মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট : অনলাইনে আয়ের সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন দক্ষতা

বর্তমান সময়ে মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট একটি চরম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। প্রযুক্তিখাত প্রায় বিস্ফোরণের গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের প্রযুক্তির চাহিদাও পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন মানুষেরা প্রযুক্তির জগতের সাথে পরিচিত হচ্ছেন, অংশগ্রহণ করছেন। এই ঘটনাটি বিশেষ করে সত্য স্মার্টফোনের বেলায়। আমরা যতই অগ্রসর হচ্ছি, ততই সকল শ্রেনী-পেশার, সব মানুষের জন্য স্মার্টফোন একটি অপরিহার্য বস্তুতে পরিণত হচ্ছে। আধুনিক পৃথিবীতে বাস করবেন, অথচ স্মার্টফোন ব্যবহার করবেন না, এমনটা অসম্ভব একটি বিষয়।

স্মার্টফোন বা মুঠোয় ধরা যায়, এমন যেকোন ডিভাইসের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে আরেকটি জিনিসের প্রয়োজনীয়তাও দেখা দেয়। সেটি হচ্ছে এই ডিভাইসগুলোর বিভিন্ন মোবাইল “এপ্লিকেশান্স”। মোবাইল অ্যাপ বা এপ্লিকেশান্স মূলতঃ কতগুলি সফটওয়্যার। মোবাইল এপ্লিকেশান্সগুলো ব্যবহারকারীর জন্য বিভিন্ন কাজকে সমন্বিত ও সহজ করে তোলে।

স্মার্টফোন যত আধুনিক হচ্ছে, তার গঠনও ততই জটিল হচ্ছে। মুভি দেখা, গান শোনা থেকে শুরু করে অফিসে সহকর্মীদের সাথে মিটিং করা, প্রেজেন্টেশান তৈরী করা, বিল পরিশোধ করা – প্রতিটি কাজই স্মার্টফোনের সাহায্যে করা যায় এখন। বিভিন্ন মোবাইল এপ্লিকেশান্সগুলো না থাকলে এত ধরণের কাজ একটি মাত্র ডিভাইসে করা সম্ভব কোনদিনই হত না।

২০১৯ সালের হিসেবে ছিল যে, বিশ্বজুড়ে প্রায় পাঁচ বিলিয়ান মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করে। সুতরাং এটা যে বিশাল বাজার তা বলাই বাহুল্য। যারা অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রটিতে ঢোকার কথা ভাবছেন তারা অবশ্যই বর্তমান বাজারে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

মোবাইল এ্যাপ্লিকেশান্স একটি বিশাল শিল্পখাত। ক্ষেত্রটিতে স্বতন্ত্র অ্যাপ ডেভেলপার যেমন আছেন, তেমনি অ্যাপ ডেভেলপিং প্রতিষ্ঠানও আছে। যারা বড় বড় কোম্পানীর জন্য অ্যাপ নির্মাণ করে থাকেন। মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে যুক্ত হলে আপনি এই মুহুর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বর্ধিষ্ণু শিল্প ও প্রযুক্তি খাতগুলোর একটির অংশ হতে পারছেন।

আপনি যদি সমস্যা সমাধান করতে পছন্দ করেন, সাথে সৃজনশক্তির অধিকারীও হয়ে থাকেন, তাহলে একজন মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার হওয়ার কথা ভাবতেই পারেন। আর ইতিমধ্যেই যারা শখের বশে কাজটি করছেন, তারা মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপিং-কে পেশা হিসেবে নেয়ার কথা ভেবে দেখতে পারেন।

