারণ চাকরী করতে গেলে বা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত কাজে যে ছবিটি ব্যাবহার করেন সেটাই স্ক্যান করে দিন। ওরকম ছবি হাতে না থাকলে, মোবাইলেই একটি মানসম্মত সেলফি তুলুন। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডটি যথাসম্ভব সাধারণ রাখবেন।

আরও পড়ুন –

কম রেটে কাজ শুরু করুন

আপনি প্রথম থেকেই খুব বেশী টাকা দাবী করতে পারেন না। আপনি নতুন, একটি কাজও করেননি এখন পর্যন্ত, কিন্তু অন্যান্য পুরানো পরিচিত ফ্রিল্যান্সারদের সমান টাকা চাচ্ছেন – বিষয়টি একপ্রকার দৃষ্টিকটূও বটে।

সাইটে জয়েন করে বেশ কয়েকটি কাজ করার পর ধীরে ধীরে আপনার কাজের ঘন্টা প্রতি রেট বৃদ্ধি করতে পারেন। প্রতিটি কাজের সাথেই আপনার পরিচিতি তৈরী হবে, রিভিউ পাবেন, পোর্টফোলিও সমৃদ্ধ হবে। তখন আপনি আপনার রেট বাড়াতে পারেন।

সুতরাং, সম্ভব হলে একদম নূন্যতম রেটে কাজ শুরু করুন। এবং নূন্যতম রেটেও সম্পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে কাজ করুন।

পারিশ্রমিক বিষয়ে জেদী হবেন না

ফাইভারের মত সাইটে আপনি যতবার খুশি আপনার পারিশ্রমিক পরিবর্তন করতে পারেন। এটা বেশ ভালো একটি সুযোগ। আপনার হাতে কাজ কিরকম আছে, তার সাপেক্ষে আপনি আপনার পারিশ্রমিক পরিবর্তন করতে পারেন। ধরুন, আপনার হাতে অনেক কাজ জমে গেছে। আপনি তখন আপনার পারিশ্রমিকের হার বৃদ্ধি করতে পারেন।

আবার হয়তো একটা সময় আসল যে, কাজই পাচ্ছেন না। তখন কিন্তু এমন জিদ করা উচিত নয় যে, আপনি আগের রেট থেকে সরবেন না। আপনি অবস্থা বুঝে ব্যাবস্থা করুন। হাতে কাজ না থাকলে, পারিশ্রমিকের হার কমিয়ে দিন।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলো তথ্য প্রযুক্তির অত্যান্ত পরিবর্তনশীল জগতটির সাথে পাল্লা দিয়ে নিরন্তর পাল্টাতে থাকে। আপনিও সে অনুযায়ী নিজেকে পরিবর্তন করতে প্রস্তুত থাকুন।

প্রোফাইলে ভিডিও সংযুক্ত করুন

কিছু কিছু ফ্রিল্যান্সিং সাইটে ভিডিও যুক্ত করার সুযোগ থাকে। এরকম সুযোগ যদি থাকে তো অবশ্যই সেটিকে গ্রহণ করা উচিত। একটি ভিডিও আপনার প্রোফাইলকে স্বতন্ত্র করে তোলে। আবার, আপনার নিজের তৈরী করা ভিডিও দেখলে, ক্লায়েন্টের কাছে আপনাকে আরও বেশী যোগ্য ও বিশ্বস্ত একজন মনে হবে। ফলে সামগ্রিক বিচারে, আপনার প্রোফাইল আরও পেশাদার হয়ে উঠবে।

আপনার হাতে নির্মিত একটি ভিডিও আপনার সমন্ধে অনেক কিছু বলে দেয়। একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্মার্টনেস এবং দক্ষতা ছাড়া আপনি একটি ভাল মানের ভিডিও বানাতে পারবেন না। ভিডিওর মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় আরও সহজে। আপনি লেখার মাধ্যমে নিজেকে যতটুকু উপস্থাপন করতে পারবেন, ভিডিওর মাধ্যমে তার চেয়ে বেশী পারার সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষতা বা স্কিলের তালিকা তৈরী করা

