ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে যে স্কিলগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশী – ৮টি টেক নির্ভর দক্ষতা

অনলাইনে আয় নিয়ে ইন্টারনেটে পড়াশোনা শুরু করার সময় অনেকেরই একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকে। কেউ ভাবেন আমি ওয়েবসাইট ডিজাইন করব। কেউ চায় লেখালেখি করে টাকা আয় করতে। আবার হতে পারে আপনি এখন যে চাকরী করছেন সেটিকেই ফ্রিল্যান্সিং পেশায় পাল্টে ফেলতে চান। অথবা আপনার কোন একটি শখ, যেমন- ছবি আঁকা বা ফটোগ্রাফী। আপনি ভাবছেন ওটাই হবে আপনার আয়ের মাধ্যম। সবাই এমন নানান ধরণের স্বপ্ন নিয়ে আসেন অনলাইনে।

কিন্তু অনেকেই আছেন যারা অনলাইনে আয় করতে চান ঠিকই, কিন্তু বুঝতেই পারছেন না কি করবেন বা কিভাবে কাজ পাবেন। এক্ষেত্রে সুসংবাদটি হচ্ছে- একটু সৃজন ক্ষমতার প্রয়োগ করা সম্ভব হলে, অনলাইনের ফ্রিল্যান্সিং জগতে দক্ষতা ভিত্তিক কাজ করা যায় না বা পাওয়া যায় না; এমন কথার কোন ভিত্তি নেই। আপনাকে জানতে হবে, ফ্রিল্যান্সিং কাজে যুক্ত হবার বা নিজের দক্ষতাকে বিক্রি করার প্রকৃত উপায়।

তবে একটি কথা সত্য যে, বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে যে “গিগ” গুলি পাওয়া যায়, তার সিংহভাগই প্রযুক্তি নির্ভর কাজ। প্রযুক্তির কোন একটি কি দুটি বিষয়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকলেই, আপনি দেখবেন আপনার করার মত কাজের সংখ্যা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে প্রচুর।

আসুন এক নজরে দেখে নিই- বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে বিষয় ভিত্তিক কাজ পাবার জন্য কি কি দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন?

একজন কোডার, ওয়েব ডেভেলপার, একজন ইন্টারনেট মার্কেটারের কখনই ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কাজের অভাব হয় না।

তবে, আপনি এসবের কোনটা না পারলেও খুব একটা সমস্যা নেই। কারণ প্রযুক্তি বাদেও অন্য ধরণের কাজ আছে। এছাড়াও, প্রযুক্তিগত দক্ষতার বেশ ক’টিই আপনি কোন একটি ছয় মাসের কোর্স করেও আয়ত্ত করে নিতে পারেন।

অনলাইনে প্রযুক্তি নির্ভর যে দক্ষতাগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশী

আগে যেমন বলেছি – সৃজনক্ষমতা থাকলে, বিক্রী করা যায় না এমন কিছু্ মনে হয় আর নেই এখন। তবে কিছু কিছু স্কিল বা দক্ষতা রয়েছে যেগুলোর চাহিদা সবসময় নিশ্চিত। এবং এগুলো মূলতঃ টেক-নির্ভর দক্ষতা। কারণ হচ্ছে, ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজগুলোই এমন। টেক-নির্ভর কাজগুলোই সাধারণতঃ অফিস সুভারভাইজেশান ছাড়াই নিজের ঘরে বসে একটি কম্পিউটার আর একটি ইন্টারনেট কানেকশান থাকলেই করা যায়।

এমন কিছু দক্ষতার বর্ণণা করা হল এখানে-

প্রোগ্রামিং :

অনলাইনে সবচেয়ে বিক্রয়যোগ্য দক্ষতা সম্ভবতঃ প্রোগ্রামিং। এটি অত্যন্ত উচ্চমানের একটি স্কিল। অনলাইনে নিয়োগকর্তারা প্রায় সবসময়ই একজন ভালো প্রোগ্রামারের সন্ধানে রয়েছেন। অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের এ্যাপ তৈরী, তাদের প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার তৈরী, এবং তাদের ওয়েবসাইটের ব্যবস্থাপনার জন্য একজন প্রোগ্রামার খুঁজছেন।

