ব্লগ কি ও কেন প্রয়োজন?

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে, ব্লগ কি ও কেন প্রয়োজন? সহজভাবে যদি বলি- ব্লগ এর সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের ডিজিটাল ডায়েরি বা অনলাইনে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের জন্য; তবেও মোটেও ভুল বলা হবেনা।

পাশাপাশি সব শ্রেণী ও পেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নে একটি কার্যকর ও বিকল্প আয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের সুবিধা প্রদানের জন্যেও ব্লগের ব্যবহার বর্তমানে খুবই প্রচলিত।

আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা ডায়রি বা দিনলীপি লিখতে পছন্দ করেন। কেন?

ডায়রিতে আমরা কি লিখি?

আমাদের প্রতিদিনের চলার পথে ঘটে যাওয়া ঘটনাপঞ্জি, ভালো লাগা, মন্দ লাগা, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা-দূর্ঘটনার বিবরণ, সমাজ, রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে একান্তই নিজস্ব মতামত বা সিদ্ধান্ত, ইত্যাদি।

একটা সময় আসল যখন আমরা ফেসবুক, টুইটার প্রভৃতি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের সাথে পরিচিত হলাম।

এইগুলো আমাদের মধ্যে অনেকের জীবনকে দেখার এবং উপভোগ করার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করে ফেললো।

যা কিছু একান্তই ব্যক্তিগত ছিল, লেখা থাকতো শুধুমাত্র ডায়রির পাতায়, তা আমরা এইসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধু, আত্মীয় বা স্বজনদের সামনে, প্রকারান্তরে সমগ্র বিশ্বের সব মানুষের দৃষ্টি সীমার মধ্যে প্রকাশ করা শুরু করলাম।

শুধু তাই নয়। আমরা আবিষ্কার করলাম এমন আরও একটি মাধ্যম যেখানে আমরা আমাদের নিজস্ব কথাগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চাইতেও আরও সুবিন্যস্তভাবে বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারবো।

এরই ধারাবাহিকতায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রকাশিত হতে শুরু করে মত প্রকাশের স্বাধীন ও স্বনিয়ন্ত্রিত মাধ্যম ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট বা ব্লগ।

কেন ব্লগ তৈরি করব বা ব্লগ তৈরি করার প্রয়োজন কি?

মানুষ স্বাভাবিক ভাবেই আত্মপ্রচার ও সাফল্যের প্রত্যাশী। একটি ব্লগ সাইটের মাধ্যমে অনেকটা সহজেই এ কাজটি করা সম্ভব।

কেননা, আপনি আপনার ব্লগে ব্যক্তিগত মত প্রকাশের পাশাপাশি আপনার সৃষ্টি, কর্ম, ব্যবসা প্রভৃতি বিষয়ক তথ্যাবলীও প্রকাশ করতে পারবেন।

এছাড়া বর্তমান সমাজ, সভ্যতা, রাজনীতি, অর্থনীতি প্রভৃতি বিষয়ে আপনার মতামত প্রকাশ করে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করে এবং সেই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে অর্থ, সমৃদ্ধি প্রভৃতি ক্ষেত্রেও সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছাতে পারবেন।

ব্যক্তিগত ডায়রি হিসেবে অনলাইন ব্লগের ব্যবহার

এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যারা লেখক বা লিখতে পছন্দ করেন।

পাশাপাশি নিজের লেখাটি অন্য দশজনে পড়ে উপকৃত হবেন সেই সৎ উদ্দেশ্য মনে ধারন করে প্রতিদিন বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের লেখাটি প্রকাশের চেষ্টা করেন।

অনলাইনে ব্লগ এর কল্যাণে অনলাইনে লেখালেখি করার ও প্রকাশ করার সুযোগটি তারা নিতে পারেন।

ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্লগের ব্যবহার

ব্লগ পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের প্রচার ও প্রসারের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, একটি ব্লগ তৈরি করে টাকা আয় করার অমিত সম্ভাবনাময় শিল্প বিকাশ লাভ করছে।

যেকোনো ব্যক্তি শুধুমাত্র সৃজনশীলতা প্রয়োগ করে ও অল্প কিছু অর্থ লগ্নি করে ধৈর্য ধরে একটি মানসম্মত ব্লগ তৈরি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

এর সত্যতা পাওয়া যায় অনলাইনে একটু খুঁজলেই।

সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে এমন অনেক ব্লগার আছেন যারা নিজস্ব ব্লগ থেকে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৫০ হাজার ডলার উপার্জন করছেন।

মতামত বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্লগের ব্যবহার

বর্তমানে ব্যাক্তিগত উদ্যোগে যেমন ব্লগ তৈরি করা হচ্ছে। ঠিক একইভাবে কয়েকজন উদ্যোক্তা সম্মিলিত ভাবে ব্লগ তৈরি করে তাতে নতুন সদস্য যোগদান ও ঐ ব্লগে তাদের লেখা প্রকাশ করার সুবিধা যুক্ত করে দিচ্ছেন।

ফলশ্রুতিতে এই ধরনের ব্লগে প্রচুর লেখক, পাঠক লেখা প্রকাশ করা বা প্রকাশিত লেখাতে মন্তব্য করার সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। এ ধরনের ব্লগকে কম্যুনিটি ব্লগ বা সামাজিক মত বিনিময়ের ব্লগ বলা হয়।

ব্লগার কি বা কাদের ব্লগার বলা হয়?

ব্যাক্তিগত বা কম্যুনিটি ব্লগে যারা নিয়মিত লেখালেখি করেন বা বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনায় প্রায়ই অংশগ্রহণ করে নিজের মতামত বা ধারণা বা প্রস্তাবনা প্রকাশ করে থাকেন তাদেরকে ব্লগার বলা হয়।

কিভাবে ব্লগ শুরু করবেন?

ব্লগ তৈরি করার দুটি পদ্ধতি রয়েছে।

১। বিনামূল্যে ব্লগ তৈরি করা।

২। টাকা খরচ করে তৈরি করা।

বিনামূল্যে বা ফ্রি ব্লগ তৈরি করে অনলাইনে আয় যায় কিভাবে?

আপনি যদি বিনামূল্যে বা ফ্রি ব্লগ তৈরি করে অনলাইনে আয় করতে ইচ্ছুক হন তবে ব্লগার বা ওয়ার্ডপ্রেস.কম সাইটে একাউন্ট তৈরি করে বিনামূল্যে একটি ব্লগ তৈরি করে নিতে পারবেন।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, How to Start A Blog for Free and Make Money? – লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন।

অল্প টাকায় নিজের ব্যক্তিগত অথবা প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে-

একটি ব্লগ তৈরি করে আয় করা যায় কিভাবে?

স্বল্পমূল্যে একটি ব্লগ তৈরি করে আয় করা জন্য নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করুন-

প্রথমত একটি ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

পড়ুন- ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশনের প্রয়োজনীয়তা কি?

দ্বিতীয়ত সেই ডোমেইন হোস্ট করার জন্য একটি ওয়েব হোস্টিং একাউন্ট কিনতে হবে।

পড়ুন- ওয়েব হোস্টিং কি ও কেন প্রয়োজন?

পরবর্তীতে ঐ ওয়েব হোস্টিং স্পেস ব্যবহার করে আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী নিখাঁদ এইচটিএমএল বা কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যেমন ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে একটি সুন্দর ও সফল ব্লগ সাইট ডিজাইন করে নিতে পারেন।

পড়ুন- How to Earn Money From Home Blogging with WordPress – A Beginners Guide

আজ এ পর্যন্তই।

ধন্যবাদ সবাইকে

ভালো থাকবেন।

সম্পাদকের বাছাই-

Leave a Comment