মেটা ট্যাগ কি? মেটা ট্যাগ তৈরির নিয়ম ও সুবিধাগুলো জানুন

ব্লগিং, ওয়েবসাইট, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে একটি অত্যান্ত জরুরী বিষয় মেটা ট্যাগ। মেটা ট্যাগ কি এবং কিভাবে সেটিকে নিজের কাজে লাগাতে পারেন আপনি -তা নিয়েই আজকের আলোচনা।

ব্লগিং একটি ব্যবসা। লেখক বা প্রযুক্তিবিদ কোনটাই নন, এমন একজন মানুষও ব্লগিং এর মাধ্যমে ব্যবসা করতে পারেন। বিষয়টি সম্পূর্ণই একজন ব্যক্তির ব্যবসায়িক অভিরুচির ওপর নির্ভরশীল।  ব্লগ বা ওয়েবসাইট মালিকের জন্য প্রযুক্তিবিদ হওয়াটা বাধ্যতামূলক নয় হয়তো। কিন্তু অল্প অল্প করে কিছু বিষয় শিখে নিলে আপনিও এই ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। এবং আদতে সেটি আপনার ব্লগিং ব্যবসার জন্যই ভালো হবে। আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে আপনার সাইট বা ব্লগের ওপর।

মেটা ট্যাগ কি?

একটি ওয়েবপেজকে অনেক ধরণের লেবেল প্রদান করতে পারেন একজন ওয়েবমাস্টার। মূলতঃ এই লেবেলগুলোই মেটা ট্যাগ। মেটা ট্যাগ বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। আমরা আলোচনা করব সবচেয়ে প্রচলিত মেটা ট্যাগগুলো নিয়ে। এই ট্যাগ বা লেবেলগুলো সার্চ ইঞ্জিনকে বেশ কিছু বিষয় বুঝতে সাহায্য করে। যেমন-

  • আপনার ওয়েবসাইটের পেজগুলোর নাম।
  • এই পেজে কি তথ্য রয়েছে।
  • সার্চ ইঞ্জিনের তালিকায় ওয়েবসাইট বিষয়ে একটি সারমর্ম জানায়।
  • প্রতিটি পেজকে কিভাবে ইনডেক্সিং করলে ভালো হবে সেটি নির্ধারণে সাহায্য করে।

ওয়েবসাইটে মেটা ট্যাগ ব্যবহারের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা

মেটা ট্যাগগুলো গুরূত্বপূর্ণ। কারণ বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন এই ট্যাগগুলোর তথ্যকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে যাচাই করে। যেমন- গুগল শুধু ট্যাগ পড়েই ক্ষান্ত হয় না। সে পেজ কন্টেন্টের অন্য মানদন্ডগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখে। আপনার মেটা ট্যাগগুলো যেন পূর্ণাঙ্গ, নির্ভুল এবং ওয়েবাসাইটের মূল সুরের সাথে তাল লয় রক্ষা করে – সেটি নিশ্চিত করা অত্যান্ত জরুরী।

এখানে একটি বিষয় জানিয়ে রাখি। প্রতিটি পেজের আলাদা আলাদা মেটা ট্যাগ থাকতে হবে। এবং মেটা ট্যাগগুলো এক রকমের হলে চলবে না। আপনার সাইটের দুটো পেজের মেটা ট্যাগ হুবহু মিলে গেলে, সেটি আপনার র্যাঙ্কিঙে বাজে প্রভাব ফেলবে।

মেটা ট্যাগ এর একটি উদাহরণ দেই। মাত্র ক’দিন আগে ব্লগস্পটে একটি ব্লগ বানিয়েছিলাম- medicaldiari.blogspot.com।  ব্লগটি নিয়ে তেমন কাজ করা হয়নি। মাত্র বারোটির মত পোস্ট। কোন পার্মানেন্ট পেজ নেই। এসব ধীরে ধীরে হয়তো করা যাবে। কিন্তু এত অবহেলা সত্ত্বেও দুটো মেটা ট্যাগ ঠিকই লিখে রাখা হয়েছে। এই ব্লগের টাইটেল ট্যাগটি এই রকম-