আরও পড়ুন-

অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার সমন্ধে প্রাথমিক ধারণা

অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলো কোন একটি নির্দিষ্ট অপারেটিং সিস্টেমের জন্য লেখা হয়ে থাকে। যথা : এন্ড্রয়েড, আইওএস, বা উইন্ডোজ। যারা অ্যাপ ডেভেলপার হবেন, তারা সাধারণত যেকোন একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা তৈরী করেন। যেমন – মোবাইল ফোন এ্যাপ্লিকেশান্স, গ্রাফিক্স সফটওয়্যার, একাউন্টিং সফটওয়্যার, বা অফিস স্যুট।

মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় সময়েই গবেষণার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেন ভোক্তাদের চাহিদার বিষয়ে। এই তথ্য অ্যাপ ডেভেলপারদের কাছে পাঠানো হয়। তারা নতুন একটি এ্যাপ্লিকেশান্স তৈরী করে দেন গণমানুষের প্রয়োজনানুসারে। তারা এমন কিছু নির্মান করেন যেটি মানুষ ব্যবহার করতে পারবেন কম খরচে, কিন্তু প্রয়োজন মিটবে সর্বোচ্চ।

একই এ্যাপ্লিকেশান্সকে সাধারণতঃ কয়েকটি সংস্করণে অর্থাৎ সেল ফোন, ট্যাবলেট, আর ব্যাক্তিগত কম্পিউটারের উপযোগী করে তৈরী করা হয়।

আমাদের আজকের লেখা প্রধানতঃ মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপারদের নিয়ে। তবে পার্থক্য বোঝার সুবিধার্থে এখানে তিন ধরণের অ্যাপ ডেভেলেপারেরই স্বল্প পরিচিতি দেয়া হল।

মোবাইল এ্যাপ ডেভালপমেন্ট (Mobile Apps Development)

স্মার্টফোন, এবং সাম্প্রতিক সময়ে, ট্যাবলেটগুলোই মানুষের কাছে প্রধান কম্পিউটিং ডিভাইস। এসব ছোট ইলেকট্রনিক ডিভাইসের গড়ন ও বিন্যাস সমন্ধে মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ থাকে। তারা স্মার্টফোন এবং অন্যান্য মোবাইল ডিভাইসগুলোর জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রাম লিখতে পারেন।

এইসব ডেভেলপারগণ একটি বড় পিসি স্ক্রীণের জন্য কাজ করছেন না। তারা তুলানমূলক ছোট এন্ড্রয়েড, আইফোন বা অন্যান্য স্মার্টফোনের স্ক্রীণের জন্য অ্যাপ নির্মাণ করছেন। বিভিন্ন মাল্টিমিডিয়া এ্যাপ্লিকেশান্স এবং একাধিক মোবাইল কম্পিউটার প্রোগ্রামে তারা পারদর্শী হয়ে থাকেন।

মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপারগণ সাধারণতঃ অবজেকটিভ সি, সি প্লাস প্লাস, পাইথন, জাভা এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজগুলোতে তাদের প্রোগ্রাম লিখে থাকেন। প্রতিটি মোবাইল ডিভাইসেরই একটি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ থাকে, যেটি অ্যাপ ডেভেলপারদের অবশ্যই শিখতে এবং বুঝতে হয়।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভালপমেন্ট (Android Apps Development)

গুগলের মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমটির নাম অ্যান্ড্রয়েড। বিভিন্ন প্রস্তুতকারকগণ যেমন স্যামসাং, সনি, মটোরলা, গুগলের নিজস্ব নেক্সাসের স্মার্টফোনগুলোতে ইন্সটল করা থাকে অ্যান্ড্রয়েড। অ্যান্ড্রয়েড তার ব্যবহারকারীকে গুগলের বিভিন্ন সেবা যেমন- সার্চ, ইউটিউব, ম্যাপস, জিমেইল, প্রভৃতি ব্যবহারের সুবিধা দেয়।