সব ধরণের কোডারদেরই চাহিদা রয়েছে অনলাইনে। তার মাঝেও, কিছু প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ তো চাহিদার শীর্ষে থাকবেই।

পাইথন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ সর্বপ্রথমে উল্লেখ্য। নিয়োগকর্তারা সবসময়ই পাইথনে দক্ষ প্রোগামারদের অনুসন্ধান করছেন। আরেকটি হচ্ছে “জাভা” প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। সি এবং সি প্লাস প্লাস জানলেও আপনি অনেক কাজ পাবেন। গেম ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে এই ল্যাঙ্গুয়েজটি প্রয়োজন হয়। “ ইউনিটি” এবং “আনরিয়েল” বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকলেও গেম ডেভেলপমেন্টের কাজ করা যায়। এনড্রয়েড ডেভেলপমেন্ট এবং আইওএস জানলেও অনেক সুবিধা পাবেন।

সবচেয়ে ভাল জিনিস হচ্ছে “ফুল-স্ট্যাক-ডেভেলপার।” ফুল স্ট্যাক ডেভেলপার এমন একজন যিনি ইন্টারেকটিভ ওয়েসাইট বা ওয়েব-এ্যাপ নির্মাণের সাথে সম্পর্কিত সব ধরণের কাজ করতে পারেন। যেমন, ব্যাক-এন্ড , ইউজার প্রোফাইল এবং অন্যান্য যাবতীয় ফিচার। অন্য কথায়, ফুল-স্ট্যাক-ডেভলপার হতে হলে আপনাকে এইচটিএমএল এবং সিএসএস জানতে হবে ওয়েব ডিজাইনের জন্য। সাথে ব্যাক-এন্ডের জন্য জানতে হবে পি-এইচ-পি বা এরকম কিছু এবং আরও যা প্রয়োজন হয়।

এসব তো আছেই। তা ছাড়াও ইদানীং কালে আরও কিছু ক্ষেত্রের গুরুত্ব প্রতিদিনই বাড়ছে ডেভেলপারদের জন্য। যেমন – ক্লাউড কম্পিউটিং, বিগ ডেটা এনালাইসিস, আর্টফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এ-আই), মেশিন লার্নিং। প্রযুক্তির এই ক্ষেত্রগুলো প্রতিদিনই উন্নত হচ্ছে। ভবিষ্যতের মার্কটপ্লেসে টিকে থাকতে হলে ডেভেলপারদের এই বিষয়গুলোকে আয়ত্ত করা জরুরী।

কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে – আপনার দক্ষতা বা স্কিলকে ঠিকভাবে মার্কেটিং করুন। ধরুন, অতি সাদামাটাভাবে নিজেকে শুধুই একজন প্রোগ্রামার হিসেবে পরিচয় দিলেন। তারপর যা যা ল্যাঙ্গুয়েজ জানা আছে তার একটি লিস্ট যুক্ত করলেন। তালিকা দীর্ঘ করার খাতিরে যেগুলি কম পারেন সেগুলিও, একটানে লিখে গেলেন। এক্ষেত্রে আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ আপনি আলাদা করে চোখে পড়বেন না ক্লায়েন্টদের। প্রতিযোগিতার মুখোমুখিও হবেন অনেক বেশী।

কিন্তু আপনি যদি নিজেকে একজন গেম ডেভেলপার হিসেবে মার্কেটিং করেন; সাথে উল্লেখ করে দেন যে, আপনি ইউনিটি বা সি-শার্প নিয়ে কাজ করেন; তাহলে বাকী প্রোগ্রামারদের সাথে আপনার একটি পার্থক্য তৈরী হবে। আপনি কাজের অফারও পাবেন বেশী। কারণ গেম ডেভেলাপারদের মধ্যে ইউনিটি নিয়ে কাজ করা প্রোগ্রামাদের যে নিয়োগকর্তারা খুঁজছেন, তারা প্রথমেই আপনার কাছে আসতে পারছেন।