<title>মেডিকেল ডায়েরী ব্লগ</title>

এবং সার্চ ইঞ্জিনে ব্লগের টাইটেল এর নিচে যে সারকথা বা ক্ষুদ্র বিবরণ দেখা যায় , সেই বিবরণটুকু ডেসক্রিপশান মেটা ট্যাগ এর মাধ্যমে সেট করে দেয়া বা নির্ধারণ করা যায়। ডিসক্রিপশান মেটা ট্যাগ এর উদাহরণ হতে পারে-

<meta name=“description” content=“ডাক্তারি পরামর্শের জন্য যেকোন পোস্টের কমেন্ট বাক্সে আপনার স্বাস্থ্য ও রোগ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা লিখুন।”>

দেখতেই পাচ্ছেন, ওপরের উদাহরণে আমি মাত্র দুটো প্রাইমারি মেটা ট্যাগ ব্যবহার করেছি। টাইটেল ট্যাগ এবং ডেসক্রিপশান ট্যাগ। অনেকেই এসইও করার ক্ষেত্রে কিওয়ার্ড ট্যাগ এখন আর ব্যবহার করেন না। তার যথার্থ কারণও রয়েছে। যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, কিওয়ার্ড ট্যাগটিকে গুগল ইদানীং তেমন গ্রাহ্য করছে না। সুতরাং ওটাকে ফাঁকা রাখলে তেমন ক্ষতি নেই।

মেটা ট্যাগ বহু প্রকার। তবে টাইটেল আর ডেসক্রিপশান ট্যাগটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সার্চ ইঞ্জিন পেজে আপনার র্যাঙ্কিং তৈরিতে এই দুটোই মূল ভূমিকা রাখবে। অন্য ট্যাগগুলো যেমন “রোবটস” ট্যাগ এবং “ অথার” ট্যাগও কাজে আসে। তবে আপনাকে শীর্ষ র্যাঙ্ক প্রদানের ক্ষেত্রে এরা টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন মেটা ট্যাগ এর চেয়ে বেশী জরুরী নয়।

নিম্নে, প্রতিটি ট্যাগ নিয়ে পৃথক ভাবে বলা হল। আশা করা যায়, এই পাঠ শেষে আপনি সব ধরণের ট্যাগই নির্ভুলভাবে তৈরি করতে পারবেন।

টাইটেল ট্যাগ (Title Tag)


টাইটেল ট্যাগ কি? (What is Title Tag)

এই ট্যাগ হল আপনার পেজের শিরেনাম। এটি সার্চ ইঞ্জিনকে জানায় আপনার পেজটি মূলতঃ কি বিষয়ক। সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজগুলোতেও ঠিক এই শিরোনামেই আপনার সাইটকে প্রদর্শন করা হবে। আপনি টাইটেল ট্যাগ যেভাবে লিখে দিবেন, সেভাবেই দেখাবে। এটাই মেটা ট্যাগ ব্যবহার, তথা এসইও’র সৌন্দর্য্য।

ওয়েবসাইটে টাইটেল ট্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীদের কাছে আপনার পেজের শিরোনাম কেমন হবে সে বিষয়টির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়। আপনার হয়তো মনে হল টাইটেলটিকে পাল্টানো দরকার।

ব্লগার সাইটের হোমপেজে গিয়ে অথবা ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে জনপ্রিয় এসইও প্লাগইন Yoast SEO Plugin ইন্সটল করে প্রতিটি পোস্টের মেটা টাইটেল পাল্টে দিলেই হল। সার্চ রেজাল্টগুলোতেও আপনার সাইটের অথবা নির্দিষ্ট আর্টিকেল এর শিরোনাম পাল্টে যাবে।

টাইটেল ট্যাগের শব্দ সংখ্যা কততে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে?