একজন অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপার এমন সব এপ্লিকেশান্স নির্মাণ করেন যেগুলি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যাবহারকারীর ফোন বা ট্যাবলেটে ব্যবহার করা যায়। এর মাঝে বিভিন্ন ইন্টারেকটিভ গেম, মিডিয়া প্লেয়ার, ইলেকট্রনিক বুক রিডার, গ্লোবাল নেভিগেশান সফটওয়্যার সমস্তটাই অন্তর্ভুক্ত। অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপমেন্টে যে কোড প্রয়োজন হয়, সেটি মূলতঃ ওপেনসোর্স, অর্থাৎ বিনামূল্য পাওয়া যায়।

অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের জন্য অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে আগ্রহী যে কেউ এই ওপেনসোর্স সফটওয়্যার ব্যবহার করে অ্যাপ নির্মাণ করতে পারেন।

নতুন কিছু জানার আছে কি; জানতে হলে পড়ুন-

আইওএস অ্যাপ ডেভালপমেন্ট (iOS Apps Development)

আইফোন অপারেটিং সিস্টেমকে সংক্ষেপে বলা হয় আইওএস। এ্যাপেল কোম্পানীর বিভিন্ন মোবাইল ডিভাইস যেমন “আইফোন” এবং “আইপ্যাড” এই অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে চালিত হয়ে থাকে।

আইওএস ডেভেলপারগণ, আইফোনের ডিভাইসগুলোর জন্য সফটওয়্যার নির্মাণ করে থাকেন। তারা জানেন কিভাবে এই সফটওয়্য়ার গঠন করতে হয়, ডিবাগ করতে হয় এবং কিভাবে ব্যবহার করতে হয় সোর্স কন্ট্রোল। সুইফট এবং অবজেটিভ সি -এই দুটো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের যেকোন একটি বা দুটোতেই পারদর্শী হয় থাকেন আইফোন অপারেটিং সিস্টেমের ডেভেলপারগণ।

যেভাবে আপনি আপনার প্রথম মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপিং করবেন?

ল্যাঙ্গুয়েজ শিখুন : ধরা যাক, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে আপনার একেবারেই কোন পূর্বাভিজ্ঞতা নেই। সেক্ষেত্রে আপনার প্রথম কাজ হবে ইন্ড্রাস্ট্রির সাথে নিজেকে পরিচিত করে তোলা। মোবাইলে যেসব জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে সেগুলি শিখে ফেলুন। যেমন জাভা বা পাইথন। মন দিয়ে চার কি ছয় মাসের (অনেক ক্ষেত্রে আরও কম) একটি কোর্স করে অনেকেই তাদের প্রথম অ্যাপ বানাতে পেরেছেন। ইউটিউবেও প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ পাইথন শেখার অনেকে ভিডিও আছে।

ল্যাঙ্গুয়েজ শেখা হয়ে গেলে, অ্যাপ নির্মাণ শুরু করুন। প্রথমদিকে কিছু টেস্ট অ্যাপ তৈরী করতে পারেন নিজের দক্ষতা আন্দাজ করার জন্য। তাছাড়া বর্তমানে যেসব অ্যাপ পাওয়া যায় হুবহু সেগুলোর অনুকরণে অ্যাপ বানাতে পারেন। এসব অ্যাপ বানানো আপনার প্র্যাকটিস এবং প্রশিক্ষণের অংশ।

গবেষণা করুন : রিসার্চ করে দেখুন বাজারের অন্য অ্যাপগুলো কি কারণে সফল হচ্ছে। এত অসংখ্য অ্যাপ বাজারে বিদ্যমান থাকার পরেও, নতুন অ্যাপগুলো নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরী করে নিচ্ছে কিভাবে? তাদের কার্যক্রম, গ্রাহককে প্রদত্ত তাদের সেবাগুলো পর্যালোচনা করুন। সফল এ্যাপ্লিকেশান্সগুলো ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট কারণে সাফল্য পেল সেটি জানার চেষ্টা করুন। আপনার নিজের অ্যাপটির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলোর প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