অধিকাংশ ফ্রিল্য়ান্সিং সাইটগুলোই ফ্রিল্যান্সারদের তাদের দক্ষতার তালিকা তৈরীতে উৎসাহিত করে। এর ফলে ক্লায়েন্টদের সুবিধা হয়। তারা কোন ফ্রিল্যান্সারের মাঝে যে দক্ষতাগুলো খুঁজছেন সেগুলো সহজেই প্রোফাইল থেকে জেনে নিতে পারেন। এজন্য সঠিক দক্ষতাগুলোর তালিকা তৈরী করা জরুরী। আপনি পারেন না এমন কিছু শুধুমাত্র প্রোফাইলকে ভাল দেখানোর জন্য তালিকায় দিবেন না। তাতে নেতিবাচক রিভিউ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হবে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে- দক্ষতার তালিকাটি অতিরিক্ত দীর্ঘ করবেন না। তাহলে আপনি যে বার্তা ঐ তালিকার মাধ্যমে দিতে চাচ্ছিলেন সেটি হারিয়ে যাবে। বিশেষ করে আপনার যদি ভিন্ন ধরণের একাধিক স্কিল থাকে, তাহলে এটা আরও প্রযোজ্য। ধরুন, আপনি একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার, আবার লেখালেখি করেন, তার ওপর আবার আপনি লেখাপড়া সূত্রে একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞও। এখন আপনি যদি সবকটা একই তালিকায় দিয়ে দেন, তাহলে একজন নিয়োগকর্তা কি ধারণা পাবেন? তিনি খুবই বিভ্রান্ত হয়ে যাবেন। কোন ধরণের কাজের জন্য আপনাকে নিয়োগ দিতে হবে তিনি বুঝতে পারবেন না।

একটি তালিকায় প্রধান দক্ষতা বা “কোর স্কিল” দশটার বেশী রাখার দরকার নেই। এবং দশটাই যেন যথার্থ ও পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। যে স্কিল বা দক্ষতাগুলোকে আপনি তুলে ধরতে চান সেগুলো তালিকার শুরু ও মাঝখানে রাখুন। সাথে কিছু “সফট স্কিল” যুক্ত করে দিন। যেমন: যোগাযোগ রক্ষা, টীমওয়ার্কের দক্ষতা, সময়ের কাজ সময়ে শেষ করা। একই সাথে, আপনার কাজের ক্ষেত্রে যেসব সফটওয়্যার নিয়মিত ব্যবহার করে থাকেন, সেগুলোর কথা উল্লেখ করে দিন। সেটা হতে পারে ওয়ার্ডপ্রেস, মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট। অথবা সমন্বয়মূলক সফটওয়্যার যেমন স্ল্যাক বা আসানা। একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে পরিচিতি পেতে চাইলে “গিটহাব” বা “ফায়ারবেয” এর কথা উল্লেখ করতে পারেন।

প্রয়োজন মনে হলে পড়ে দেখতে পারেন –

অভিজ্ঞতা এবং প্রমাণ

যে কেউই একটা ফ্রিল্যান্সিং সাইটে গিয়ে প্রোফাইল বানাতে পারেন। তারপর কাজের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা বিষয়েও ইচ্ছেখুশি মত লিখে দিতে পারেন। এসব সাইটে যারা নিয়োগ দিতে আসেন, তারা বেশ ভাল ভাবেই অবগত এই নিয়ে।

এজন্য ফ্রিল্যান্সার হিসেবে, আপনার কাজ হচ্ছে- যা কিছু প্রোফাইলে বলবেন, দাবি করবেন; সবটার বিপরীতেই যথার্থ প্রমাণও প্রদান করবেন।

এই প্রমাণ হতে পারে – আগের কোন গ্রাহকের আপনাকে দেয়া ইতিবাচক রিভিউ, কোন প্রশংসাপত্র। আপনার পেশাগত ডিগ্রীর সার্টিফিকেট, কোন কোর্স করে থাকলে সেগুলির সার্টিফিকেট বা অন্য যেকোন পত্র যা আপনার প্রোফাইলে লেখা কাজের সাথে প্রাসঙ্গিক।

আবার, যে ধরণের কাজ আপনি করতে চাচ্ছেন, সেরকম কাজ আগে করে থাকলে, স্ক্রীণশট বা ছবি দিন। এটিও ক্লায়েন্টের কাছে আপনার অভিজ্ঞতাকে প্রমাণ করে। এমপ্লয়ার বুঝবেন আপনি আগেও করেছেন এই ধরণের কাজ।