Title Tag -এর একটি সাধারণ নিয়ম হচ্ছে- আপনার ট্যাগটি সাত শব্দের বেশী অথবা ষাট ক্যারেক্টারের (হরফ) বেশী হবে না (ব্লগারের ক্ষেত্রে)। ওয়ার্ডপ্রেসে আপনি আপনার ইচ্ছেমতো শব্দ বা ক্যারেক্টার লিখতে পারলেও সেটা ঠিক না। কেননা, বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনগুলো এই শব্দ ও অক্ষর সীমার অতিরিক্ত শব্দ বা ক্যারেক্টারকে তাদের সার্চ রেজাল্টে দেখায় না। উল্টো অত্যধিক বড় শিরোনামকে অনেক সময় স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করে।

ক্যারেক্টার বলতে “স্পেস” ও বুঝবেন। যদি আপনার টাইটেল আরও লম্বা হয়, তাতে গুগলের সার্চ রেজাল্টে পরপর তিনটি ডট দিয়ে দেখাবে। মোবাইলে এই দৈর্ঘ্যটি আরও কম – চল্লিশ ক্যারেক্টারের মত।

টাইটেল ট্যাগকে সাত শব্দে সীমাবদ্ধ রাখার একটি কারণ আছে। আপনার টাইটেল ট্যাগের প্রতিটি শব্দকে গুগল একটি নির্দিষ্ট মাত্রার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে। যদি আপনার শব্দের সংখ্যা বেশী হয় , তাহলে শব্দ প্রতি প্রদত্ত গুরুত্বের পরিমাণটি কমে যাবে।

সুতরাং, আপনার শব্দ সংখ্যা যত বেশী, শব্দ প্রতি গুগলের দেয়া গুরুত্বের তত কম হবে। তাই লক্ষ্য রাখবেন, আপনার টাইটেল ট্যাগে ওয়েবসাইট বা পেজের মূল বিষয়টি এবং প্রধান কী-ওয়ার্ড ব্যাতীত আর কোন বাহুল্য যেন না থাকে।

টাইট্যাল ট্যাগে এ নন-ব্র্যান্ড কিওয়ার্ড অন্তর্ভুক্তকরণ

টাইটেল ট্যাগে আপনার কিওয়ার্ডগুলো অন্তর্ভুক্ত করুন। কিওয়ার্ড ট্যাগ নিয়ে আমরা সামনে আলোচনা করব। আপাতত এটুকু মাথায় রাখুন, আপনার টাইটেল ট্যাগে আপনার কিওয়ার্ড থাকা জরুরী।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আপনার সাইটের সবচেয়ে উঁচু মানের পেজগুলোতে নন-ব্র্যান্ডেড ( অর্থাৎ ব্লগ বা সাইটের প্রধান কিওয়ার্ডগুলোর সম্পর্কিত নয় তবে প্রাসঙ্গিক) কিওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

আপনার সাইট এমনিতেই নিজস্ব ব্রান্ডগুণে ভাল Rank করতে পারবে। সুতরাং টাইটেলের শেষে কিওয়ার্ড যোগ করে দিলে কোন সমস্যা নেই। তবে ওয়েব সাইটের যে পেজগুলো একটু কম মানসম্পন্ন, সেখানে আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম ( ব্রান্ড কিওয়ার্ড) যোগ করার দরকার নেই।

কিওয়ার্ড ব্যবহারে যা খেয়াল রাখবেন

আগেকার দিনে একটি প্রচলিত চর্চা ছিল টাইটেল ট্যাগ নিয়ে। ওয়েবসাইটের সবচেয়ে জরুরী দুটি কিওয়ার্ড শিরোনামে ঢুকিয়ে দিতেন ওয়েবমাস্টাররা। মাঝখানে একটি পোস্ট বা দাড়ির মত চিহ্ন দিয়ে আলাদা করা হত। যেমন ধরুন – “ মেডিকেল ডায়েরী ব্লগ | ফ্রি মেডিকেল পরামর্শ নিন ”- এরকম। তবে বর্তমান দিনে বিষয়টি কিন্তু তেমন নেই। গুগল এখন আর পেজ টাইটেলে একাধিক কিওয়ার্ড ব্যবহারে কোন সুবিধা দেয় না ওয়েবমাস্টারদের। গুগল এখন অনেক অগ্রসর।