প্রতিটি অ্যাপ কিভাবে তাদের পণ্য বিক্রী করে টাকা বানাচ্ছে, সেটি জানাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। টাকা তৈরী করার জন্য বিভিন্ন কৌশল নিয়ে থাকে অ্যাপ্লিকেশান্সগুলো। এ্যাপের প্রকৃতিভেদে এই কৌশলগুলো ভিন্ন হয়। পরবর্তীতে নিজের এ্যাপের ক্ষেত্রে এই তথ্য আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। মার্কেটের কোথায় এখনও প্রতিযোগিতা কম, বা ঘাটতি রয়েছে তা নির্ণয় করেন। চাইলে ঐ ক্ষেত্রটিতেই মনযোগ দিতে পারেন আপনি।

ছোট অ্যাপ দিয়ে শুরু করুন : আপনার প্রথম মোবাইল অ্যাপটি খুব অতিশায়িত কিছু হওয়ার দরকার নেই। মনে রাখবেন, আপনি অ্যাপ নির্মাণে নতুন। আপনার প্রথম অ্যাপটি আপনার শেখার প্রক্রিয়ারই একটি অগ্রসর ধাপকে নির্দেশ করে। সুতরাং, সরল মৌলিক ধরণের অ্যাপ তৈরী করুন। এক্ষেত্রে আপনার অ্যাপটিকে একটি মাত্র কাজ পারতে হবে- যেকোন ধরণের একটি সমস্যার সমাধান করতে পারা।

সমস্যার সমাধান করাই অ্যাপ্লিকেশান্সগুলোর মৌলিক উদ্দেশ্য। সুতরাং সমস্যা সমাধান করতে পারলেই আপনার অ্যাপের বাজারে চাহিদা তৈরী হবে। এবং চাহিদা তৈরী হলেই আপনি সেটি বিক্রী করতে পারবেন।

অ্যাপ নির্মাণ সম্পর্কিত আইন কানুনগুলো জানুন : অ্যাপ তৈরী শুরু করার আগে প্রথমেই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশান সম্পর্কিত আইন কানুনগুলো জেনে নিন। জেনারাল ডেটা প্রটেকশান রেগুলেশান বা জিডিপিআর, এন্টি মানি লন্ডারিং বা এএমএল, নো ইয়োর কাস্টমার বা কেওয়াইসি প্রতিটি নীতিই -অ্যাপ নির্মাণের ক্ষেত্রে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি আপনার অ্যাপটিকে সফল করতে চান, তাহলে সবগুলো নিয়মের সাথে আপনার পরিচয় থাকতে হবে, আইনগুলো বিষয়ে আপনাকে জানতে হবে।

পরিকল্পনা তৈরী : অ্যাপ নিয়ে যেহেতু শিখছেন, সুতরাং কি ধরণের অ্যাপ আপনি তৈরী করতে চান, তার একটি কল্পরূপ আপনার মনে আছে নিশ্চয়ই। সেই অনুসারে আপনার পরিকল্পনা তৈরী করুন। আপনাকে কল্পনার সাথে ব্যবহারিক জগতের মেলবন্ধন ঘটাতে হবে।

ভাবুন, যে অ্যাপটির কি “ফিচার্স” বা বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকবে। অ্যাপটা মোবাইলের স্ক্রীণে কিরকম দেখাবে, সেই সমন্ধে একটি স্পষ্ট ধারণা রাখুন। লে-আউটটি নির্দিষ্ট করুন। নিজেকে ব্যবহারকারী হিসেবে কল্পনা করুন।

একজন ব্যবহারকারী তার মোবাইলে অ্যাপটি নামাচ্ছেন, স্ক্রীণের আইকনে ক্লিক করে অ্যাপে ঢুকছেন, অ্যাপটার ভেতরে সমসয় কাটাচ্ছেন, ফিচার ও ফাংশানগুলো ব্যবহার করছেন, এক্সিট চেপে বেরিয়ে আসছেন -এই প্রতিটি অভিজ্ঞতা কেমন হবে তার একটি রূপরেখা তৈরী করুন।