আর হ্যাঁ, সাইটে যে বিভিন্ন টেস্টগুলো থাকে, সেগুলি তো অবশ্যই দেওয়া উচিত।

আর একারণেই কম রেটে কাজ শুরু করার কথা বলছিলাম। তাহলে আপনি রিভিউগুলো জমা করতে পারবেন। কম রেটে বেশ অনেকগুলো কাজ জমা হওয়ার পর বড় কাজ পেতে শুরু করবেন, এটি নিশ্চিত থাকা যায়। প্রথমেই যে অনেকে বড় ও ভাল কাজ পাবেন না, এমন নয়। কিন্তু তেমনটির সম্ভাবনা খুবই কম। সাধারণ মানুষদের ক্ষেত্রে একটু কষ্ট করে আগাতে হয়।

গতানুগতিকের বাইরেও, আপনার বিশেষ কোন গুণ থাকলে উল্লেখ করুন। যেমন ধরুন, ফেসবুকের আপনার প্রচুর বন্ধু। অসংখ্য ফলোয়ার। আপনি একটি পোস্ট বা ছবি দিলেই কমপক্ষে চার পাঁচশ লাইক আশা করতে পারেন। এখানে সোশ্যাল মিডিয়া তথা অনলাইন বিষয়ে আপনার একটি অভিজ্ঞতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

সুতরাং, হতে পারে নিয়োগকর্তা; শুধু মাত্র এরকম একটি ভিন্নরকমের গুণের জন্যই আপনাকে বেছে নিলেন। অথবা আপনার পারিশ্রমিকে রেট বেড়ে গেল। সুতরাং, আপনার বিষয়ে যে অসাধারণ বিষয়গুলো ক্লায়েন্টদের কাজে আসতে পারে বলে মনে করেন, সেগুলি উল্লেখ করুন।

আত্মকথনটুকু ভাল করে লিখুন (বা লিখিয়ে নিন)

প্রায় ফিল্যান্সিং সাইটগুলোতেই পরিচয় প্রদানমূলক একটি অংশ থাকে। আপনাকে একটা ওভারভিউ বা ইন্ট্রোডাকশান লিখতে হয়। এই অংশে আপনি নিজেকে বিজ্ঞাপিত করবেন আপনার ক্লায়েন্টদের কাছে। সংক্ষেপে জানাবেন, আপনি ঠিক কি করতে চাচ্ছেন।

আপনি বলতে পারেন, যে স্কিলটা নিয়ে আপনি কাজ করেন সেটির প্রতি কৌতুহল থেকে বা ভালোবাসা থেকেই আপনার এই সাইটে আসা, বা অনুরূপ ভালো কিছু্। আপনি জানাবেন, কেন ক্লায়েন্টদের আপনার সাথে কাজ করা উচিত। পেশাদার, আন্তরিক ভাষা ব্যবহার করুন। আবার বেশী ফর্মাল হতে গিয়ে নীরস, শুষ্কও নয়।

কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে –

ক্লায়েন্টকে তার অর্থের বিনিময়ে আপনি কি দিচ্ছেন সেটি স্পষ্ট করে বলুন। কোন ধরণের স্বল্পপরিচিত পরিভাষা বা জার্গোনের ব্যবহার না করাই ভালো। পাঠককে প্রথম দুই লাইনেই বুঝতে হবে তারা কি পেতে যাচ্ছেন আপনার কাছ থেকে। নাহলে, তারা আপনাকে নিয়ে অগ্রসর হবেন এমন সম্ভাবনা ক্ষীণই বলা যায়।

ঠিক কোন ধরণের ক্লায়েন্টদের আপনি চাচ্ছেন, সেটি জানা জরুরী। সবাইকে লক্ষ্যবস্তু বানাবেন না। যেকোন একটি নির্দিষ্ট শ্রেনীর ক্লায়েন্টকে মাথায় রেখে লিখুন।

আপনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গুণ বা দক্ষতার কথা প্রথমেই জানান। এমন যদি হয় কোন বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে আপনি আগে কাজ করেছেন সেটি শুরুতেই বলুন।