ওয়েবপেজের টাইটেল ট্যাগের সাথে ব্যবহারকারীর সার্চ এবং ঐ পেজের কন্টেন্টের সম্পর্ককেই সে প্রাধান্য দেয় মূলতঃ। এখনও অনেক সাইটকে দেখবেন তাদের টাইটেল ট্যাগগুলোতে একাধিক কী-ওয়ার্ড সম্পর্কিত শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করছে। এরা আদতে, নিজেদেরকেই র্যাঙ্কিঙ থেকে বঞ্চিত করছেন। খামোখা নিজের কিওয়ার্ডকে এভাবে দুর্বল করবেন না।

নির্ধারিত সীমার ভেতরেই কাজ করুন

টাইটেল ট্যাগ নির্মাণ বিষয়ে যে নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা থাকে, তার মাঝেই কাজ করুন। এবং সেটিকেই কাজে লাগান। আপনি সাত শব্দেও অনেক কিছু করতে পারেন। সৃজনশীলতা ব্যবহার করে কিওয়ার্ডের নানান ধরণের কম্বিনেশান তৈরী করা যায়।

মনে রাখবেন আপনার তৈরি করা প্রতিটি টাইটেল ট্যাগই হবে স্বতন্ত্র। তবে সব ক’টির ভেতরেই কিন্তু সাধারণ মিল রক্ষা করতে হবে।

শেষ কথা, আবারও বলছি- একাধিক পেজে হুবহু একই টাইটেল ট্যাগ ব্যবহার করবেন না। তাতে আপনার র্যাঙ্কিং ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

ডেসক্রিপশান ট্যাগ (Description Tag)


ডেসক্রিপশান ট্যাগ কি?

এই ট্যাগটি আপনার ওয়েবসাইট বা ওয়েবপেজের একটি বর্ণণা প্রদান করে। আপনি যদি আপনার ওয়েবপেজের জন্য একটি ডেসক্রিপশান বা ব‌র্ণণা লিখে দেন, তাহলে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্টের তালিকায় আপনার সাইটের টাইটেলের নীচে এই বর্ণণাটি দেখাবে।

মেটা ডেসক্রিপশানের দৈর্ঘ্য

মেটা ডেসক্রিপশানের দৈর্ঘ্য যেকোন রকম হতে পারে। তবে গুগল সাধারণতঃ স্নিপেটগুলোকে কাট ছাট করে ১৫৫-১৬০টি ক্যারেক্টারের মাঝে নিয়ে আসে। সুতরাং, ওয়েবসাইটকে সুষ্ঠুভাবে বর্ণণা করার জন্য যতটুক যথেষ্ট তার চেয়ে দীর্ঘ মেটা ডেসক্রিপশানগুলোর হওয়ার প্রয়েজন নেই। অর্থাৎ, ১৬০ ক্যারেক্টরের ভেতর আপনার সাইটের একটি সারাংশ লিখুন।

ডেসক্রিপশান ট্যাগে কিওয়ার্ডের ব্যবহার

আপনি ডেসক্রিপশান ট্যাগে চাইলে কিওয়ার্ডগুলোকে দু’বার ব্যবহার করতে পারেন। এই বিষয়টি সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ক্লিক-থ্রু রেট বাড়াতেও সাহায্য করে।

গুগলের ওপর প্রভাবটি খুব আহামরি নয়। তবে সামগ্রিক ভাবে আপনার সাইটের সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশান এ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ডেসক্রিপশান ট্যাগ ঠিকভাবে লিখলে আপনার ক্লিক-থ্রু-রেট বাড়বে। কারণ সার্চ রেজাল্টের ভেতরেই ব্লগের বিবরণে ব্যবহারকারীদের সার্চ টার্মগুলোকে উল্লেখ করা হচ্ছে গুরুত্ব সহকারে। ফলে আপনার সাইট, ব্যবহারকারীর চোখে পড়ার সম্ভাবনা বেশী।

ডেসক্রিপশান ট্যাগ কিভাবে লিখবেন?