“প্রোগ্রামার” শব্দটি ব্যবহার না করে এর চেয়েও অন্য কিছু চিত্তাকর্ষক শব্দ ব্যবহার করে নিজের স্কিলের কথা আপনি জানাতে পারেন। যেমন- “ফুল স্ট্যাক ডেভেলপার ফর ওয়েব এপ্লিকেশান্স”, “ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ডেভেলপার” ইত্যাদি।

আরেকটি স্কিল শিখতে পারেন। সেটি হচ্ছে- “এনড্রয়েড এ্যাপ ডেভেলপার”। একজন এন্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপার হিসেবে আপনি কোন প্রকল্পের একটি মাত্র অংশে কাজ করছেন না; বরঞ্চ একটি বিশেষ ধরণের প্রোগ্রামের পূর্ণাঙ্গ ‌একটি প্যাকেজের প্রস্তাব দিচ্ছেন ক্লায়েন্টকে।

প্রোগ্রামিংয়ের ক্ষেত্রে আপনার স্কিলগুলো নিয়ে ভাবুন। কি ধরণের কাজ করতে আপনার ভাল লাগবে স্থির করুন। এরপর ব্যবহার করুন আপনার সৃজনক্ষমতা।

আরও পড়ুন –

তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি ক্ষেত্রের দক্ষতা

তথ্যপ্রযুক্তি একটি বিশদ পরিভাষা। কিন্তু যে কোন ধরনের আইটি স্কিলেরই অনলাইন বাজারে চাহিদা রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং ক্ষেত্রে তো বটেই।

কোন মাঝারি প্রতিষ্ঠানের “টেক সাপোর্ট”-এর কাজ করা ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে চমৎকার একটি ব্যাপার। এখন স্প্যাশটপ রিমোট বা টিম ভিউয়ার এবং সেই সাথে আরও অনেক নতুন ধরণের ‘ডেস্কটপ ভিউয়ার টুলস’ পাওয়া যায়। আর অনেক ক্ষেত্রে ফোনে ফোনেই, আপনার ক্লায়েন্ট কোম্পানীর গ্রাহককে তার প্রযুক্তি (বিভিন্ন ডিভাইস, সফটওয়্যার) বিষয়ক সমস্যাগুলোর সমাধান দিলেই আপনার কাজ হয়ে যাবে।

বর্তমানে আরেকটি মারাত্নক জিনিস হচ্ছে “আইটি সিকুরিটি”। মানবজাতি যতই প্রযুক্তি শিখছে, হ্যাকারদের দৌরাত্ম্য ততই বাড়ছে। একজন দক্ষ হ্যাকার একটি বড় সড় প্রতিষ্ঠান (এমনকি একটি রাষ্ট্র, কি সরকারকেও) পথে বসিয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, বিভিন্ন হ্যাকিঙের ঘটনা এবং সেসবের ফলশ্রুতিতে তথ্য ফাঁসজনিত কেলেঙ্কারির কথা আমরা প্রায়ই শুনি। একারণেই বর্তমানে আইটি সেক্টরে সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের চাহিদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই “আইটি সিকুরিটি” খুবই লাভজনক ক্ষেত্র বর্তমানে।

এখানে অর্থ যোগও হয় প্রচুর। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্যই, বিশেষ করে ইকমার্স সাইটগুলো, একটি ব্লগ (আসলে যেকোন ওয়েবসাইটেরই); এদের কাছে ডেটাই (কন্টেন্ট, গ্রাহকদের তথ্য, রেজাল্ট প্রকাশের সাইটে শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট) সবচেয়ে মূল্যবান। আইটি সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ সেগুলিকে নিরাপদ রাখেন। এসব প্রতিষ্ঠান প্রায়শই সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে রিক্রুট করে। সুতরাং এই ক্ষেত্রে দক্ষ হলে কাজের অভাব হবার কথা না।

আইটি বিষয়ক সেবাগুলো মূলতঃ “কনাসালটেন্সি” বা পরামর্শ দাতা জাতীয় কাজের মধ্যে বিস্তৃত। তবে আপনি যদি আরও লাভজনক কাজ চান সেক্ষেত্রে হয়তো কোন একটি প্রকল্পের “প্রজেক্ট ম্যানেজারের পদ” পেতে পারেন। আপনার কাজ হবে বিদ্যমান কোন নতুন সফটওয্যার বা প্রতিষ্ঠানটির নতুন নিরাপত্তা বিষয় নীতিমালার কাজটিকে সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ।