আপনার ভাষায় প্রকাশ পেতে হবে আপনি বিশ্বাসযোগ্য, পেশাদার মনোভাব সম্পন্ন এবং ভাল সেবা প্রদানে সক্ষম। অনলাইনে কাউকে নিয়োগ করতে, অনেক মানুষ এখনও অস্বস্তিতে ভোগেন। তাদের হৃদয় শান্ত করার মত ভাষা ব্যবহার করুন।

ক্লায়েন্টরা হয়তো আপনাকে এখনই নিয়োগ দিতে চান না; তা সত্ত্বেও তাদেরকে আপনার সাথে যোগাযোগে উৎসাহিত করুন। যেমন লিখতে পারেন: “আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে এই বিষয়ে, তাহলে আমাকে নিয়োগ না করলেও, নিজের কৌতুহল মেটানোর জন্য হলেও যোগাযোগ করতে পারেন। আমি এই বিষয়ে (আপনার স্কিল) মানুষকে সাহায্য করতে বরাবরই উৎসাহী।”

যোগাযোগ মূল্যবান জিনিস। যোগাযোগ হলে আপনি সেই মানুষটির স্মৃতিতে থাকবেন। কাজের প্রসঙ্গ আসলেই আপনার কথা হয়তো তার মনে পড়বে।

প্রোফাইলের লেখাগুলো সুলিখিত হওয়ার প্রয়োজন। অর্থাৎ গ্রামার, বানান, শব্দচয়ন এগুলি খুব খেয়াল রাখবেন। যা বলতে চান সেটি সঠিক ভাবে ব্যক্ত হওয়া জরুরী। অনেকেরই লেখালেখির অভ্যাস নেই। হয়তো ইংরেজীতেও আপনি খানিক দুর্বল। এক্ষেত্রে ভুল সর্বস্ব প্রোফাইল না লিখে অন্য কাউকে দিয়ে লিখিয়ে নিন। এই ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতেই বায়ো লিখে দেয়ার মত প্রচুর ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন।

এসইও করে নিন

যারা ডিজিটাল মার্কেটিং এবং এসইও বিষয়ে জানেন, তারা খুব ভালভাবেই বোঝেন নিশ্চয়ই যে কিওয়ার্ড কত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন বিষয় সমন্ধে অনলাইনে অনুসন্ধানে মানুষ সাধারণতঃ যে শব্দ বা শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেন সেটি ঐ বিষয় সমন্ধীয় কিওয়ার্ড। বিভিন্ন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলো গুগল বা এই ধরণের সার্চ ইঞ্জিনগুলোর ফলাফলে শীর্ষে অবস্থান নেয়ার জন্য এই কিওয়ার্ড গুলোকে শনাক্ত করেন ও ব্যবহার করেন।

আরও পড়ুন-

এখন, অধিকাংশ ফ্রিলান্সিং সাইটেই একটি বিল্ট-ইন সার্চ ইঞ্জিন থাকে দেখা যায়। এভাবেই নির্দিষ্ট প্রোফাইলগুলোকে বাছাইকরণ বা ইনডেক্সিং করে রাখে ফ্রিল্যান্সিং সাইট। এরপর ক্লায়েন্টরা যখন সার্চ বক্সে কোন নির্দিষ্ট কাজের জন্য ফ্রিল্যান্সার খোঁজেন, তখন ফলাফলে তাদেরকে সেই প্রোফাইল দেখানো হয়। এখানে ক্লায়েন্ট যা লিখছেন সার্চ বক্সে সেগুলোই আপনার কিওয়ার্ড।

ধরুন একজন কারও, ফ্রেঞ্চ অনুবাদক দরকার। তিনি হয়তো লিখবেন “ফ্রেঞ্চ ট্রান্সলেটার”। অথবা তার দরকার এনড্রয়েডের প্রোগ্রাম লিখতে পারেন এমন কাউকে। তিনি লিখলেন “এনড্রয়েড প্রোগ্রামার”। আপনার দক্ষতা বর্ণণায় বিশদ টার্ম ব্যাবহার না করে সংকীর্ণ বা সুনির্দিষ্ট টার্ম ব্যবহার করার এটি আরেকটি সুবিধা; প্রথম পয়েন্টেই যেরকম বলেছিলাম। আপনার স্কিলগুলোকে যতবেশী নির্দিষ্ট নিশের সাপেক্ষে বর্ণণা করতে পারবেন, আপনাকে খুঁজে পেতেও ততই সুবিধা হবে ক্লায়েন্টদের।