যে কিওয়ার্ডগুলো আপনার ওয়েবসাইটের প্রাণ সেগুলোকে পারলে ডেসক্রিপশান ট্যাগে ঢুকিয়ে দিন। কিওয়ার্ড সম্পর্কিত শব্দগুচ্ছ (কিওয়ার্ড ফ্রেজ) পুনরাবৃত্তি করবেন অবশ্যই (তাই বলে বাড়াবাড়ি নয়)। এমনভাবে লিখুন যেন সাধারণ একটি বিবরণের মত শোনায়। যথাসম্ভব সঠিক বর্ণণা দিন আপনার ওয়েবসাইটের। আপনার বর্ণণা হতে হবে হৃদয়হরণকারী।

সার্চকারীগণ যেন আকর্ষিত হন আপনার সাইটের প্রতি। আপনার সাইটে ক্লিক করে তারা ঠিক কি পেতে যাচ্ছেন সেটিই সৎভাবে জানিয়ে দিন ডেসক্রিপশানে। সার্চকারীদের সাইট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এবং গুগল – দুটি ক্ষেত্রেই এই নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখা দরকার।

ডেসক্রিপশান ট্যাগ লেখার একটি উদাহরণ

“ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্লগ ডাক্তারদের লেখনীতে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পোস্টের কমেন্ট বাক্সে ডাক্তারদের ফ্রি পরামর্শ নিন।”

ডেসক্রিপশান ট্যাগ যেভাবে লেখা যাবে না

“ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্লগ, ডাক্তাদের লেখা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্লগ, ডাক্তাদের পরামর্শ, ফ্রি পরামর্শ”

কিওয়ার্ডটিকে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করবেন না। ওয়েবসাইটের ডেসক্রিপশান যদি আপনি কিওয়ার্ড দিয়ে ঠেসে ভরে রাখেন, র্যাঙ্কিঙে সেটি একটি বিরূপ প্রভাব ফেলবে। কিওয়ার্ড ফ্রেস ( শব্দগুচ্ছ) দু’বার ব্যবহার করুন। তার বেশী নয়। নিশ্চিত করুন ক্ষুদ্র বিবরণটি যেন এমন হয় যে পাঠ মাত্রই ইউজার ক্লিক করতে আগ্রহী হন। তাতে সার্চ-রেজাল্টে আপনার পেজের লিংক দেখার পরে প্রকৃতই ক্লিক করে সাইটে আসা লোকের সংখ্যা অর্থাৎ ক্লিক-থ্রু-রেট বাড়বে। গুগলও স্বীকার করে যে, র্যাঙ্কিঙের একটি অন্যতম মানদন্ড ক্লিক-থ্রু-রেট।

কিওয়ার্ড ট্যাগ (Keyword Tag)


কিওয়ার্ড মেটা ট্যাগ কি?

সার্চ ইঞ্জিনকে আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়ে অবগত করার আরেকটি মাধ্যম কিওয়ার্ড ট্যাগ। বর্তমানে এটি এসইও’র ক্ষেত্রে একটি অপ্রধান বিষয়। কারণ আপনার ওয়েবপেজের প্রেক্ষিত, প্রসঙ্গ ও অন্যান্য ডিজিটাল সম্পদ যেমন: ছবি, ভিডিও থেকেই গুগল বুঝে নেয় আপনার ওয়েবপেজের বিষয়বস্তু কি। গুগলের এলগরিদম যেসব মাপকাঠিতে একটি পেজকে মূল্যায়ন করে সেখানে এগুলো কিওয়ার্ড ট্যাগের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তারপরও, অন্য সব বিষয়গুলো ঠিকভাবে সম্পন্ন করার পর, উপযুক্ত কিওয়ার্ড ট্যাগ যুক্ত করতে পারেন আপনার সাইটের বিভিন্ন পেজগুলো। তাতে সামগ্রিক বিচারে গুগলের কাছে আপনার সাইটের বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

কিওয়ার্ড মেটা ট্যাগ কিভাবে ব্যাবহার করবেন?