ওয়েব ডিজাইন

ওয়েব ডিজাইন মূলতঃ একটি ধারণা। একজন খুব ভাল ওয়েব ডিজাইনারকে ওয়ার্ডপ্রেসের মত জনপ্রিয় সিএমএস (কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) এর বিষয়ে অভিজ্ঞ হতে হবে। সাথে, এইচটিএমএল, সিএসএস এবং পিএইচপি (আরও আছে) স্কিলগুলোও থাকা আব্যশক। আর্টিস্টিক সাইটগুলোর কাজ করার ক্ষেত্রে ওয়েব ডেভলপারের প্রায় প্রতিটি দক্ষতাগুলোই ওয়েব ডিজাইনারের মাঝে থাকা দরকার।

আপনার ডিজাইন হতে হবে প্রফেশানাল। যার অর্থ এডোবি ইলাস্ট্রেটার এবং ফটোশপ শেখা জরুরী। আপনি হয়তো এদিক ওদিক ছোটখাট কিছু কাজ করেই ভাবতে পারেন যে সব ধরণের বিষয়ই জানা শেষ। কিন্তু খুঁটিনাটি অনেক কিছু দেখবেন বাকী থেকে যায়। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের পেশাদার জগতটায় পা দিলেই তখন দেখবেন, পৃথিবীটি কতটা কঠিন।

তারপরও কাজ যে একেবারেই করতে পারবেন না এমনও নয়। যেমন ধরুন, আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতে পারেন। কিভাবে ডোমেইন এবং হোস্টিং একাউন্ট কিনে তাতে ওয়ার্ডপ্রেস সেটাপ করতে হয়, তা বোঝেন। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে একটি “সিম্পল” ওয়েব ডিজাইনের কাজ পাবার জন্য চেষ্টা করতে পারেন (কোডিংয়ে অনীহা থাকলে স্কোয়ারস্পেস ব্যবহার করা যায়)।

আর এসবেও না ভালো লাগলে, “লোগো ডিজাইন” এর কাজ করতে পারেন।

আর এমন যদি হয়, আপনার ওয়েব ডিজাইনের দক্ষতা যা দরকার তার অর্ধেক আছে, আপনি চাইলে যেক্ষেত্রে সমস্যায় পড়বেন সেই নির্দিষ্ট অংশে কাজ করে নেয়ার জন্য আউটসোর্স করতে পারেন। আপনি অপরাগ যে বিষয়গুলোতে, সেসবে যাদের দক্ষতা আছে তাদেরকে পার্টনার করে নিয়ে কাজ করুন।

থ্রী-ডি মডেলিং

থ্রী-ডি মডেলিং স্কিল নিয়ে তেমন কথাবর্তা হয়তো শোনা যায় না। কিন্তু শিখতে যদি পারেন তো এটি খুবই মূল্যবান একটি স্কিল। এটি একটি বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের দক্ষতা। বর্তমানে এর বেশ চাহিদা রয়েছে।

আপনি যদি থ্রী-ডি মডেলিংয়ে দক্ষতার সাথে কাজ করতে সক্ষম হয়ে থাকেন তবে, থ্রী-ডি লোগো ডিজাইন, ভিডিও-ওপেনার, প্রটোটাইপিং, থ্রি-ডি প্রিন্টিং, কম্পিউটার গেমসের মডেল তৈরী করাসহ বিভিন্ন ধরণের কাজ অফার করতে পারবেন ক্লায়েন্টদেরকে।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশান ও ডিজিটাল মার্কেটিং

আজকাল প্রায় প্রতিটি আধুনিক ব্যবসারই অনলাইন উপস্থিতি অর্থাৎ ওয়েবসাইট রয়েছে। এবং যাদেরই ওয়েবসাইট রয়েছে তাদেরকেই গুগলের সুনজরে থাকার চেষ্টায় রত থাকতে হয়। সুতরাং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশান বিশেষজ্ঞদের চাহিদা যথেষ্ট বেশী বর্তমানে। সার্চ ইঞ্জিন আপটিমাজেশান এবং ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে প্রচুর টাকা উপার্জন করছেন।