মনে রাখবেন, চোখে দেখে আকৃষ্ট হওয়ার মত হতে হবে আপনার অ্যাপটিকে। ব্যবহারকারী যেন অনায়াসে অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারেন। অর্থাৎ ইউজার ফ্রেন্ডলি হতে হবে অ্যাপটিকে।

মোবাইল অ্যাপটি তৈরী করা শুরু করুন : পরিকল্পনা, রূপরেখা নির্মাণ এই কাজগুলি হয়ে গেলে এবার অ্যাপটি তৈরী করার পালা। সেজন্য দরকার উপযুক্ত সফটওয়্যার এবং টুলস। আপনি প্রয়োজন পরিস্থিতি সাপেক্ষে কোন সফটওয়্যার আর টুলসগুলো ভাল কাজ করে সেটি সার্চ করুন।

আপনি যদি কোডিং -এ খুব বেশী সুবিধাজনক অবস্থায় না থাকেন তাহলে জেআইআরএ, গেম-স্যালাড, রোলবারের মত অ্যাপ ক্রিয়েশান সফটওয়্যারগুলোর সাহায্য নিতে পারেন। তবে এগুলো খুবই সরল ধরণের টুলস। আপনার অ্যাপের প্রথম সংস্করণটির জন্য ঠিক আছে।

কিন্তু অ্যাপের দ্বীতিয় ও উন্নত সংস্করণগুলোর জন্য তেমন কার্যকরী নয়। আপনি যদি অ্যাপের কোড নিজেই লিখতে চান তাহলে “অ্যাপি পাই” এর মত কোন একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যাপটিকে টেস্ট করুন : প্রতিটি অ্যাপকেই একটি পরীক্ষা পর্যায় বা টেস্টিং ফেযের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অ্যাপটি নির্মাতাদের লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করছে কি না সেটি জানার জন্যেই টেস্ট করা হয়। অ্যাপ টেস্টিং নিশ্চিত করে আপনার পণ্যটিতে কোন বাগ বা ত্রুটি নেই। টেস্টিং-এর মাধ্যমে আপনি অ্যাপটিকে আরও উন্নত করার পথগুলো খুঁজে পাবেন। অ্যাপ টেস্টিংয়ের টুলের মধ্যে রয়েছে – পিক্সেট, জেসমিন ইত্যাদি।

অ্যাপ রিলিজ ও এ্যাপ স্টোরে যুক্ত করা : আপনার অ্যাপের সমস্ত বাগ এর সমাধান হওয়ার পর অ্যাপটিকে রিলিজ করতে বা বাজারে ছাড়তে পারেন। এমন কোথাও অ্যাপটি রাখুন যেখান থেকে ব্যবহারকারীরা অ্যাপটি নামাতে পারেন ও ইন্সটল করতে পারেন। এখানে যৌক্তিক ভাবেই আপনি কোন একটি মোবাইল এ্যাপ স্টোরেই আপনার অ্যাপটিকে রাখতে চাইবেন। এই ক্ষেত্রে বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য অ্যাপেল এবং গুগলের। সুতরাং তাদের মার্কেটেই আপনার পণ্য বিক্রয়ের চেষ্টা করুন।

কিভাবে এই কাজটি করবেন? এখানে দুটো প্রক্রিয়ায় কিছু পার্থক্য রয়েছে।

গুগল প্লেস্টোর : গুগল প্লে কনসোলে যান। সাইন আপ করুন। আপনার পন্যের বিভিন্ন খুটিনাটি বর্ণণা চাওয়া হবে। সেগুলি পূরণ করুন। একটি ডেভেলপনার একাউন্ট তৈরীর জন্য গুগল দুই হাজার টাকার (পঁচিশ ডলার) মত নিয়ে থাকে। এটি এককালীন ফি।