যদি একান্তই কিওয়ার্ড ট্যাগ ব্যবহার করতেই হয়, সেক্ষেত্রে যে কিওয়ার্ডগুলো আপনার সাইটের প্রাণ সেগুলোকেই ব্যবহার করুন। যে ওয়েবপেজে ট্যাগ যুক্ত করছেন, সেই পেজটির বিষয়বস্তু ঘনিষ্ঠ কিওয়ার্ডও রাখবেন। তথাপি, অন-পেজ অপটিমাইজেশানের বাদবাকী পদ্ধতিগুলো যদি ঠিক ভাবে পালন করে থাকেন, তাহলে কিওয়ার্ড মেটা ট্যাগ ব্যবহারের তেমন দরকার থাকে না।

অযথা কিওয়ার্ড স্টাফিং করবেন না। সার্চ রেজাল্টের পেজে অবস্থান তৈরি করতে গিয়ে অনেক ওয়েবমাস্টারই ( কুপরামর্শের কারণে) একই কিওয়ার্ডের পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন বারবার। মেটা-ট্যাগ থেকে শুরু করে যেখানেই সম্ভব কিওয়ার্ড দিয়ে কানায় কানায় পূর্ণ করতে চান তারা। এটি একটি ভুল চর্চা। গুগল যখন খেয়াল করবে, আপনার সাইটকে দুশ্চরিত্র জ্ঞানপূর্বক রেজাল্টের পেজে পিছিয়ে দিবে। অর্থাৎ হিতে বিপরীত।

কিওয়ার্ড ডেনসিটি এবং কিওয়ার্ড প্লেসমেন্ট (Keyword Density and Keyword Placement)

আপনার ওয়েবপেজে কিওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত করার সময় দুটো বিষয় নিয়ে ভাবা দরকার। কিওয়ার্ড ডেনসিটি এবং কিওয়ার্ড প্লেসমেন্ট (অর্থাৎ, কোথায় কিভাবে কিওয়ার্ড বসাবেন আপনার পেজে)।

কিওয়ার্ড ডেনসিটি অর্থ , আপনার ওয়েবপেজটিতে দৃশ্যমান সকল শব্দের অনুপাতে মূল কিওয়ার্ডটি কতবার করে দেখা দিয়েছে। আগের দিনের দুই নম্বরী সাইটগুলোতে ক্লিক করে ফেললে, দেখা যেত সমগ্র ওয়েবপেজ জুড়ে কিওয়ার্ড ব্যাতীত আর কিছুই। মাঝখানে হয়তো, এদিক ওদিক দু’তিনটে ক্রিয়া আর অব্যয় পদ বসিয়ে বাক্য গঠনের হাস্যকর চেষ্টা করা হয়েছে। গুগলের বর্তমান এলগরিদম এই ধরণের পেজকে প্রথম কি দ্বীতিয় পাতাতেও স্থান দেয় না এখন (শুকরিয়া- আমাদের সৃষ্টিকর্তার প্রতি)।

কিওয়ার্ড ডেনসিটি নিয়ে বেশ কিছু আলাপ ও পাল্টা-আলাপ রয়েছে। তবে সাধারণতঃ কিওয়ার্ড ডেনসিটি দুই থেকে চার শতাংশের মাঝে রাখা ভালো। অর্থাৎ প্রতি পাঁচশ শব্দে আপনার কিওয়ার্ডটি এক থেকে তিনবারের বেশী রাখার প্রয়োজন নেই। আপনার পেজের বিষয় বোঝার মত বুদ্ধি গুগলের আছে। সুতরাং, অতিশায়িত কোন প্রচেষ্টা অর্থহীন।

তা বাদেও, আপনার পেজের বিষয়বস্তুকে প্রতিফলিত করে এমন অন্যান্য শব্দও ব্যবহার করবেন কিওয়ার্ডের পাশাপাশি। আবারও মেডিকেল ডায়েরী ব্লগের উদাহরণ দেই। “স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা” “ডাক্তারি পরামর্শ” এগুলো আমার সাইটের মূল কিওয়ার্ড, ধরলাম। কিন্তু পেজ ভেদে “হৃদরোগ”, “অ্যাজমা“, ডায়াবেটিস” এসব স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্য কিওয়ার্ডও তাদের উপযুক্ত স্থান সাপেক্ষে ব্যবহার করা হয়েছে। সাথে এই বিষয়ক বিভিন্ন ছবি। এর থেকেই গুগল বুঝে নিবে পেজটি কি বিষয়ে, এবং সার্চ ইঞ্জিনের পাতায় কিভাবে র্যাঙ্ক প্রদান করতে হবে।