এক্ষেত্রেও আপনিও এসইও বিষয়ে স্কিলড হলে নিজেকে এসইও স্পেশালিস্ট দাবি করতে পারেন। আবার আরও সূক্ষ নির্দিষ্ট কোন কিছু নিয়ে কাজ করতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ, ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ প্রভৃতি এ ধরণের কাজের মধ্যে অন্যতম।

আপনার যদি সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর ভালো দখল থাকে, তাহলে কোন সেলিব্রিটি বা প্রতিষ্ঠানের “অনলাইন এজেন্ট” হিসেবে কাজের অফার করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি সম্পূর্ণ “ইন্টারনেট মার্কেটিং সার্ভিস” অফার করতে পারেন। আপনি জানিয়ে দিতে পারেন- ক্লায়েন্টের প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি কন্টেন্ট রাইটিং, লিংক বিল্ডিং এসব কাজে দক্ষ।

এসইও অপ্টিমাইজড কন্টেন্ট লেখা

এসইও অপ্টিমাইজড কন্টেন্ট লেখার নিয়মগুলো জানলে আপনি কন্টেন্ট মার্কেটিংয়ের কাজ করতে পারবেন। কন্টেন্ট মার্কেটিং একপ্রকার ইন্টারনেট মার্কেটিং। এটি অবশ্যই লেখালেখিই- কিন্তু আপনার প্রযুক্তির কিছু বিষয়কে বুঝতে হবে এবং সেই অনুযায়ী লিখতে হবে। সাধারণ গল্প উপন্যাস, ইউটিউব ভিডিও স্ক্রীপ্ট লেখার চেয়ে এটা কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে।

এসইও জানলে আপনি অনলাইন কপিরাইটিংয়ের কাজ পাবেন। আপনি এমন কোম্পনীগুলোকে সেবা দিবেন যারা তাদের লিখিত কন্টেন্টের মাধ্যমে গুগলে তাদের উপস্থিতিকে বাড়াতে চাচ্ছেন। তারা চাচ্ছেন তার যে পণ্যটির ব্যবসা করছেন, ভোক্তারা যেন গুগলের সেই প্রোডাক্ট খুঁজলে তাদের কোম্পানীর পণ্যটিই সবার আগে দেখতে পান। অন্য কথায়, আপনাকে এসইও’র নিয়মগুলো প্রয়োগ করে ক্লায়েন্টের পণ্যকে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজের শীর্ষে নিয়ে আসতে হবে।

পড়ে নিতে পারেন –

ভিডিও এডিটিং

ভিডিও এডিটিং একটি অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন স্কিল। ভিডিও মার্কেটিং, ইউটিউব এবং অনলাইন কোর্সের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে বিধায় ভিডিও এডিটিং মার্কেটটিও সরগরম। আপনি যদি এ্যডোব প্রিমিয়ার প্রো, ভোগার প্রো বা এ্যাপেল ফাইনাল কাট প্রো শিখতে পারেন, তাহলে প্রচুর পরিমাণে কাজ আপনার জন্য অপেক্ষমান।

ভিএএস বা ভার্চুয়াল এসিসটেন্ট সার্ভিস

এটি মূলত একটি ‌এসিসটেন্ট বা সহকারীর চাকরী। কিন্তু আপনি বাসায় বসে, নিজের ল্যাপটপ থেকেই করবেন। একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যে কাজগুলো করার মত সময় পাচ্ছেন না সেগুলো আপনি করে দিবেন। যেমন, ব্যবসার সাথে প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের কন্টাক্ট সংগ্রহ করা, অথবা আউটরীচের কাজ- যেমন, বিভিন্ন ব্লগের মালিকদের সাথে বা আপনার ক্লায়েন্টের সম্ভাব্য ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগ করা।

মূলতঃ যে ধরণের কাজেই বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় না, এবং আপনাকে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে কাজটি করতে হয় না, সেরকম সব কাজই একজন ভার্চুয়াল এসিসটেন্ট করতে পারেন।

বেশীরভাগ ভার্চুয়াল এসিসটেন্টে কোম্পানীগুলোই ভারতীয়। এখানে অনেকে ঠিকভাবে ইংরেজীতে আলাপও চালাতে পারেন না ক্লায়েন্টের সাথে। সে তুলনায় আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা অনেক মেধাবী এবং স্মার্ট। সুতরাং এই ক্ষেত্রটি তারা দখল করে নিতে পারেন।

কেন প্রতিদিনই ফ্রিল্যান্সার কোডার, ডেভেলপার, আইটি বিশেষজ্ঞদের চাহিদা বাড়ছে?