আপনার ফ্রি অ্যাপের ক্ষেত্রে গুগল ডেভেলপারের কাছে থেকে অ্যাপ বিক্রী বাবদ কোন টাকা নিবে না। তবে পেইড অ্যাপ হলে মুনাফার তিরিশ শতাংশ গুগলকে দিতে হবে।

অ্যাপেল স্টোর : অ্যাপেলের খরচটি আরেকটু অন্যরকম। তারা একটি বাৎসরিক নিরানব্বই ডলারের ফি গ্রহণ করে থাকেন সব ডেভেলপারের কাছ থেকে।

অ্যাপেলের সাথে কাজ করার সময়, আপনাকে একটি আইওএস ডিস্ট্রিবিউশান প্রভিশনিং প্রোফাইল এবং একটি ডিস্ট্রিবিউশান সার্টিফিকেট তৈরী করতে হবে। এই সমস্ত কাজ শেষ হওয়ার পর আপনি যথাযথ প্রক্রিয়ার অনুসরণ করে আপনার অ্যাপটি অ্যাপলের স্টোরে যোগ করতে পারেন। এরপর আপনার অ্যাপটিকে রিভিউ করা হবে। এই ধাপটিতে আপনার তেমন কিছু করার নেই। রিভিউ-এ টিকলে আপনার অ্যাপ যুক্ত হবে স্টোরে।

প্রয়োজন মনে হলে পড়ে দেখতে পারেন –

মোবাইল অ্যাপ থেকে আয় করার উপায়

আপনার অ্যাপ যদি একটি পেইড প্রোডাক্ট হয়ে থাকে তাহলে তো ইতিমধ্যেই মনেটাইযেশান বা অ্যাপ থেকে অর্থ আয়ের ব্যবস্থা আপনি করে ফেলেছেন। তবে যদি সেরকম করা না থাকে, তাহলে অনেকগুলো পথ বিবেচনা করতে পারেন। একটি মোবাইল অ্যাপ থেকে উপার্জন করার বহুবিধ উপায় রয়েছে।

ইন অ্যাপ পার্চেয : ইন অ্যাপ পার্চেযের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী অ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করার জন্য, বা কোন বিশেষ ফাংশানের জন্য অ্যাপের কোন একটি “এডেড ফিচার” কিনে থাকেন।

বিজ্ঞাপন : আপনি অ্যাপের ভেতরে বিজ্ঞাপনও যোগ করতে পারেন। যখন ব্যবহারকারী ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হবে তখনই অ্যাপের ভেতরে বিজ্ঞাপন দেখানো হবে। নির্দিষ্ট বিরতিতে দেখানো হবে বিজ্ঞাপনগুলো। এই পথ নিলে খুব সতর্ক থাকবেন যেন আপনার অ্যাপ বিজ্ঞাপনে ছেয়ে না যায়। তাহলে কিন্তু আপনি গ্রাহক হারাবেন। কোন ধরণের বিজ্ঞাপন- ব্যানার, ডিসপ্লে এ্যাড, ভিডিও, প্রভৃতি ব্যবহার করা হবে সেটিও ঠিক করুন।

ফ্রিমিয়াম প্রোডাক্টস : এই অপশানটিও বেশ চমৎকার। এখানে ধারণাটি এমন যে, আপনার পণ্য সবার জন্যই উন্মুক্ত। তবে যারা ফ্রি একাউন্ট ব্যবহার করবেন তারা কিছু সুযোগ সুবিধা কম পাবেন। অনেক ধরণের সীমাবদ্ধতা থাকবে তাদের ক্ষেত্রে। এই সবই, পেইড ভার্সন কিনে নিলে আনলকড হয়ে যাবে ব্যবহারকারীর জন্য। এমনটা সাধারণতঃ মোবাইল গেমগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায়। একজন গেমার পেইড কন্টেন্ট ব্যবহার করে অন্য ফ্রি ব্যবহারকারী গেমারদের ওপরে জিততে পারেন।