ওয়ার্ডপ্রেসে টাইটেল মেটা ট্যাগ, ডেসস্ক্রিপশন মেটা ট্যাগ ও কিওয়ার্ড মেটা ট্যাগ যুক্ত করার উপায়

আপনি যদি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটটি বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় সিএমএস ওয়ার্ডপ্রেস এর মাধ্যমে তৈরি করে থাকেন তবে আপনি ইচ্ছে করলে খুব সহজেই আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে জনপ্রিয় এসইও প্লাগইন Yoast SEO Plugin ইন্সটল করে প্রতিটি পোস্টে টাইটেল মেটা ট্যাগ, ডেসস্ক্রিপশন মেটা ট্যাগ অথবা কিওয়ার্ড মেটা ট্যাগ যুক্ত করে দিতে পারবেন। এমনকি আর্টিকল পাবলিশ হবার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী তা পরিবর্তন করে সব ধরণের মেটা ট্যাগগুলোই নতুন করে লিখতে বা আপডেট করে দিতে পারবেন।

মেটা অথার বা লেখক ট্যাগ (Author Tag)


মেটা অথার ট্যাগ কি?

একটি মেটা অথার ট্যাগ কোন ওয়েবসাইটের এইচটিএমএল (HTML) বা এক্সএমএল (XML) ডকুমেন্টের লেখকের পরিচয় ঘোষণা করে। যেমন আমার নামে যদি একটি অথার ট্যাগ বানাই, সেটি এমন হতে পারে-

<meta name="Author" content="saleh muhammed">

অথার মেটা ট্যাগের ব্যবহার

মেটা অথার ট্যাগ একটি রেফারেন্স। সাইট দেখার সময় ভিজিটর জানছেন কে ঐ এইচটিএমএল বা এক্সএমএল ডকুমেন্টটি বানিয়েছেন। আপনি যদি মেটা অথার ট্যাগ ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে ভাল হচ্ছে লেখকের নামের শুরু ও শেষের অংশে ব্যবহার করা। তাতে জটিলতা এড়ানোর সুবিধা পাওয়া যায়। কারণ অনেক লেখকেরই অত্যান্ত কাছাকাছি ধরণের নাম থাকতে পারে।

মেটা অথার ট্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয় আপনার ওয়েবসাইটের জন্য। তবে গুগল এই ট্যাগ ব্যবহার করে একটি কন্টেন্টের অথরিটি বা নির্ভরযোগ্যতা বিষয়ে ধারণা করে। ফলে র্যাঙ্কিঙে একটি প্রভাব ফেলতে পারে মেটা অথার ট্যাগ। আপনার ওয়েবসাইটে কোন লেখক যদি লেখেন, আপনি তার লেখাগুলোকে যূথবদ্ধ করার খাতিরে মেটা অথার ট্যাগটি ব্যবহার করতে পারেন। আপনি গুগলকে জানাচ্ছেন আপনার সাইটের অমুক লেখক তমুক কন্টেন্টের জনক।

এই বিষয়টির একটি সুবিধা আছে। অন্য ওয়েবসাইটগুলো যখন আপনার সাইটের লেখা চুরি করবে, তাদের অনেকেই মেটা-অথার ট্যাগটি সরাতে ভুলে যাবে। তারপর তারা তাদের প্লেজিয়ারিযম বা চৌর্যবৃত্তিকে যতই অস্বীকার করুন না কেন, গুগল ঠিকই জানবে এই কন্টেন্টের প্রকৃত উৎস কোন সাইট। আপনার সাইট পাবে অরিজিনাল কন্টেন্টের কৃতিত্ব।

রোবটস ট্যাগ (Robots Tag)

অন্যসব মেটা ট্যাগের তুলনায় রোবটস ট্যাগটিতে জটিলতা সবচেয়ে কম। আপনার সাইটের রোবটস ট্যাগগুলো গুগলের রোবট বা গুগলবটকে সংকেত প্রদানে সক্ষম। গুগলবট অর্থ গুগল সার্চ ইঞ্জিনের স্পাইডার বা ওয়েবক্রলার। আপনার সমস্ত সাইটকে ক্রল করার জন্য গুগলকে বার্তা প্রদান করে রোবটস ট্যাগ।

রোবটস ট্যাগ কিভাবে কাজ করে?