আপনি যে কোন স্কিলই অনলাইনে বিক্রী করতে পারবেন। তবে প্রোগ্রামিং স্কিল যে সবচেয়ে ভাল বিক্রী হয় তাতে কোন সন্দেহ নেই । এজন্যই তালিকার একদম শুরতেই প্রোগ্রামিংয়ের কথা বলেছিলাম। বর্তমানে প্রযুক্তি একটি অসম্ভব রকমের লাভজনক ক্ষেত্র হওয়ায়, এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের প্রায় সবাই টেক সম্পর্কিত ব্যবসার মাধ্যমেই নিজেদের সাফল্য অর্জন করায়, প্রচুর নতুন কোম্পানী গড়ে উঠছে যারা প্রযুক্তি নিয়ে ব্যবসা করতে চায়। এসব নতুন ব্যাবসায়ীদের অনেকেই নিজেরা প্রযুক্তিবিদ, প্রোগ্রামার কোনটাই হয়তো নন। কিন্তু ব্যবসায়িক মেধার জোরে তারা সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্রকে চিনে নিতে পারেন।

নতুন কোম্পানীগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে নিজেদের উদ্ভাবিত একটি প্রযুক্তিপণ্য দিয়েই শুরু করে। ঐ মুহুর্তে তাদের কোম্পানী থাকে ছোট। উদ্যোক্তারা নিজেরা ছাড়া কোম্পানীতে কর্মীও আর হয়তো থাকে না। অ্যামাজন, গুগল, ফেসবুক প্রথম অবস্থা এরকমই ছিল। কিন্তু কোম্পানী বড় হয়ে উঠতে থাকলেই, অর্থাৎ উদ্যোক্তারা প্রাথমিক সাফল্য পাওয়া মাত্রই, তাদের প্রোডাক্টটিকে আরও শাণিত করে তোলার প্রয়োজন হয়। নতুন কিছু সংযোজন করতে হয়। নতুন চিন্তার প্রয়োজন হয়। এই সময়ই নতুন কোডার নিয়োগ দেয়া অনিবার্য হয়ে যায়।

শুধু টেক-কোম্পানী নয়, সাধারণ যেকোন কোম্পানীরই আজকের ডিজিটাল যুগে টিকে থাকার জন্য একজন কোডার আইটি স্পেশালিস্ট, এসইও বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন।

কিন্তু অনেক কোম্পানী অফিস মেইনটেনের ঝামেলায় যেতে চান না। তারা অনলাইনে কোডার নিয়োগ দিয়ে কাজ করাতেই পছন্দ করেন। এই কারণেই বর্তমান সময়টিতে কোডিং এবং আইটিতে দক্ষতা অর্জন করলে প্রচুর লাভ । কারণ অনলাইনে নিয়োগের এই সংস্কৃতি দিন দিন আরও প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।

আপনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে জব মার্কেটের এই চাহিদাকে মেটাতে যখন চাইবেন, তখন আপনাকে বুঝতে হবে যে কেন এমন হচ্ছে এবং এই কোম্পানীগুলো ঠিক কি ধরণের লোক চাচ্ছে। আপনার ক্লায়েন্টের অবস্থান থেকে বিষয়টি বুঝতে হবে আপনাকে।

একটি উদাহরণের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করি। একজন এ্যাপ ডেভেলপারের কথা ধরা যাক। কোন কোম্পানী হয়তো এ্যাপ ডেভেলপার খুঁজছে। একটি সাধারণ, মাঝারি আকারের কোম্পানী। হতে পারে এই কোম্পানীটি একটি রেস্টুরেন্ট চেইন। তারা এমন একটা এ্যাপ বানাতে চান যার মাধ্যমে তাদের গ্রাহকরা খাবার অর্ডার করতে পারবেন।