বিভিন্ন মার্চেন্ডাইয বিক্রয় : মার্চেন্ডাইয বলতে আপনার অ্যাপ সম্পর্কিত কোন পণ্য। এটি টিশার্ট, ইবুক, পোস্টার থেকে শুরু করে প্রাসঙ্গিক যেকোন কিছুই হতে পারে। অ্যাপের ভেতরে আপনি আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য এগুলোর বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।

মোবাইল অ্যাপস নির্মাণ শেষে বাজারজাতকরণ এবং প্রচারণা

অ্যাপ নির্মাণ, অ্যাপ থেকে উপার্জনের উপায় এসব সুনির্দিষ্ট হওয়ার পর, এবার আপনাকে অ্যাপের জন্য একটি অডিয়েন্স গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রচুর খাটতে হবে। একটি অ্যাপ স্টোরে লক্ষ লক্ষ অ্যাপ থাকে। আপনার অ্যাপ তার মাঝে নবীন, অপরিচিত একটি পণ্য। মার্কেটিং ঠিকমত না করতে পারলে আপনি লোকজনের নজরেই পড়বেন না।

এক্ষেত্রে একটি কার্যকর উপায় হচ্ছে আপনার অ্যাপটিকে দৃষ্টিনন্দন করা। অ্যাপটির ভিজুয়াল অর্থাৎ যা দেখা যাবে, সেটি যেন সুন্দর হয়। এই ভিজুয়াল থেকেই মানুষ অ্যাপ স্টোরে অ্যাপটির প্রতি আকৃষ্ট হবে। অ্যাপটিকে চিত্তাকর্ষক কোন একটি নাম দিন। একটি কৌতুহল জাগানিয়া ডেসক্রিপশান লিখে দিন সাথে।

আপনার পণ্যের জন্য মূলধারার বিজ্ঞাপনও করতে পারেন। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম, গুগল এডস, এবং বিভিন্ন ব্লগেও বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। শুধুমাত্র আপনার অ্যাপের প্রতি নিবেদিত একটি ব্লগ শুরু করতে পারলে বেশ ভালো হয়। এরকম ব্লগ আপনার ব্যবহারকারীদের সাথে মিথস্ক্রিয়ার একটি প্লাটফর্মে পরিণত হতে পারে। আপনার ভবিষ্যত অডিয়েন্সের সাথে যুক্ত হওয়ার একটি উপায়ও এই ব্লগ।

প্রথমদিকেই বলেছি, আপনার প্রথম অ্যাপটি একদম সরল সাধারণ একটি অ্যাপ হতেই পারে। তবে সেটার পর থেকে নিয়মিত আপডেট দেয়ার মাধ্যমে এই অ্যাপটিকে প্রতিনিয়তই উন্নত করে তুলতে হবে আপনার। অ্যাপের কন্টেন্টকে সবসময়ই নতুন রাখার চেষ্টা করতে হবে। সবসময়ই একই রকম থাকলে মানুষ আপনার মোবাইল অ্যাপটি নিয়ে বিরক্ত হয়ে যাবে। তারা আরও ভালো কোন মোবাইল অ্যাপের সন্ধান করতে থাকবেন।

মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট অবশ্যই এমন একটা ক্ষেত্র যেখানে সর্বোচ্চ সাফল্য পেলে আপনি প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে ধনীদের একজনেও পরিণত হতে পারেন। কারণ এই মোবাইল অ্যাপ এবং মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার দুটোরই চাহিদা খুব বেশী বর্তমান যুগে। একটি সৃজনশীল আনন্দময় কাজের সাথে যুক্ত থেকে অর্থ উপার্জনের এমন সুযোগ আর খুব কম ক্ষেত্রেই আছে।

লিখেছেন : সালেহ মুহাম্মাদ

সম্পাদকের বাছাই –

Leave a Comment