সেজন্যই প্রোফাইল তৈরীর সময় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশানের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। কিওয়ার্ড রিসার্চ করে বের করুন কোন কিওয়ার্ড ব্যবহার করে আপনার সুনির্দিষ্ট স্কিলটিকে সাইটে খুঁজে থাকেন ক্লায়েন্টরা। তারপর প্রোফাইল জুড়ে কিওয়ার্ডটি বেশ কয়েকবার ব্যবহার করুন। এটি শুধু তালিকা নয়, আপনি যে আত্নকথন বা জীবনবৃত্তান্তগুলো লিখবেন, সেখানেও রাখার চেষ্টা করবেন। অবশ্যই অতিরিক্ত ব্যবহার বর্জনীয়। অর্থাৎ কিওয়ার্ড স্টাফিং করবেন না। সেক্ষেত্রে কিন্তু আপনার প্রোফাইলের বিরুদ্ধে ‌অ্যাকশানও নিতে পারে ফ্রিল্যান্সিং সাইট। পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যাবহার করুন কিওয়ার্ড।

স্প্লিট টেস্টিং

ইন্টারনেট মার্কেটিংয়ে স্প্লিট টেস্টিং বলে একপ্রকার কৌশল রয়েছে। এটিকে “এ অর বি” টেস্টিংও বলা হয়। এখানে আপনি বিজ্ঞাপনমূলক যে পত্রটি লিখবেন, বা বিক্রয় উদ্দেশ্য নিয়ে যে পেজ বানাবেন, বা যেকোন লেখা তৈরী করেন না কেন- তার দুটি সংস্করণ তৈরী করুন। দুটিই মূলতঃ একই লেখা। কিন্তু কিছু তারতম্য থাকবে। এরপর দেখুন কোনটি ভাল কাজ করে। যেটি ভাল কাজ করে সেটাকেই ভবিষ্যতে ব্যবহার করুন।

বিড জেতা

মনে রাখবেন, আপওয়ার্ক বা পিপল-পার-আওয়ারে সবসময়ই ক্লায়েন্টরা আপনাকে খুঁজে নিবেন না। অধিকাংশ সময়ই, বিশেষ করে প্রথম দিকে আপনার নিজেকেই এগিয়ে আসতে হবে। বিভিন্ন জব লিস্টিংগুলোত গিয়ে আবেদন করতে হবে।

সেজন্যে, বেশীরভাগ সময়েই আপনাকে প্রপোজাল বা আবেদনপত্র লিখতে হবে। প্রপোজাল লেখার সময় বুঝিয়ে বলুন ক্লায়েন্টকে, কেন আপনাকেই তার বেছে নেয়া উচিত এই কাজের জন্য। লেখাতে পর্যাপ্ত তথ্য দিবেন, কিন্তু একইসাথে লেখাকে সংক্ষিপ্তও রাখবেন। পড়ে যেন ক্লায়েন্ট বুঝতে পারেন আপনি তার কাজের প্রস্তাবটি ঠিকমত পড়েছেন এবং বুঝেছেন। আপনার পূর্বোক্ত কাজের নমুনার লিংক এই প্রপোজালে যুক্ত করতে পারেন।

একটি পেশাদার, বন্ধুসুলভ ভঙ্গিতে যোগাযোগ করুন সম্ভাব্য ক্লায়েন্টের সাথে। বিড জিততে গিয়ে নিজের মান কি মর্যাদা খুব বেশীও কমিয়ে ফেলবেন না। দিশেহারা ধরণের মানুষকে কিন্তু সহজে ভরসা করতে চাইবেন না একজন নিয়োগকর্তা, তাও আবার অনলাইনে।

অনলাইন সাইটে আপনি যদি আপনার কাজে দক্ষ হন এবং আপনার যদি ধৈর্য্য ও উদার মানসিকতা থাকে, তাহলে আপনি সহজেই সফল হবেন। ফ্রিল্যান্সিং করার সময় আপনি কোন ব্যাক্তি নন। আপনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। সে অনুযায়ী নিজেদের পেশাদারিত্ব ও মর্যাদা নিয়ে কাজ করুন।

লিখেছেন : সালেহ মুহাম্মাদ

সম্পাদকের বাছাই –

Leave a Comment