আবার, হতে পারে কোন একটি প্রকাশনা কোম্পানী। তারা তাদের বইগুলো পাঠকের সামনে তুলে ধরতে চান। এবং ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে বইগুলোর ইবুক বিক্রী করতে চান।

তো যেটাই হোক, এক্ষেত্রে কোম্পানী যে কাজগুলো করতে পারে-

  • তারা একটি ডেভেলপারের দল গঠন করতে পারে অথবা একজন মাত্র ডেভেলপার যিনি কোম্পানীর সমস্ত প্রয়োজন পূরণে সক্ষম, তাকে নিয়োগ দিতে পারেন।
  • বর্তমান স্টাফদের নিয়ে এই সমস্যাটি সমাধান করার চেষ্টা করতে পারেন।
  • একটি থার্ড পার্টির কাছে তাদের সমস্যাটি আউটসোর্স করে দিতে পারেন।
  • একজন স্থানীয় ডেভেলপারকে চাকরী দিতে পারেন খন্ডকালীন চুক্তিতে।
  • অনলাইনে একজন ফ্রিল্যান্সার এ্যাপ ডেভেলপারকে খুঁজে নিতে পারেন।

এই শেষ অপশানটাই সবচেয়ে ভাল কোম্পানীর জন্য । কারণ দেখুন-

প্রথম প্রক্রিয়ায় গেলে প্রতিষ্ঠানকে অনেক বেশী টাকা খরচ করতে হবে। এই কর্মচারীদের অসুস্থতার ছুটি, রাজস্ব, স্বাস্থ্যবীমা (বিদেশে), বহু কাগজপত্রের ঝামেলা, অফিস স্পেস ইত্যাদি। তাছাড়াও কোম্পানীকে তাদের আশেপাশে ধরা বাঁধা কিছু লোক নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। তারা যে স্কিল চাচ্ছেন সেটি হয়তো এই স্থানীয় কর্মীদের নেই। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের বিশাল আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভবপর সবধরণের স্কিলই পাবেন কোম্পানীর মালিকপক্ষ।

থার্ড পার্টির কাছে দিলেও কাজ হবে – কিন্তু আউটসোর্সিঙের কাজ করা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানী টাকা নেবে প্রচুর। কাজটা করতেও ফ্রিল্যান্সার কারও তুলনায় বেশী সময় নেবে। কারণ এরকম কোম্পানীগুলো হাতে আরও কাজ থাকে।

একবার এ্যাপ তৈরী করার জন্য গোটা কয়েক কর্মী নিয়োগ দেয়ার আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, এ্যাপ তৈরী শেষ হয়ে গেলে এসব কর্মীদের আর করার কিছুই থাকবে না। কারণ ছোটখাট সাধারণ এ্যাপকে নিয়মিত মেইনটেনেন্সের কোন প্রয়োজন হয় না।

কিন্তু অনলাইনে গেলেই কোম্পানী একজন দক্ষ প্রতিভাধর ব্যাক্তিকে পাচ্ছেন, যাদের ঠিক সে নির্দিষ্ট স্কিলটাই আছে যেটি কোম্পানীর প্রয়োজন ঐ প্রজেক্টের জন্য। এবং অন্য পদ্ধতির তুলনায় অনেক কম খরচে, এবং সমস্ত প্রকার জটিলতাগুলো ব্যাতিরেকেই তারা নিজেদের কাজ করিয়ে নিতে পারছেন।

প্রযুক্তি সম্পর্কিত এই স্কিলগুলো আপনার থাকলে অনলাইনে অনেক কাজ অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। যদি নাও পারেন এই তালিকা থেকে যেকোন একটি বিষয় নিয়ে আজই শেখা শুরু করে দিন। ইউটিউব দেখেও আজকাল এসব কাজ শেখা যায়। সহায়ক টিউটোরিয়াল, অনলাইন কোর্সও রয়েছে অনেক। হ্যাপি ফ্রিল্যান্সিং।

লিখেছেন : সালেহ মুহাম্মাদ

সম্পাদকের বাছাই –

Leave a Comment