আপনার ওয়েবসাইটে ঠিকভাবে ইনডেক্সিং করার জন্য, এবং সাইটের প্রতিটি ওয়েবপেজকেই সেখানে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার জন্য সার্চ ইঞ্জিনগুলো তাদের “স্পাইডার ” পাঠিয়ে নিয়মিত আপনার ওয়েবসাইটকে মূল্যায়ন এবং পর্যবেক্ষণ করে। গুগল এই কাজটি করে প্রতি দুই থেকে তিনদিন পরপর।

অনেক এসইও বিশেষজ্ঞ বলেন যে, একটি পূ্র্ণাঙ্গ ক্রলের জন্য আজকাল আর রোবটস ট্যাগ দরকার হয় না তেমন। তাদের কথা ঠিক হোক কি না হোক, খামোখা একটি অপূর্ণতা রাখার দরকারটা কি? গুগলকে আপনার সাইট খুঁজে পাওয়ানোর জন্য সর্বোত্তম উপায় রোবটস ট্যাগগুলো যুক্ত করা এবং গুগল সার্চ কনসোল মারফত একটি সাইট ম্যাপ আপলোড করা।

রোবটস ট্যাগ ব্যাবহারের সুবিধা

ওয়েব-ক্রলারগুলো যখন আপনার মেটা ট্যাগ মূল্যায়ন করবে, এবং দেখবে যে আপনার রোবটস ট্যাগে নির্দেশ লেখা “ অল” (সব) তখন তারা নির্দ্বিধায় সমস্ত সাইট ক্রলিং করবে। যদিও কিছু স্পাইডার আপনার সাইটের প্রায় সমস্তটাই কোন ট্যাগ ব্যাতীতই সার্চ করবে, তারপরও রোবটস ট্যাগ থাকলে সার্চ ইঞ্জিন ক্রলারগুলো একটি বাড়তি দিক নির্দেশনা পায়। বর্তমানে অনলাইন একটি প্রবল প্রতিযোগিতামুখর ক্ষেত্র। যেভাবেই বাড়তি সুবিধা পান, আপনার লাভ। সুতরাং ক্রলিং রেট বাড়ানোর জন্য রোবট ট্যাগ যুক্ত করুন।

অনলাইন ব্যাবসায়ী এবং ওয়েবমাস্টারদের কেউ কেউ মনে করেন, আপনার সাইটের প্রতিটি পেজ ‘সিঙ্গেল পেজ সাবমিশানের’ মাধ্যমে সরাসরি সার্চ ইঞ্জিনদের কাছে জমা দেয়া উচিত। এই কাজটি একপ্রকার অহেতুকই, যদি আপনি রোবটস ট্যাগ যুক্ত করে দেন। কারণ তখন, সার্চ ইঞ্জিন ক্রলারগুলো নিজেরাই আপনার জন্য সমস্ত কাজটি করে দিবে।

গুগল আপনার সাইট ইনডেক্স করল কি না সেটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর ঠিকভাবে ইনডেক্সিং হলে গুগল আপনার পেজের সকল কন্টেন্টই খুঁজে পাবে। রোবটস ট্যাগ এই প্রক্রিয়ায় সহয়তা করতে পারে।

মেটা ট্যাগ বিষয়ক আলোচনা এখানেই শেষ করা যাক। গুগলের এলগরিদাম আরও শাণিত হয়ে ওঠার সাথে সাথে এসইও’র অনেক বিষয়ই পাল্টে যাচ্ছে। মেটা-ট্যাগও এর বাইরে নয়। ভবিষ্যতে একদিন হয়তো মেটা ট্যাগের পেছনে তেমন সময় দিবেন না ওয়েবমাস্টাররা। তবে আপাততঃ সময়ের জন্য বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত অনলাইন ব্লগিং ব্যবসায়ীদের।

এসইও বিষয়ক অন্যান্য লেখাসমূহ-

Leave a Comment